০৫:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

ধর্মপাশায় খেলায় জয়-পরাজয়কে কেন্দ্র আট ছাত্রী আহত, বিদ্যালয় ভাঙচুর

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:৩২:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ১০৭ বার পড়া হয়েছে।

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় কাবাডি খেলায় জয়-পরাজয়কে কেন্দ্র করে দুটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এতে হাতাহাতির ঘটনায় অন্তত আটজন ছাত্রী আহত হয়েছেন। পাশাপাশি ভাঙচুর করা হয়েছে বিদ্যালয়ের টিনের বাউন্ডারির বেড়া ও প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ের জানালা।

বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে একটা থেকে পৌনে দুইটা পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে একজন ছাত্রীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে, বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ৫২তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা উপলক্ষে ওইদিন সকাল ১১টার দিকে ধর্মপাশা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে মেয়েদের কাবাডি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় ধর্মপাশা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মেয়েরা চ্যাম্পিয়ন এবং জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের মেয়েরা রানার্স আপ হয়। পরে বেলা পৌনে একটার দিকে বিজয়ী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আনন্দ মিছিল বের করলে জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাল্টা মিছিল করে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়।

 

 

এরপর বেলা ১টা ৪০ মিনিটের দিকে জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ইউনিফর্ম পরিহিত ও ইউনিফর্ম ছাড়া প্রায় ৫০-৬০ জন শিক্ষার্থী লাঠি, বাঁশের খুঁটি ও শাবল নিয়ে এসে ধর্মপাশা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের উত্তর পাশের টিনের বেড়া ভাঙচুর করে। পরে তারা প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ের পাঁচটি জানালার কাঁচ ভাঙচুর করে চলে যায়।

 

ধর্মপাশা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিধান চন্দ্র তালুকদার বলেন, ঘটনার সময় আমি উপজেলা পরিষদ পুকুরে সাঁতার প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করছিলাম। পরে সহকর্মীদের কাছ থেকে ঘটনাটি জেনে ইউএনও স্যার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

অন্যদিকে জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক খান দাবি করেন,আমাদের ছাত্রীদের ওপর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চড়াও হয়ে চারজনকে মারধর করেছে।একজন হসপিটালে ভর্তি রয়েছে। তবে আমাদের কোনো শিক্ষার্থী বালিকা বিদ্যালয়ে গিয়ে ভাঙচুর করেনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায় জানান, “ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।

 

ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এনামুল হক বলেন, ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

ধর্মপাশায় খেলায় জয়-পরাজয়কে কেন্দ্র আট ছাত্রী আহত, বিদ্যালয় ভাঙচুর

আপডেট সময়ঃ ০৬:৩২:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় কাবাডি খেলায় জয়-পরাজয়কে কেন্দ্র করে দুটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এতে হাতাহাতির ঘটনায় অন্তত আটজন ছাত্রী আহত হয়েছেন। পাশাপাশি ভাঙচুর করা হয়েছে বিদ্যালয়ের টিনের বাউন্ডারির বেড়া ও প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ের জানালা।

বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে একটা থেকে পৌনে দুইটা পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে একজন ছাত্রীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে, বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ৫২তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা উপলক্ষে ওইদিন সকাল ১১টার দিকে ধর্মপাশা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে মেয়েদের কাবাডি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় ধর্মপাশা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মেয়েরা চ্যাম্পিয়ন এবং জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের মেয়েরা রানার্স আপ হয়। পরে বেলা পৌনে একটার দিকে বিজয়ী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আনন্দ মিছিল বের করলে জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাল্টা মিছিল করে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়।

 

 

এরপর বেলা ১টা ৪০ মিনিটের দিকে জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ইউনিফর্ম পরিহিত ও ইউনিফর্ম ছাড়া প্রায় ৫০-৬০ জন শিক্ষার্থী লাঠি, বাঁশের খুঁটি ও শাবল নিয়ে এসে ধর্মপাশা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের উত্তর পাশের টিনের বেড়া ভাঙচুর করে। পরে তারা প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ের পাঁচটি জানালার কাঁচ ভাঙচুর করে চলে যায়।

 

ধর্মপাশা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিধান চন্দ্র তালুকদার বলেন, ঘটনার সময় আমি উপজেলা পরিষদ পুকুরে সাঁতার প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করছিলাম। পরে সহকর্মীদের কাছ থেকে ঘটনাটি জেনে ইউএনও স্যার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

অন্যদিকে জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক খান দাবি করেন,আমাদের ছাত্রীদের ওপর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চড়াও হয়ে চারজনকে মারধর করেছে।একজন হসপিটালে ভর্তি রয়েছে। তবে আমাদের কোনো শিক্ষার্থী বালিকা বিদ্যালয়ে গিয়ে ভাঙচুর করেনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায় জানান, “ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।

 

ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এনামুল হক বলেন, ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।