বালু লুটের অভয়ারণ্য সুনামগঞ্জ জেলা
২৪ পরবর্তী সুনামগঞ্জ জেলায়;বালু লুট চলে গেছে শিল্পের পর্যায়
- আপডেট সময়ঃ ১২:৪৮:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
- / ২১ বার পড়া হয়েছে।
২৪ পরবর্তী সুনামগঞ্জ জেলায়;বালু লুট চলে গেছে শিল্পের পর্যায়
সংরক্ষিত বনভূমির বালু লুট ও চারাগাছ ধ্বংস
হক বার্তা ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯জুলাই, ২০২৬ ইংরেজি
ছাতক উপজেলার সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, বনভূমি দখল এবং সামাজিক বনায়নের শত শত চারাগাছ ধ্বংসের অভিযোগে ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে বন বিভাগ। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। প্রায় ১ কোটি ৩৮ লাখ ৮ হাজার টাকার সরকারি সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ। এদিকে আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
ছাতক রেঞ্জের বিট কর্মকর্তা কে. বি. এম. ফেরদৌসের দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে ছাতক থানায় মামলাটি (নং—২২) রুজু করা হয়। মামলাটি ২০১০ সালের বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন এবং ১৯২৭ সালের বন আইন—এর সংশ্লিষ্ট ধারায় নথিভুক্ত হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ জুলাই রাতে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের হাদাটিলা ফরেস্ট ক্যাম্পের আওতাধীন নাছিমপুর মৌজার সংরক্ষিত বন এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র ট্র্যাক্টর (ট্রলি) ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করে। পরে তারা বনভূমি থেকে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করে। বালু পরিবহনের সুবিধার্থে বনাঞ্চলের ভেতরে রাস্তা নির্মাণের সময় বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৭০০টি চারাগাছ কেটে ও উপড়ে ফেলা হয়।
মামলায় আমির হোসেন, আরকান মিয়া, বদরুল ইসলাম, আব্দুস সোবহান, দুদু মিয়া, আফছার, হেলাল, কাওসার, সোহেল, আয়না, জয়নাল, জাহাঙ্গীর, জয়নুল ও ইমরানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১৮ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বন বিভাগের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সামাজিক বনায়নের আওতাধীন প্রায় ৫০ হেক্টর এলাকার চারাগাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি বনভূমি থেকে আনুমানিক ৫০ হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলন করা হয়েছে। বন বিভাগের হিসাবে বালু উত্তোলন, বনভূমির ক্ষতি, সামাজিক বনায়নের ধ্বংস এবং অবকাঠামোগত ব্যয়সহ মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৩৮ লাখ ৮ হাজার টাকা।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধ বালু উত্তোলন ও বন ধ্বংস পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। এ ধরনের অপরাধ দমনে ভবিষ্যতেও কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ছাতক থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাই শেষে আইন অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলাটির তদন্ত করছেন থানার এসআই রুমেন মিয়া




















