সাময়িক স্থগিত স্পিডবোট ধর্মঘট
এমপির আশ্বাস ও জনভোগান্তির কথা বিবেচনায় সচল তাহিরপুর-মধ্যনগর নৌপথঃ
- আপডেট সময়ঃ ১১:৩৪:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
- / ১৭ বার পড়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর-মধ্যনগর নৌপথে অবশেষে কাটল অচলাবস্থা। যুবদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও চালককে মারধরের অভিযোগ এনে ডাকা অনির্দিষ্টকালের স্পিডবোট ধর্মঘট সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিশেষ উদ্যোগ এবং সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আজ শুক্রবার দুপুর থেকে এই রুটে পুনরায় স্পিডবোট চলাচল শুরু হয়। ফলে চরম ভোগান্তি থেকে রেহাই পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ যাত্রীদের মাঝে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের নির্দেশনায় তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান উজ্জ্বল স্পিডবোট চালক সমিতির নেতাদের সাথে একটি জরুরি বৈঠকে বসেন।
বৈঠকে সমিতির নেতৃবৃন্দ ও ভুক্তভোগী চালকরা তাদের ওপর হওয়া অন্যায়ের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন। আলোচনা শেষে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এই সুনির্দিষ্ট আশ্বাসের ওপর আস্থা রেখে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে চালক সমিতি তাদের কর্মবিরতি সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
এই সংকটের সূত্রপাত হয় গত বৃহস্পতিবার বিকেলে। অভিযোগ উঠেছে, তাহিরপুর-মধ্যনগর নৌপথে দীর্ঘদিন ধরে স্পিডবোট চালকদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ আদায় করে আসছিলেন সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের নেতা এম. শহীদ ও তার অনুসারীরা। ওইদিন রাজু আহমেদ নামের এক চালক যাত্রী নিয়ে মধ্যনগর ঘাটে পৌঁছালে তার কাছে হুট করেই ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চালক এই বিপুল পরিমাণ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী চালক তাহিরপুরে ফিরে এসে সমিতিকে বিষয়টি জানালে ক্ষুব্ধ চালকরা তাৎক্ষণিকভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্পিডবোট চলাচল বন্ধ করে দেন, যা দুই উপজেলার হাজারো যাত্রীকে চরম ভোগান্তিতে ফেলে।
বৈঠক শেষে তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান উজ্জ্বল সংবাদমাধ্যমকে জানান, কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কিংবা সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতনকে কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষায় ধর্মঘট তুলে নেওয়ায় তিনি চালক সমিতিকে ধন্যবাদ জানান। একই সাথে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয় এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত যুবদল নেতা এম. শহীদ এর আগেও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও আদর্শ পরিপন্থী কাজে লিপ্ত থাকার কারণে ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি দলীয় প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পদ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন।
পরবর্তীতে কেন্দ্রের কাছে আবেদনের প্রেক্ষিতে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছিল। তবে নতুন করে ওঠা এই চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে এখন নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
@#J


















