০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

কারাগারে বন্দিত্বের হিসাব, ন্যায়বিচারের প্রশ্ন বিশেষ মন্তব্য প্রতিবেদন

এডভোকেট আমিরুল হক সম্পাদক
  • আপডেট সময়ঃ ০২:৩৭:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৮ বার পড়া হয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদন ;
এডঃআমিরুল হক
হক বার্তা ডেস্ক ২৬ আগষ্ট ২০২৬ইং

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW) ২৩ আগস্ট ২০২৬-এ প্রকাশিত বিবৃতিতে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দীর্ঘ প্রি-ট্রায়াল আটক, জামিন না পাওয়া, চিকিৎসার ঘাটতি এবং কারাগারে মৃত্যুর বিষয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে। HRW বলেছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্তত ১০ জন আওয়ামী লীগ পদধারী কারাগারে মারা গেছেন; তাঁদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট কোনো অভিযোগও ছিল না। �
Human Rights Watch
এছাড়া গত ১৮ই আগষ্ট কারা মহাপরিদর্শক সাংবাদিকদের কাছে কারাগারে বন্দীর সংখ্যা ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ মর্মে তত্ব প্রকাশের পরই
১৯ আগস্ট ২০২৬-এ কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসাইনকে তাঁর মূল কর্মস্থল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ফেরত পাঠানোর সরকারি আদেশ জারি হয়। � একই সময়ে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী দেশের ৭৫টি কারাগারে ধারণক্ষমতা ৪৫,১৮৬ জনের বিপরীতে বন্দী ছিল ৯৮,২৩৩ জন। �

মন্তব্য প্রতিবেদন
Writing
কারাগারে বন্দিত্বের হিসাব, ন্যায়বিচারের প্রশ্ন
বিশেষ মন্তব্য প্রতিবেদন
দৈনিক হক বার্তা | অন্তরালের খবর | সুনামগঞ্জ
বাংলাদেশের কারাগারগুলো এখন শুধু অতিরিক্ত বন্দীর চাপের কারণে সংকটের মুখে নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিচারপ্রক্রিয়া, জামিন, চিকিৎসা এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার গুরুতর প্রশ্ন। সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, দেশের ৭৫টি কারাগারের সম্মিলিত ধারণক্ষমতা প্রায় ৪৫ হাজার ১৮৬ জন হলেও বন্দীর সংখ্যা প্রায় ৯৮ হাজার ২৩৩—অর্থাৎ ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ২৩ আগস্ট হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দীর্ঘমেয়াদি প্রি-ট্রায়াল আটক নিয়ে সরাসরি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বলেছে, ২০২৪ সালের আগস্টের পর আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও সমর্থককে আটক করা হয় এবং এখনও শত শত মানুষ কোনো অভিযোগ ছাড়াই কারাগারে রয়েছেন। HRW একই সঙ্গে বলেছে, পূর্ববর্তী সরকারের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে কেউ কেউ জড়িত থাকতে পারেন—কিন্তু অভিযোগ থাকলেই বিচার ছাড়াই অনির্দিষ্টকাল আটক রাখা ন্যায়বিচারের বিকল্প হতে পারে না।
প্রশ্নটি এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—একজন ব্যক্তি অপরাধী প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে আসামি, অপরাধী নন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তদন্ত হবে, প্রমাণ থাকলে বিচার হবে এবং আদালত দোষী সাব্যস্ত করলে শাস্তি হবে। কিন্তু মামলা বছরের পর বছর চলবে, অভিযোগের অগ্রগতি হবে না, জামিনের সুযোগ বারবার বাধাগ্রস্ত হবে—এমন পরিস্থিতি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি করে।
HRW-এর সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে এমন ঘটনাও উঠে এসেছে যেখানে জামিনের সুযোগ তৈরি হওয়ার পর নতুন মামলা দায়ের করে আটক অব্যাহত রাখার অভিযোগ রয়েছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আটক ১৬০-এর বেশি ব্যক্তির কাউকেই জামিন দেওয়া হয়নি এবং কয়েকজন প্রবীণ বন্দী দীর্ঘ সময় ধরে অভিযোগ ছাড়াই আটক রয়েছেন।
সবচেয়ে বেদনাদায়ক প্রশ্নটি কারাগারে মৃত্যুকে ঘিরে। HRW জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্তত ১০ জন আওয়ামী লীগ পদধারী কারাগারে মারা গেছেন; তাঁদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগই ছিল না। সংস্থাটি প্রতিটি কারাগার মৃত্যুর স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
এখানে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার বিষয় নয়। প্রশ্নটি রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা নির্যাতন, গুম, হত্যা কিংবা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন—তাঁদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা উচিত। কিন্তু সেই একই নীতির আলোকে নিরপরাধ মানুষকেও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে হয়রানি করা যাবে না।
কারাগার কোনো রাজনৈতিক প্রতিশোধের স্থান হতে পারে না। কারাগার হওয়ার কথা আদালতের রায়ের বাস্তবায়ন ও আইনসম্মত হেফাজতের স্থান। বিচারাধীন ব্যক্তির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো—দ্রুত তদন্ত, ন্যায্য বিচার, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং আইনি অধিকার নিশ্চিত করা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের সামনে তাই কয়েকটি মৌলিক প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে:
কতজন বন্দীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ নেই?
কতজন বছরের পর বছর বিচারাধীন?
কতজন জামিন পাওয়ার পরও নতুন মামলায় আটক রয়েছেন?
কারাগারে কতজনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রতিটি মৃত্যুর স্বাধীন তদন্ত হয়েছে কি না?
এসব প্রশ্নের স্বচ্ছ উত্তর দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এই পর্যবেক্ষণ ইতোমধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও গুরুত্ব পেয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিষয়টি মানবাধিকার ও আইনের শাসনের পরীক্ষার প্রশ্ন হিসেবে সামনে আসতে পারে।
রাষ্ট্রের কাছে আমাদের প্রত্যাশা প্রতিশোধ নয়—বিচার।
অপরাধীর শাস্তি চাই, কিন্তু নিরপরাধের কারাবাস চাই না।
রাজনৈতিক পরিচয় নয়, প্রমাণই হোক বিচারের ভিত্তি।
কারাগারের দরজার ওপারে একজন মানুষ থাকেন—তিনি আসামি হতে পারেন, কিন্তু বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। একটি সভ্য রাষ্ট্রের শক্তি প্রতিপক্ষকে কত দীর্ঘ সময় বন্দী রাখতে পারে, সেখানে নয়; বরং প্রতিপক্ষের ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারে কি না—সেখানেই।
দৈনিক হক বার্তা
অন্তরালের খবর | সুনামগঞ্জ

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

কারাগারে বন্দিত্বের হিসাব, ন্যায়বিচারের প্রশ্ন বিশেষ মন্তব্য প্রতিবেদন

আপডেট সময়ঃ ০২:৩৭:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

বিশেষ প্রতিবেদন ;
এডঃআমিরুল হক
হক বার্তা ডেস্ক ২৬ আগষ্ট ২০২৬ইং

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW) ২৩ আগস্ট ২০২৬-এ প্রকাশিত বিবৃতিতে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দীর্ঘ প্রি-ট্রায়াল আটক, জামিন না পাওয়া, চিকিৎসার ঘাটতি এবং কারাগারে মৃত্যুর বিষয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে। HRW বলেছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্তত ১০ জন আওয়ামী লীগ পদধারী কারাগারে মারা গেছেন; তাঁদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট কোনো অভিযোগও ছিল না। �
Human Rights Watch
এছাড়া গত ১৮ই আগষ্ট কারা মহাপরিদর্শক সাংবাদিকদের কাছে কারাগারে বন্দীর সংখ্যা ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ মর্মে তত্ব প্রকাশের পরই
১৯ আগস্ট ২০২৬-এ কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসাইনকে তাঁর মূল কর্মস্থল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ফেরত পাঠানোর সরকারি আদেশ জারি হয়। � একই সময়ে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী দেশের ৭৫টি কারাগারে ধারণক্ষমতা ৪৫,১৮৬ জনের বিপরীতে বন্দী ছিল ৯৮,২৩৩ জন। �

মন্তব্য প্রতিবেদন
Writing
কারাগারে বন্দিত্বের হিসাব, ন্যায়বিচারের প্রশ্ন
বিশেষ মন্তব্য প্রতিবেদন
দৈনিক হক বার্তা | অন্তরালের খবর | সুনামগঞ্জ
বাংলাদেশের কারাগারগুলো এখন শুধু অতিরিক্ত বন্দীর চাপের কারণে সংকটের মুখে নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিচারপ্রক্রিয়া, জামিন, চিকিৎসা এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার গুরুতর প্রশ্ন। সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, দেশের ৭৫টি কারাগারের সম্মিলিত ধারণক্ষমতা প্রায় ৪৫ হাজার ১৮৬ জন হলেও বন্দীর সংখ্যা প্রায় ৯৮ হাজার ২৩৩—অর্থাৎ ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ২৩ আগস্ট হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দীর্ঘমেয়াদি প্রি-ট্রায়াল আটক নিয়ে সরাসরি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বলেছে, ২০২৪ সালের আগস্টের পর আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও সমর্থককে আটক করা হয় এবং এখনও শত শত মানুষ কোনো অভিযোগ ছাড়াই কারাগারে রয়েছেন। HRW একই সঙ্গে বলেছে, পূর্ববর্তী সরকারের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে কেউ কেউ জড়িত থাকতে পারেন—কিন্তু অভিযোগ থাকলেই বিচার ছাড়াই অনির্দিষ্টকাল আটক রাখা ন্যায়বিচারের বিকল্প হতে পারে না।
প্রশ্নটি এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—একজন ব্যক্তি অপরাধী প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে আসামি, অপরাধী নন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তদন্ত হবে, প্রমাণ থাকলে বিচার হবে এবং আদালত দোষী সাব্যস্ত করলে শাস্তি হবে। কিন্তু মামলা বছরের পর বছর চলবে, অভিযোগের অগ্রগতি হবে না, জামিনের সুযোগ বারবার বাধাগ্রস্ত হবে—এমন পরিস্থিতি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি করে।
HRW-এর সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে এমন ঘটনাও উঠে এসেছে যেখানে জামিনের সুযোগ তৈরি হওয়ার পর নতুন মামলা দায়ের করে আটক অব্যাহত রাখার অভিযোগ রয়েছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আটক ১৬০-এর বেশি ব্যক্তির কাউকেই জামিন দেওয়া হয়নি এবং কয়েকজন প্রবীণ বন্দী দীর্ঘ সময় ধরে অভিযোগ ছাড়াই আটক রয়েছেন।
সবচেয়ে বেদনাদায়ক প্রশ্নটি কারাগারে মৃত্যুকে ঘিরে। HRW জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্তত ১০ জন আওয়ামী লীগ পদধারী কারাগারে মারা গেছেন; তাঁদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগই ছিল না। সংস্থাটি প্রতিটি কারাগার মৃত্যুর স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
এখানে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার বিষয় নয়। প্রশ্নটি রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা নির্যাতন, গুম, হত্যা কিংবা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন—তাঁদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা উচিত। কিন্তু সেই একই নীতির আলোকে নিরপরাধ মানুষকেও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে হয়রানি করা যাবে না।
কারাগার কোনো রাজনৈতিক প্রতিশোধের স্থান হতে পারে না। কারাগার হওয়ার কথা আদালতের রায়ের বাস্তবায়ন ও আইনসম্মত হেফাজতের স্থান। বিচারাধীন ব্যক্তির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো—দ্রুত তদন্ত, ন্যায্য বিচার, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং আইনি অধিকার নিশ্চিত করা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের সামনে তাই কয়েকটি মৌলিক প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে:
কতজন বন্দীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ নেই?
কতজন বছরের পর বছর বিচারাধীন?
কতজন জামিন পাওয়ার পরও নতুন মামলায় আটক রয়েছেন?
কারাগারে কতজনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রতিটি মৃত্যুর স্বাধীন তদন্ত হয়েছে কি না?
এসব প্রশ্নের স্বচ্ছ উত্তর দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এই পর্যবেক্ষণ ইতোমধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও গুরুত্ব পেয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিষয়টি মানবাধিকার ও আইনের শাসনের পরীক্ষার প্রশ্ন হিসেবে সামনে আসতে পারে।
রাষ্ট্রের কাছে আমাদের প্রত্যাশা প্রতিশোধ নয়—বিচার।
অপরাধীর শাস্তি চাই, কিন্তু নিরপরাধের কারাবাস চাই না।
রাজনৈতিক পরিচয় নয়, প্রমাণই হোক বিচারের ভিত্তি।
কারাগারের দরজার ওপারে একজন মানুষ থাকেন—তিনি আসামি হতে পারেন, কিন্তু বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। একটি সভ্য রাষ্ট্রের শক্তি প্রতিপক্ষকে কত দীর্ঘ সময় বন্দী রাখতে পারে, সেখানে নয়; বরং প্রতিপক্ষের ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারে কি না—সেখানেই।
দৈনিক হক বার্তা
অন্তরালের খবর | সুনামগঞ্জ