৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের আইনি বাধ্যবাধকতা
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগঃ স্পিকারের হাতে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব
- আপডেট সময়ঃ ০৪:৫৯:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
- / ২৪ বার পড়া হয়েছে।
দেশের রাজনীতিতে ঘনীভূত এক বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় অবশেষে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি।
আকস্মিক এই পদত্যাগের খবর প্রকাশের পরপরই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক আলোচনা ও পর্যবেক্ষণ। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সার্বিক তথ্য জানাতে একই দিন বিকেল ৫টায় এক সংবাদ সম্মেলনের আহ্বান করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সংবিধানের বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করার সঙ্গে সঙ্গে সেই আসনটি শূন্য হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে দেশে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
এছাড়া সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুসারে, পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদকে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। ফলে আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশ পেতে যাচ্ছে তার ২৩তম রাষ্ট্রপ্রধান।
সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের রাজনীতিতে বেশ কিছুদিন ধরেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের ইস্যুটি ঘুরেফিরে আলোচনায় আসছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি জোরালো হতে থাকে। সেই উত্তাপের রেশ ছড়িয়ে পড়েছিল জাতীয় সংসদেও।
সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনে রাষ্ট্রপতির প্রারম্ভিক ভাষণ চলাকালে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা তার উপস্থিতি ও ভূমিকার তীব্র বিরোধিতা করে প্রতিবাদ জানান। এসব ঘটনাপ্রবাহের পর শেষ পর্যন্ত পদত্যাগের সিদ্ধান্তই নিলেন তিনি।
উল্লেখ্য, দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বঙ্গভবনের দায়িত্ব নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। স্বাভাবিক মেয়াদে ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তাঁর রাষ্ট্রপ্রধানের আসনে থাকার কথা ছিল। তবে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার বহুদূর আগেই তিনি রাষ্ট্রপতির পদ ছেড়ে বিদায় নিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনের এই মেয়াদকাল ছিল বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম উত্তাল ও ঘটনাবহুল সময়। তার দায়িত্ব পালনের সময়েই সংঘটিত হয় ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান, পতন ঘটে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের।
পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ এবং সবশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন—জাতীয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এসব বাঁকের মধ্য দিয়েই অতিবাহিত হয় তার মেয়াদ। দেশের ইতিহাসের একমাত্র রাষ্ট্রপতি হিসেবে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনজন পৃথক সরকারপ্রধানকে শপথ পড়ানোর এক অনন্য নজিরও সৃষ্টি হয়েছে তার সময়ে।




















