দিরাইয়ে অগ্নিকাণ্ডে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি, সন্তানদের পড়াশোনা, ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত ; অনিশ্চয়তায় ক্ষতিগ্রস্তদের জীবন-জীবিকা
- আপডেট সময়ঃ ১২:৪২:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৭ বার পড়া হয়েছে।
হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;
সুনামগঞ্জ ।। ০৪ নভেম্বর ২০২৬
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের জারুলিয়া গ্রামে একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৩টি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে ১২টি কৃষক পরিবারের সদস্যদের ঘরবাড়ি, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, গবাদিপশু ও কৃষির জন্য সংরক্ষিত বীজধানসহ প্রায় কোটি টাকার সম্পদ পুড়ে গেছে। সর্বস্ব হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে।
গত সোমবার (২ নভেম্বর) রাত আটটার দিকে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
মুহূর্তেই ছাই সব অর্জন;
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামের একটি বসতঘর থেকে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে লেলিহান শিখা আশপাশের বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ঘরে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, ধান-চাল, বীজধান, সার, কীটনাশক এবং প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এছাড়া গবাদিপশু পুড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারানো মিনতি দাস বলেন, ‘আমার ছেলে-মেয়ের পড়ার কাপড়চোপড় পর্যন্ত নেই। ঘরে থাকা ৬০ হাজার টাকা নগদ, ১০ হাজার টাকার চাল, দুটি গরু ও তোষকের ভেতরে থাকা স্বর্ণের টুকরা—সব শেষ হয়ে গেছে। আমি এখন বাঁচব কী করে?’
ক্ষতিগ্রস্ত অন্য পরিবারগুলোর সদস্যরাও তাদের বসতঘর ও কৃষিকাজের প্রয়োজনীয় উপকরণ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে সন্তানদের পড়াশোনা এবং আগামী দিনের জীবিকা নির্বাহ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে তাদের মধ্যে।
এই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো হলো— গৌরাঙ্গ দাস, প্রমোদ দাস, খুশিলাল দাস, মতিলাল দাস, অমৃত লাল দাস, দীনেশ চন্দ্র দাস, সুবল দাস, গৌরমোহন দাস, কালীচরণ দাস, সোমলাল দাস, হরিমোহন দাস, বারিন্দ্র দাস ও রমাকান্ত দাসের পরিবার। সবাই পেশায় প্রান্তিক কৃষিজীবী।
ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আটকে পড়া ও স্থানীয়দের ভূমিকা;
স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, পল্লী বিদ্যুতের লাইনের শর্টসার্কিট থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলামও প্রাথমিকভাবে শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে খবর পেয়ে দিরাই ফায়ার স্টেশনের একটি দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেও পথে নদী পারাপারের সময় গাড়ি ও ভারী সরঞ্জাম নিয়ে আটকে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে পর্যাপ্ত নৌকা না পাওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সরঞ্জাম ছাড়াই খালি হাতে গ্রামে পৌঁছে উদ্ধারকাজে অংশ নেন। তবে তার আগেই গ্রামবাসীর সম্মিলিত ও আপ্রাণ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রশাসনের আশ্বাসের বাণী;
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা রন দেবনাথ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ঘরে বর্তমানে খাবার বা কোনো নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী অবশিষ্ট নেই।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজীব সরকার বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঠিক তালিকা তৈরি করে দ্রুত সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে এবং তাদের পুনর্বাসনে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
সর্বস্ব হারানো এসব কৃষক পরিবারের মাঝে দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি ত্রাণসহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং তাদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

















