ভোটের পরে প্রতিশ্রুতি বিস্মৃতি: মোহনপুর পূর্বহাটির বেহাল রাস্তায় চরম ভোগান্তি
- আপডেট সময়ঃ ০৭:৩৭:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
- / ১২ বার পড়া হয়েছে।
চারদিকে যখন উন্নয়নের জয়গান, তখন কাদা-পানিতে একাকার এক ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে চলছে হাজারো মানুষের নিত্যদিনের জীবনসংগ্রাম। স্বাধীনতার পর থেকে যুগ যুগ ধরে অবহেলিত সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ৮ নং মোহনপুর ইউনিয়নের ,৪ নং ওয়ার্ডের মোহনপুর পূর্বহাটি গ্রাম।
গ্রামের একমাত্র প্রধান সড়কটির বেহাল দশার কারণে চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। দীর্ঘ ৫ বছর ধরে সড়কটি সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে থাকলেও তা মেরামতে নেওয়া হয়নি কোনো কার্যকর উদ্যোগ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। বর্ষা মৌসুমে এই রাস্তা যেন একেকটি মরণফাঁদে পরিণত হয়। ভাঙাচোরা আর হাঁটু সমান কাদার কারণে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল সম্পূর্ণ ব্যাহত হচ্ছে। অথচ এই রাস্তাটিই গ্রামের অন্তত ১৫০টি পরিবারের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম।
বিগত বন্যায় রাস্তার মাটি ধুয়ে নিয়ে গেছে; এখন রাস্তায় মাটিও অবশিষ্ট নেই। এলাকাবাসীর দাবি, রাস্তাটিতে দ্রুত মাটি ভরাট করে সিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে পাকাকরণ করা হোক।
প্রতিদিন এই কর্দমাক্ত রাস্তা মাড়িয়েই এলাকার কোমলমতি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করছে। কাদার ওপর দিয়ে পারাপার হতে না পেরে গ্রামবাসী নিজেদের উদ্যোগে একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছেন। সেই সাঁকো পার হতে গিয়ে প্রায়শই কাদা-পানিতে পিছলে পড়ে বই-খাতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে শিশুরা।
এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা শিবলু আহমেদ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
”আমাদের এলাকার রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করা হোক। চেয়ারম্যান-মেম্বার আছে, অথচ আমাদের দুর্ভোগ দেখার কেউ নেই! একটু বৃষ্টি হলেই পুরো রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। সবচেয়ে বেশি বিপদে আছে আমাদের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা; তারা ঠিকমতো স্কুল ও মাদ্রাসায় যেতে পারছে না।”
মোহনপুর পূর্বহাটি গ্রামের অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। গ্রামের কৃষকেরা এই রাস্তা দিয়েই প্রতিদিন হাওরের মাঠে যান এবং মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফলানো সোনার ফসল ঘরে তোলেন। কিন্তু রাস্তার বেহাল দশার কারণে উৎপাদিত ফসল বাজারে নেওয়া এবং যাতায়াত খরচে কৃষকদের অতিরিক্ত অর্থ ও শ্রম ব্যয় করতে হচ্ছে। ফলে ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।
সবচেয়ে মানবিক বিপর্যয় ঘটে কোনো মানুষ অসুস্থ হলে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যে রাস্তা দিয়ে সুস্থ মানুষের হেঁটে চলাই কঠিন, সেখানে কোনো মুমূর্ষু রোগী কিংবা অন্তঃসত্ত্বা নারীকে হাসপাতালে নেওয়া কতটা কষ্টের, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। সঠিক সময়ে চিকিৎসকের কাছে পৌঁছাতে না পারায় অনেক সময় রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও প্রাণহানির আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।
গ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের ক্ষোভের মূল কারণ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের চরম অবহেলা। গ্রামবাসীদের দাবি— নির্বাচন এলে প্রার্থীরা এসে বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেন, রাস্তা পাকা করার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ভোট নেন। কিন্তু নির্বাচন পার হলেই তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায় না। গ্রামবাসীদের আক্ষেপ,
”ভোটের পর জনপ্রতিনিধিদের গাড়ির চাকা ঘোরে পিচঢালা রাস্তায়, আর আমাদের পা ডুবে থাকে কাদার ভেতরে।”
এমতাবস্থায় মোহনপুর পূর্বহাটি গ্রামের সর্বস্তরের জনগণ তাদের এই চরম দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম নূরুলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
গ্রামবাসীদের দাবি, বড় কোনো বরাদ্দের প্রয়োজন নেই; অন্তত এই প্রধান রাস্তাটি যাতে চলাচলের উপযুক্ত করে টেকসইভাবে ঢালাই (সিসি ঢালাই) করে দেওয়া হয়, যাতে যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই নরকযাতনা থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা স্থায়ী মুক্তি পান।


















