দিরাইয়ে প্রেমঘটিত বিরোধ ও সালিশে বাকবিতণ্ডা: দুই গ্রামের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নারীসহ আহত ৪০, আশঙ্কাজনক ৫
- আপডেট সময়ঃ ০৯:২৬:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৮ বার পড়া হয়েছে।
হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট:
সুনামগঞ্জ ।। ০৪ নভেম্বর ২০২৬
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে তরুণ-তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক ও ঘরছাড়ার ঘটনা কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষে গুরুতর জখম হওয়া পাঁচজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের মাতিয়াপুর ও হলিমপুর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাতিয়াপুর গ্রামের আফতাব আলীর ছেলে রমজান মিয়ার সঙ্গে প্রতিবেশী হলিমপুর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের মেয়ের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এর জের ধরে গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে তারা দুজন একসঙ্গে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। বিষয়টি সামাজিকভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বুধবার দুপুরে দুই গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও স্বজনদের উপস্থিতিতে এক সালিশ বৈঠক বসে।
বৈঠকে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ও দেনমোহরের (কাবিন) টাকার অঙ্ক নির্ধারণকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে হাতাহাতি থেকে তা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। দুই গ্রামের লোকজন মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ৪০ জন আহত হন।
সংঘর্ষের পর স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেটে স্থানান্তরিত ব্যক্তিরা হলেন— মাতিয়াপুর গ্রামের জাকারিয়া (১৮), রিপা বেগম (১৯), মাহি সরদার (২০) এবং হলিমপুর গ্রামের গিয়াস উদ্দিন (৬৩) ও রহিম উদ্দিন (৭৫)।
দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক মনি রানী তালুকদার জানান, “হাসপাতালে আসা আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে সিলেটে প্রেরিত পাঁচজনের শরীরে আঘাতের মাত্রা গুরুতর হওয়ায় তাদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরিত করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, “ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”



















