০৩:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই হত্যা মামলার আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আলোচনায়- স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময়ঃ ০৭:৫৯:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২০ বার পড়া হয়েছে।

‎হকবার্তা ডেস্ক;

‎০৬ আগস্ট ২০২৬

‎মাগুরার মহম্মদপুরায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ছাত্রনেতা আহাদ-সুমন হত্যা মামলার আসামিকে পুলিশের গাড়ি থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান মিল্টনের নেতৃত্বে একদল কর্মীর বিরুদ্ধে।

‎বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার ধোয়াইল বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

‎জানা গেছে, সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান উজ্জ্বল আক্তার কাফুরকে ছিনিয়ে নেন মিল্টন ও তার সহযোগীরা। উজ্জ্বল আক্তার কাফুর এক সময় জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

‎পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উজ্জ্বল আক্তার কাফুর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ছাত্রনেতা আহাদ-সুমন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। বুধবার বিকালে উপজেলার ধোয়াইল বাজারে একটি ঘরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের অন্তত ১৫ নেতাকর্মী নিয়ে গোপন বৈঠক করছিলেন তিনি।

খবর পেয়ে মহম্মদপুর থানার ওসি এম শামীম আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশ বিকাল ৫টার দিকে সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উজ্জ্বল আক্তার কাফুরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হলেও অন্যরা পালিয়ে যান।

‎প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গ্রেফতার করার পর তাকে ভ্যানে তোলা হলে আরিফুজ্জামান মিল্টনের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল সেখানে উপস্থিত হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক রেজা লেনিন, ছাত্রদল নেতা আবু আম্মান ইউসুফ, ইউনিয়ন বিএনপির নেতা মশিউর রহমানসহ অন্যরা পুলিশের গাড়ি থেকে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

‎এ বিষয়ে অভিযুক্ত আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান মিল্টনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের ধারণা, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের কর্মীদের সমর্থন লাভের উদ্দেশে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

‎মহম্মদপুর থানার ওসি এম শামীম আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সরকারি কাজে বাধা ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

‎পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, একই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গত বছর সড়কে আগুন জ্বালিয়ে পুলিশের গাড়ি থেকে আকাশ নামে এক যুবককে ছিনিয়ে নেওয়া, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের ওপর হামলাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

জুলাই হত্যা মামলার আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আলোচনায়- স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা

আপডেট সময়ঃ ০৭:৫৯:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

‎হকবার্তা ডেস্ক;

‎০৬ আগস্ট ২০২৬

‎মাগুরার মহম্মদপুরায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ছাত্রনেতা আহাদ-সুমন হত্যা মামলার আসামিকে পুলিশের গাড়ি থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান মিল্টনের নেতৃত্বে একদল কর্মীর বিরুদ্ধে।

‎বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার ধোয়াইল বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

‎জানা গেছে, সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান উজ্জ্বল আক্তার কাফুরকে ছিনিয়ে নেন মিল্টন ও তার সহযোগীরা। উজ্জ্বল আক্তার কাফুর এক সময় জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

‎পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উজ্জ্বল আক্তার কাফুর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ছাত্রনেতা আহাদ-সুমন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। বুধবার বিকালে উপজেলার ধোয়াইল বাজারে একটি ঘরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের অন্তত ১৫ নেতাকর্মী নিয়ে গোপন বৈঠক করছিলেন তিনি।

খবর পেয়ে মহম্মদপুর থানার ওসি এম শামীম আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশ বিকাল ৫টার দিকে সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উজ্জ্বল আক্তার কাফুরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হলেও অন্যরা পালিয়ে যান।

‎প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গ্রেফতার করার পর তাকে ভ্যানে তোলা হলে আরিফুজ্জামান মিল্টনের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল সেখানে উপস্থিত হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক রেজা লেনিন, ছাত্রদল নেতা আবু আম্মান ইউসুফ, ইউনিয়ন বিএনপির নেতা মশিউর রহমানসহ অন্যরা পুলিশের গাড়ি থেকে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

‎এ বিষয়ে অভিযুক্ত আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান মিল্টনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের ধারণা, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের কর্মীদের সমর্থন লাভের উদ্দেশে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

‎মহম্মদপুর থানার ওসি এম শামীম আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সরকারি কাজে বাধা ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

‎পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, একই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গত বছর সড়কে আগুন জ্বালিয়ে পুলিশের গাড়ি থেকে আকাশ নামে এক যুবককে ছিনিয়ে নেওয়া, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের ওপর হামলাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।