বিএনপি-আওয়ামী লীগ সমর্থকের দুপক্ষের সংঘর্ষে যুবক নিহত
- আপডেট সময়ঃ ০৮:৪৮:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২১ বার পড়া হয়েছে।
হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট
সুনামগঞ্জ ।। ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নড়াইলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, আহত ৭ !
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরে মিরচাঁন সরদার (৩৬) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নের মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত মিরচাঁন সরদার ওই গ্রামের মৃত লোকমান সরদারের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোটাকোল ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি আজমল মুন্সি ও বর্তমান ইউপি সদস্য কালাম মুন্সি সমর্থিত একটি পক্ষের সঙ্গে কোটাকোল ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য শহিদুল মোল্যা এবং হিরাঙ্গীর মোল্যা সমর্থিত পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার ও রাজনৈতিক বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
আজমল মুন্সি সমর্থিত ইউপি সদস্য কালাম মুন্সির অভিযোগ, সকাল ১১টার দিকে মিরচাঁন সরদার বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় সাবেক ইউপি সদস্য শহিদুল মোল্যা ও হিরাঙ্গীর মোল্যার নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
পরে স্থানীয়রা মিরচাঁনকে উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথে মাদারীপুরের পাঁচচর এলাকায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় সালাম মুন্সি নামে আরও এক যুবক ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষে খাজা সরদার, সিয়ামিন সরদার ও সারফিনা বেগমসহ উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। তারা লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে, মিরচাঁন সরদারকে হত্যার ঘটনায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হলেও এ বিষয়ে শহিদুল মোল্যার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
হত্যাকাণ্ডের পর মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকাজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহমান জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।




















