০৬:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

শিক্ষার্থীদের ওপর রাজনৈতিক ট্যাগিং সুস্থ রাজনীতির পরিপন্থী: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময়ঃ ১২:৩৬:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
  • / ৯ বার পড়া হয়েছে।

 

‎জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, শিক্ষার্থীরা কেউ অটোপাসের দাবিতে বা পরীক্ষা বাতিলের উদ্দেশ্যে রাজপথে নামেনি।

তারা নেমেছে যেন বন্যা, জলাবদ্ধতা ও চরম দুর্ভোগের মধ্যে সাঁতার কেটে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে না হয়। তারা নেমেছে যেন বারবার পরিবর্তিত পরীক্ষা-পদ্ধতির পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ‘গিনিপিগ’ না হতে হয়। এটি একটি যৌক্তিক, মানবিক এবং ন্যায্য আন্দোলন।

‎শনিবার (১৮ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

‎তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা সরকার পতনের আন্দোলন করতে রাজপথে যায়নি। অথচ কিছু রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তি দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দিয়ে এ আন্দোলনকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এর ফলে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে হামলা, গ্রেফতার, হয়রানি ও ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।

‎এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক আরও বলেন, বিভিন্ন শিক্ষার্থীর অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের ফোনে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিচয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এসব অভিযোগ সত্য হলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক।

 

‎তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের ভয় দেখানো, গ্রেফতারের হুমকি দেওয়া এবং হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। শক্তি প্রয়োগ নয়, সংলাপের মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সম্ভব। সরকারকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে তাদের বক্তব্য শুনে যৌক্তিক সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান করার আহ্বান জানান তিনি।

‎নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, মনে রাখতে হবে, শিক্ষার্থীরা সন্ত্রাসী নয়। ভিন্নমত প্রকাশ করলেই তাদের নানা রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে সামাজিক ও মানবিকভাবে হেনস্তা করা কোনো সভ্য রাষ্ট্রের পরিচয় হতে পারে না।

‎তিনি আরও বলেন, সরকারকে সংযম, সংলাপ ও সমাধানের পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যথায় একটি সমাধানযোগ্য সংকট অপ্রয়োজনীয়ভাবে বড় সামাজিক অস্থিরতায় রূপ নিতে পারে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, গণতন্ত্রে নাগরিকের পরামর্শকে ‘উসকানি’ বা ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যায়িত না করে দায়িত্বশীল রাষ্ট্র পরিচালনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

শিক্ষার্থীদের ওপর রাজনৈতিক ট্যাগিং সুস্থ রাজনীতির পরিপন্থী: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

আপডেট সময়ঃ ১২:৩৬:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

 

‎জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, শিক্ষার্থীরা কেউ অটোপাসের দাবিতে বা পরীক্ষা বাতিলের উদ্দেশ্যে রাজপথে নামেনি।

তারা নেমেছে যেন বন্যা, জলাবদ্ধতা ও চরম দুর্ভোগের মধ্যে সাঁতার কেটে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে না হয়। তারা নেমেছে যেন বারবার পরিবর্তিত পরীক্ষা-পদ্ধতির পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ‘গিনিপিগ’ না হতে হয়। এটি একটি যৌক্তিক, মানবিক এবং ন্যায্য আন্দোলন।

‎শনিবার (১৮ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

‎তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা সরকার পতনের আন্দোলন করতে রাজপথে যায়নি। অথচ কিছু রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তি দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দিয়ে এ আন্দোলনকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এর ফলে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে হামলা, গ্রেফতার, হয়রানি ও ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।

‎এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক আরও বলেন, বিভিন্ন শিক্ষার্থীর অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের ফোনে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিচয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এসব অভিযোগ সত্য হলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক।

 

‎তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের ভয় দেখানো, গ্রেফতারের হুমকি দেওয়া এবং হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। শক্তি প্রয়োগ নয়, সংলাপের মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সম্ভব। সরকারকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে তাদের বক্তব্য শুনে যৌক্তিক সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান করার আহ্বান জানান তিনি।

‎নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, মনে রাখতে হবে, শিক্ষার্থীরা সন্ত্রাসী নয়। ভিন্নমত প্রকাশ করলেই তাদের নানা রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে সামাজিক ও মানবিকভাবে হেনস্তা করা কোনো সভ্য রাষ্ট্রের পরিচয় হতে পারে না।

‎তিনি আরও বলেন, সরকারকে সংযম, সংলাপ ও সমাধানের পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যথায় একটি সমাধানযোগ্য সংকট অপ্রয়োজনীয়ভাবে বড় সামাজিক অস্থিরতায় রূপ নিতে পারে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, গণতন্ত্রে নাগরিকের পরামর্শকে ‘উসকানি’ বা ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যায়িত না করে দায়িত্বশীল রাষ্ট্র পরিচালনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।