আন্তর্জাতিক মানব পাচার দালাল চক্রে সিলেটের তিনজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে এনএসআই
- আপডেট সময়ঃ ০৯:৪৫:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৮৩ বার পড়া হয়েছে।
বাংলাদেশিদের মানব পাচারের জন্য নেপালকে নতুন ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করা একটি আন্তর্জাতিক দালাল চক্রে সিলেটের তিনজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)।
ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণদের ভিজিট ভিসায় নেপালে নিয়ে গিয়ে জিম্মি করা, নির্যাতন এবং পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে এই চক্রের বিরুদ্ধে।
এনএসআইয়ের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে সিলেটের ব্রিটিশ নাগরিক মিজানুর আমিন, সিলেট শহরের মো. শামীম এবং মিরাবাজার এলাকার মো. শোয়েবের নাম উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপাল-কাঠমুন্ডু কেন্দ্রিক এই মানব পাচার চক্রে তারা স্থানীয় পর্যায়ে লোক সংগ্রহ। বিদেশযাত্রার প্রলোভন দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক দালালদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার কাজে জড়িত ছিলেন।
গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, দালালচক্রটি সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলার তরুণদের উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে আকৃষ্ট করে। পরে সহজে ভিসা পাওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তাদের ভিজিট ভিসায় নেপালে পাঠানো হয়। কাঠমান্ডু পৌঁছানোর পর ভুক্তভোগীদের পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে আটকে রাখা হয়। একপর্যায়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে ভয় দেখানো হয় এবং মুক্তিপণ আদায় করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, নেপাল থেকে পাচারকারীরা ভুক্তভোগীদের ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় পাঠানোর চেষ্টা করে। এ ক্ষেত্রে ঢাকা–কাঠমান্ডু–রোম–বেলজিয়াম এবং ঢাকা–কাঠমান্ডু–হংকং–কানাডা রুট বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে।
নেপালকেন্দ্রিক মানব পাচারের এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত জোরদারের সুপারিশ করেছে এনএসআই। একই সঙ্গে মামলাগুলো সিআইডির সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনে হস্তান্তর, বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন তদারকি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিদেশি মিশনগুলোকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, নেপাল হয়ে ইউরোপে মানব পাচারের চেষ্টা গত এক বছর ধরে বেড়েছে।
তিনি বলেন, সিলেট অঞ্চলের মানুষকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ প্রবাসী পরিচয় ও বিদেশি নাগরিকত্ব দেখিয়ে অনেকেই সহজেই বিশ্বাস অর্জন করছে।
সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মানব পাচারচক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে। সিলেটের যেসব ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে, তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
এদিকে, মানব পাচার প্রতিরোধে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে নেপাল হয়ে পাচারের রুট বন্ধ করা যায় এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। এছাড়া, সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মশালা ও প্রচারাভিযান চালানো হচ্ছে যাতে সাধারণ মানুষ পাচারকারীদের প্রলোভনে পা না দেয়।
প্রতিটি সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি, স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে সন্দেহজনক কার্যকলাপ সম্পর্কে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ভুক্তভোগীদের সহায়তার জন্য হটলাইন চালু করা হয়েছে এবং তাদের পুনর্বাসনে সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মানব পাচার প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তথ্য বিনিময় ও যৌথ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে এই চক্রের কার্যক্রম বন্ধ করার চেষ্টা চলছে।
তথ্যসহায়তাঃসিলেটভিউ24













