দেশের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিতে সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন জোগাচ্ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- আপডেট সময়ঃ ১০:২৭:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
- / ২৪ বার পড়া হয়েছে।
হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;
সুনামগঞ্জ ।। ০১ নভেম্বর ২০২৬
শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে সহিংসতা, ভাঙচুর ও নাশকতার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর হাতে দমন করার হুশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, নিরীহ শ্রমিকদের আড়ালে মুখোশধারীরা দেশের রপ্তানি বাণিজ্য ব্যাহত ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে।
রোববার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জরুরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সহিংসতার পেছনে সীমান্তপারের ইন্ধন;
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাম্প্রতিক শ্রমিক আন্দোলনের চিত্র তুলে ধরে বলেন, আন্দোলনের নামে পুলিশের ওপর আক্রমণ, গাড়ি ভাঙচুর এবং মিল-কারখানায় অগ্নিসংযোগের মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটছে। কালিয়াকৈরে ঝুট গার্মেন্টসের গুদামে আগুন দেওয়ার মতো ঘটনাগুলো সাধারণ শ্রমিকদের কাজ হতে পারে না।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “অনেক মুখোশধারী আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে ঢুকে পড়ে নিজেদের হীন স্বার্থ চরিতার্থ করছে। আমাদের কাছে থাকা তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নিরীহ গার্মেন্টস শ্রমিকদের ব্যবহার করে অনেকেই সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন জোগাচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই—আমাদের রপ্তানি বাণিজ্য ও উৎপাদন ব্যাহত করা এবং দেশে একটি কৃত্রিম অস্থিরতা তৈরি করা।”
তিনি আরও জানান, এই ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। যারা সহিংস কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
শ্রমিকদের স্বার্থ ও জীবনমান উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার;
তৈরি পোশাক শিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন এই শিল্পের অন্যতম পথপ্রদর্শক। সরকার চায় দেশের এই প্রধান রপ্তানি খাত আরও সমৃদ্ধ হোক এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাক।
শ্রমিকদের দাবি ও মজুরি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মজুরি বোর্ড গঠিত হয়েছে এবং সেই বোর্ডের মাধ্যমে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারিত হবে। প্রধানমন্ত্রী আমাদের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন—যাতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা হয়, তাদের জীবনমান উন্নত হয় এবং উৎপাদন ও রপ্তানি ধারা কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রকৃত কোনো শ্রমিক কিংবা বৈধ শ্রমিক সংগঠন এ ধরনের উচ্ছৃঙ্খল আচরণ বা সহিংসতার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে না। মজুরি বোর্ডে শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে, তাই অযৌক্তিক সহিংসতার পরিবর্তে আলোচনার পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মালিকদের প্রতি কারখানা চাল রাখার আহ্বান;
গার্মেন্টস শিল্প মালিকদের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আপনারা মিল ও উৎপাদন সচল রাখুন। কোনোভাবেই যেন রপ্তানি সংকট তৈরি না হয়। শ্রমিকদের সঙ্গে মিলেমিশে আলোচনা করে কার্যক্রম পরিচালনা করুন। কোনো কারণে আজ হয়তো কারখানাগুলোতে সাময়িক বিরতি বা শঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা আজকের মধ্যেই সমাধান হয়ে যাবে বলে আমরা আশা করছি।”
সচিবালয়ে জরুরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক;
এর আগে রোববার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে শ্রমিক অসন্তোষ মোকাবিলা ও করণীয় নির্ধারণে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, সংকট নিরসনে কার্যকর কৌশল এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—
•শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী
•স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম
•প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন
•জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস ।
সরকার দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি এবং রপ্তানি সমৃদ্ধি ধরে রাখতে যেকোনো ধরনের অরাজকতা ও অপতৎপরতা কঠোরভাবে প্রতিহত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।














