দোয়ারাবাজারে বালুর জন্য জমি বিক্রির চাপ, রাজি না হওয়ায় ফসল কেটে নেওয়ার অভিযোগ
- আপডেট সময়ঃ ০৪:৩৩:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
- / ২২ বার পড়া হয়েছে।
হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট:
সুনামগঞ্জ ।। ০৬ নভেম্বর ২০২৬
দোয়ারাবাজারে বালুর ব্যবসাকে কেন্দ্র করে কৃষকের জমি ও জীবিকার ওপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। জমি বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় এক কৃষকের জমির ফলন্ত ফসল কেটে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। এতে একদিকে যেমন কৃষকের কষ্টার্জিত ফসলের ক্ষতি হয়েছে, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ জীবিকা নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দোয়ারাবাজার উপজেলার একটি এলাকায় বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে কৃষিজমি নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বালু ব্যবসার স্বার্থে কৃষকের জমি কেনার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু নিজেদের আবাদি জমি বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কৃষকের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় জমিতে থাকা ফলন্ত ফসল কেটে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমিতে গিয়ে কয়েকজন কৃষক তাদের দুর্দশার কথা তুলে ধরছেন। জমিতে থাকা বিভিন্ন ফসল কেটে নেওয়ার দৃশ্যও দেখা যায়। এ সময় ভুক্তভোগী এক নারী কৃষক নিজের জমির ফসল নষ্ট হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে ক্ষোভ ও অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও বিনিয়োগের মাধ্যমে যে ফসল ফলানো হয়েছিল, তা ঘরে তোলার আগেই নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, কৃষিজমি শুধু তাদের সম্পত্তি নয়, এটি পরিবারের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম অবলম্বন। জমিতে ফসল উৎপাদন করেই সংসারের ব্যয় নির্বাহসহ পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে জমি বিক্রি করতে না চাওয়ার কারণে ফসলের ক্ষতির মুখে পড়তে হলে তা একজন কৃষকের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে কৃষিজমির ওপর এমন চাপ সৃষ্টি হলে সাধারণ কৃষকেরা নিজেদের জমি ও উৎপাদিত ফসলের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় পড়বেন। অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালী মহলের কাছে সাধারণ কৃষকের স্বার্থ উপেক্ষিত হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তারা।
সচেতন মহলের মতে, কৃষকের জমি ও ফসলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। জমি কেনাবেচা সম্পূর্ণভাবে মালিকের সম্মতি ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হওয়া প্রয়োজন। কোনো কৃষক জমি বিক্রি করতে না চাইলে তার ওপর চাপ প্রয়োগ কিংবা ফসলের ক্ষতি করার অভিযোগ থাকলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা জরুরি।
ভুক্তভোগী কৃষক পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ফসলের ক্ষতিপূরণ এবং নিজেদের জমির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


















