০৫:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

ঢাকা টাঙ্গাইল -মহাসড়কে অবরোধ ঘিরে উত্তেজনা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময়ঃ ০১:১৫:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • / ২৩ বার পড়া হয়েছে।

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ০২ নভেম্বর ২০২৬

 

ঢাকা ও এর আশপাশের শিল্পাঞ্চলে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ এবং কালো তালিকাভুক্তকরণ প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে আজ সোমবার (২ নভেম্বর) গাজীপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকরা।

 

মহাসড়ক অবরোধের ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা ও দূরপাল্লার যাতায়াতকারী মানুষেরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশসহ ১০ প্লাটুন বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) মোতায়েন করা হয়েছে।

 

শ্রমিকদের প্রধান দাবিগুলো;

আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের সুনির্দিষ্ট দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:

•ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা।

•শ্রমিকদের অযৌক্তিকভাবে কালো তালিকাভুক্ত করা অবিলম্বে বন্ধ করা।

•বিভিন্ন অজুহাতে কারখানা কর্তৃপক্ষের ইচ্ছেমতো শ্রমিক ছাঁটাই প্রক্রিয়া বন্ধ করা।

শ্রমিকদের স্পষ্ট ঘোষণা—তাদের দাবিগুলো মেনে না নেওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। এদিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আন্দোলনরত শ্রমিকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

 

গত কয়েক দিনের ধারাবাহিক অসন্তোষ;

এর আগে গত দু’দিন ধরে রাজধানী ও এর আশপাশের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ চলছে:

রোববার (১ নভেম্বর): সাভারের আশুলিয়া ও ঢাকার মিরপুরে পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আশুলিয়ার অন্তত ৫০টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়া সকাল থেকে মিরপুর-১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় সড়ক অবরোধ করায় ওই অঞ্চলের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

শনিবার (৩১ অক্টোবর): একই দাবিতে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকরা।

 

প্রশাসনের বক্তব্য ও ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা;

শ্রমিকদের চলমান এই আন্দোলনের পেছনে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যুক্ত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

 

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, “শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের জন্য ইতিমধ্যে সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। বর্তমানে বোর্ডের মাধ্যমে এ বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম চলছে। বিষয়টি শ্রমিকদের বারবার বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও তারা সড়ক ছাড়ছিলেন না। আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে, এই আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো চক্র যুক্ত হয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে।”

 

পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখেছে প্রশাসন। শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিগুলোর আইনি সুরাহার পাশাপাশি দ্রুত জনজীবন স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট মহলের আলোচনা চলছে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

ঢাকা টাঙ্গাইল -মহাসড়কে অবরোধ ঘিরে উত্তেজনা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

আপডেট সময়ঃ ০১:১৫:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ০২ নভেম্বর ২০২৬

 

ঢাকা ও এর আশপাশের শিল্পাঞ্চলে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ এবং কালো তালিকাভুক্তকরণ প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে আজ সোমবার (২ নভেম্বর) গাজীপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকরা।

 

মহাসড়ক অবরোধের ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা ও দূরপাল্লার যাতায়াতকারী মানুষেরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশসহ ১০ প্লাটুন বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) মোতায়েন করা হয়েছে।

 

শ্রমিকদের প্রধান দাবিগুলো;

আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের সুনির্দিষ্ট দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:

•ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা।

•শ্রমিকদের অযৌক্তিকভাবে কালো তালিকাভুক্ত করা অবিলম্বে বন্ধ করা।

•বিভিন্ন অজুহাতে কারখানা কর্তৃপক্ষের ইচ্ছেমতো শ্রমিক ছাঁটাই প্রক্রিয়া বন্ধ করা।

শ্রমিকদের স্পষ্ট ঘোষণা—তাদের দাবিগুলো মেনে না নেওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। এদিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আন্দোলনরত শ্রমিকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

 

গত কয়েক দিনের ধারাবাহিক অসন্তোষ;

এর আগে গত দু’দিন ধরে রাজধানী ও এর আশপাশের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ চলছে:

রোববার (১ নভেম্বর): সাভারের আশুলিয়া ও ঢাকার মিরপুরে পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আশুলিয়ার অন্তত ৫০টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়া সকাল থেকে মিরপুর-১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় সড়ক অবরোধ করায় ওই অঞ্চলের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

শনিবার (৩১ অক্টোবর): একই দাবিতে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকরা।

 

প্রশাসনের বক্তব্য ও ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা;

শ্রমিকদের চলমান এই আন্দোলনের পেছনে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যুক্ত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

 

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, “শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের জন্য ইতিমধ্যে সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। বর্তমানে বোর্ডের মাধ্যমে এ বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম চলছে। বিষয়টি শ্রমিকদের বারবার বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও তারা সড়ক ছাড়ছিলেন না। আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে, এই আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো চক্র যুক্ত হয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে।”

 

পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখেছে প্রশাসন। শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিগুলোর আইনি সুরাহার পাশাপাশি দ্রুত জনজীবন স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট মহলের আলোচনা চলছে।