প্রশাসনের নিয়ম মেনে অবশেষে সনাতন পদ্ধতিতে- যাদুকাটায় বালু উত্তোলন শুরু,কর্মচাঞ্চল্য ফেরার আশা;
- আপডেট সময়ঃ ০৪:৪৪:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
- / ২২ বার পড়া হয়েছে।
হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;
সুনামগঞ্জ ।। ২২ অক্টোবর ২০২৬
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ বালুমহালে অবশেষে,সনাতন (ম্যানুয়াল) পদ্ধতিতে বালু উত্তোলন শুরু হয়েছে। দীর্ঘ দেড় মাস নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ থাকার পর ইজারাদারকে নদীর দখল বুঝিয়ে দেওয়ায় স্থানীয় নদীকেন্দ্রিক শ্রমজীবী মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের আমেজ ফিরে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সরেজমিনে যাদুকাটা নদী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নদীতে পুনরায় কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর—এই দুই উপজেলার প্রায় লাখো শ্রমিক ও ব্যবসায়ী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই যাদুকাটা নদীর ওপর নির্ভরশীল। নদী সচল হওয়ায় হাজার হাজার শ্রমিক কাজে ফিরেছেন, যার ফলে থমকে যাওয়া স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন করে গতি সঞ্চার হয়েছে।
দেড় মাসের বিরতি ও স্থানীয় প্রত্যাশা;
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ থাকায় দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের রোজগার বন্ধ ছিল। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে তীব্র জীবিকাসঙ্কটে পড়েছিলেন শ্রমজীবী মানুষেরা। বালুমহাল দুটি নতুন করে চালু হওয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। নদী পারের মানুষের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি।
#সরকারি নির্দেশনা ও পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বালুমহাল চালুর ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম এবং পরিবেশগত বিধিনিষেধ যথাযথভাবে অনুসরণের ওপর কঠোর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। নদীর গতিপথ রক্ষা এবং পরিবেশের ক্ষতি এড়াতে কেবল সনাতন বা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতেই বালু উত্তোলন করতে দেওয়া হবে।
#উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য:
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিস রিপামনি দেবী জানান, “সরকার নির্ধারিত মূল্যে আগামী ৩০ চৈত্র পর্যন্ত যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ বালুমহালের ইজারা পেয়েছেন মেসার্স তাহিয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী নাসির মিয়া। ইজারার শর্ত অনুযায়ী, শতভাগ নিয়ম মেনে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে বালু উত্তোলন করতে হবে। নদীর তীর বা পাড় কেটে বালু উত্তোলনের বিষয়ে প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনো অবস্থাতেই পরিবেশ বা নদীর ক্ষতি করে পাড় কাটা সহ্য করা হবে না।”
#জেলা প্রশাসনের বক্তব্য:
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তাপস শীল বলেন, “ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী যাদুকাটা-১ ও ২ বালুমহাল ইজারাদার নাছির মিয়াকে বালুমহালের দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ইজারার শর্ত ভঙ্গ কিংবা ‘বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন’ লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের কঠোর আইনি অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।”
আইন ও পরিবেশগত বিধিবিধান মেনে বালু উত্তোলন চালু রাখলে একদিকে যেমন সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে স্থানীয় লাখো শ্রমিকের টেকসই জীবিকা নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।




















