দিরাইয়ে উন্নয়ন প্রকল্পে কঠোর নজরদারি, কাজের মান যাচাই ছাড়া মিলবে না বিল : এমপি নাসির উদ্দিন চৌধুরী
- আপডেট সময়ঃ ০২:০৯:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
- / ৩২ বার পড়া হয়েছে।
হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;
সুনামগঞ্জ ।। ০৩ নভেম্বর ২০২৬
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় টেস্ট রিলিফ (টিআর), কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) এবং কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচির উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে। প্রকল্পের কাজ শতভাগ সম্পন্ন এবং গুণগত মান শতভাগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো বিল পরিশোধ করা হবে না—এমন কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোড় নাছির উদ্দীন চৌধুরী। এই নির্দেশনার ফলে ইতিমধ্যেই কয়েকটি প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তির বিল আটকে দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে দিরাই উপজেলায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮০টি টিআর প্রকল্প এবং ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৬টি কাবিটা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৩৪ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দের বিপরীতে ১৬টি কাবিখা প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এই তিন কর্মসূচির আওতায় উপজেলায় মোট ১২২টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে ভৌগোলিক পরিস্থিতি, নিচু এলাকা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কিছু প্রকল্পের কাজ শুরু বা শেষ করা সম্ভব হয়নি। আবহাওয়া অনুকূলে এলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে দ্রুত বাকি কাজগুলো সম্পন্ন করা হবে।
সংসদ সদস্যের এই কঠোর নির্দেশনা বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে নিয়মিত প্রকল্পগুলোর কাজ পরিদর্শন ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন তাঁর ব্যক্তিগত সচিব রুদ্র মিজান। প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি, কাজের মান এবং নির্ধারিত কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা যাচাই করার পরই কেবল বিল পরিশোধের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে বরাদ্দকৃত অর্থের চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করেও জনস্বার্থে উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করেছেন স্থানীয়রা। এর মধ্যে জগদল ও চণ্ডীপুর এলাকার দুটি প্রকল্পের কাজের মান প্রশংসা কুড়িয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। দিরাই পৌরসভার হারানপুর এলাকার বাসিন্দা শিপু বলেন, “এবার পৌর এলাকায় উন্নয়নকাজের মান বেশ ভালো হচ্ছে। কাজে অনিয়ম বা ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ কমেছে। সংসদ সদস্য নিজে প্রকল্পগুলোর খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং কাজ যথাযথ না হলে বিল আটকে দিচ্ছেন।”
একই সুর স্থানীয় বাসিন্দা জিতু হাসানের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, “আগে অনেক সময় কাগজে-কলমে কাজ দেখিয়ে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ থাকত। কিন্তু বর্তমান সংসদ সদস্য দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়েছে।”
সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সচিব রুদ্র মিজান বলেন, “এলাকার উন্নয়নে সরকারি বরাদ্দের প্রতিটি টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর আমাদের সংসদ সদস্য। জনগণের অর্থের অপচয় বা কোনো ধরনের অনিয়ম বিন্দুমাত্র বরদাস্ত করা হবে না। কাজের মান ও বাস্তব অগ্রগতি যাচাই করেই বিল পরিশোধ করা হচ্ছে। কেউ কাজ না করে অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মির্জা আবু সাইদ জানান, চলতি অর্থবছরে অনেক প্রকল্পের কাজ নিয়ম অনুযায়ী শেষ হয়েছে। তবে নিচু এলাকা ও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে কিছু প্রকল্পের কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো কাজের উপযোগী হওয়া মাত্রই পিআইসি কমিটির মাধ্যমে দ্রুত কাজগুলো সম্পন্ন করা হবে। সরেজমিনে যাচাই এবং শতভাগ সন্তোষজনক কাজ বুঝে পাওয়ার পরেই চূড়ান্ত বিল পরিশোধ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

















