০৭:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

‎খাসিয়ামারা বালু মহালে সেনাবাহিনীর অভিযান, ড্রেজার রেখেই পালিয়ে গেলো বালুখেকোরা 

স্টাফ রিপোর্টার :
  • আপডেট সময়ঃ ০১:৪৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫
  • / ১২২ বার পড়া হয়েছে।

‎সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার খাসিয়ামারা বালু মহাল এলাকায় সনাতন পদ্ধতির অনুমতি থাকলেও চলছে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন।

পরিবেশ বিধ্বংসী এই কর্মকাণ্ডে একাধিকবার স্থানীয় বাসিন্দারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অভিযোগ জানালেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। 

‎এখানে অবৈধ ভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করায় বৃহত্তর লক্ষীপুর,জিরারগাঁও,

‎বক্তারপুর, , ভাঙ্গা পাড়া, মাঠ গাঁও, ইদ্রিসপুর, নোয়াপাড়া,মিরপুরসহ ৮ টি গ্রাম ও দারুল কোরআন মডেল মাদ্রাসা, জিরারগাঁও হাফিজিয়া মাদ্রাসা, আল হিকমা মডেল মাদ্রাসা, ভাঙা পাড়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ৩ টি মাদ্রাসা হুমকির মুখে পড়েছে।

‎স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগে কাজ না হওয়ায় শুক্রবার (২৭ জুন) বিকেলে সেনাবাহিনী অভিযান চালায় বালু মহাল এলাকায়। অভিযানে ড্রেজার মেশিন নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়।

‎তবে অভিযানের পরও এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় কি অবৈধ ড্রেজারচক্র আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে?

‎খাসিয়ামারা এলাকার বাসিন্দারা জানান, সরকার অনুমোদিতভাবে সনাতন পদ্ধতিতে (ডাঙা থেকে কোদাল-ঝুড়ি দিয়ে) বালু উত্তোলনের অনুমতি থাকলেও চোরাপথে চালু রয়েছে একাধিক ড্রেজার মেশিন। এসব মেশিন দিয়ে নদীর গভীর থেকে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বালু তোলা হচ্ছে, যার ফলে নদীভাঙন, জমি ধস ও পরিবেশগত ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়েছে।

‎আরও অভিযোগ উঠেছে, উত্তোলিত বালু পরিবহন করা হচ্ছে বড় বড় ট্রাকে করে। এতে করে গ্রামের অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও কাঁচা রাস্তা ভেঙে যান চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষক ও স্কুলপড়ুয়া শিশুরা।

‎এলাকাবাসীর ভাষ্য, “আমরা একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে ইউএনও মহোদয়ের কাছে অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেই। অবশেষে সেনাবাহিনীর অভিযানে কিছুটা আশার আলো দেখলেও আমরা চাই, ড্রেজার বন্ধ করে স্থায়ী সমাধান।”

‎পরিবেশ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও ড্রেজার ব্যবহার সম্পূর্ণ অবৈধ। এটা নদী এবং আশপাশের জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।”

‎এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বালুমহাল এলাকায় টেকসই তদারকি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

‎খাসিয়ামারা বালু মহালে সেনাবাহিনীর অভিযান, ড্রেজার রেখেই পালিয়ে গেলো বালুখেকোরা 

আপডেট সময়ঃ ০১:৪৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫

‎সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার খাসিয়ামারা বালু মহাল এলাকায় সনাতন পদ্ধতির অনুমতি থাকলেও চলছে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন।

পরিবেশ বিধ্বংসী এই কর্মকাণ্ডে একাধিকবার স্থানীয় বাসিন্দারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অভিযোগ জানালেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। 

‎এখানে অবৈধ ভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করায় বৃহত্তর লক্ষীপুর,জিরারগাঁও,

‎বক্তারপুর, , ভাঙ্গা পাড়া, মাঠ গাঁও, ইদ্রিসপুর, নোয়াপাড়া,মিরপুরসহ ৮ টি গ্রাম ও দারুল কোরআন মডেল মাদ্রাসা, জিরারগাঁও হাফিজিয়া মাদ্রাসা, আল হিকমা মডেল মাদ্রাসা, ভাঙা পাড়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ৩ টি মাদ্রাসা হুমকির মুখে পড়েছে।

‎স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগে কাজ না হওয়ায় শুক্রবার (২৭ জুন) বিকেলে সেনাবাহিনী অভিযান চালায় বালু মহাল এলাকায়। অভিযানে ড্রেজার মেশিন নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়।

‎তবে অভিযানের পরও এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় কি অবৈধ ড্রেজারচক্র আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে?

‎খাসিয়ামারা এলাকার বাসিন্দারা জানান, সরকার অনুমোদিতভাবে সনাতন পদ্ধতিতে (ডাঙা থেকে কোদাল-ঝুড়ি দিয়ে) বালু উত্তোলনের অনুমতি থাকলেও চোরাপথে চালু রয়েছে একাধিক ড্রেজার মেশিন। এসব মেশিন দিয়ে নদীর গভীর থেকে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বালু তোলা হচ্ছে, যার ফলে নদীভাঙন, জমি ধস ও পরিবেশগত ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়েছে।

‎আরও অভিযোগ উঠেছে, উত্তোলিত বালু পরিবহন করা হচ্ছে বড় বড় ট্রাকে করে। এতে করে গ্রামের অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও কাঁচা রাস্তা ভেঙে যান চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষক ও স্কুলপড়ুয়া শিশুরা।

‎এলাকাবাসীর ভাষ্য, “আমরা একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে ইউএনও মহোদয়ের কাছে অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেই। অবশেষে সেনাবাহিনীর অভিযানে কিছুটা আশার আলো দেখলেও আমরা চাই, ড্রেজার বন্ধ করে স্থায়ী সমাধান।”

‎পরিবেশ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও ড্রেজার ব্যবহার সম্পূর্ণ অবৈধ। এটা নদী এবং আশপাশের জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।”

‎এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বালুমহাল এলাকায় টেকসই তদারকি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।