০৩:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

চাঁদা না পেয়ে সুনামগঞ্জে যুবককে কুপিয়ে জখম, অভিযুক্ত চিহ্নিত সন্ত্রাসী মিজান

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময়ঃ ০৩:১৫:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৩৯১ বার পড়া হয়েছে।

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ০৪ অক্টোবর ২০২৬

 

 

সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ গেটের সামনে চাঁদা না পেয়ে আরিফুল হক পিয়াস (২২) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাত করে মারাত্মক জখম করেছে মিজান আহমেদ (২৪) নামে এক চিহ্নিত সন্ত্রাসী। গত শনিবার (৩ অক্টোবর) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে কলেজ গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ছিনতাই ও হামলার পর পিয়াসের কাছে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত।

 

 

আহত আরিফুল হক পিয়াস সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব সুলতানপুর এলাকার দিনমজুর ফজলুল হকের ছেলে। তিনি সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবক (ভলান্টিয়ার সার্ভিসার) হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। বর্তমানে তিনি জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

 

অন্যদিকে অভিযুক্ত মিজান আহমেদ পশ্চিম সুলতানপুর খলিফাহাটি এলাকার মৃত আকিল মিয়ার ছেলে। তিনি এলাকায় ইয়াবাসেবী, মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাং লিডার হিসেবে পরিচিত।

 

 

যেভাবে ঘটে ঘটনা:

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, পিয়াস জেলা সদর হাসপাতালের রান্নাঘরের কাজ শেষ করে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাসায় ফিরছিলেন। সরকারি কলেজ গেট এলাকায় আগে থেকে ওৎপেতে থাকা মিজান তার পথরোধ করে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মিজান ধারালো ছুরি দিয়ে পিয়াসকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় পিয়াসের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে মিজান। স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় পিয়াসকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করান।

 

 

অপরাধের দীর্ঘ ইতিহাস:

এলাকাবাসী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মিজান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। তার বিরুদ্ধে হাসপাতালে হামলা, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ছিনতাইয়ের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

 

 

হাসপাতালে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড: জেলা সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত নার্স ও আয়াদের ওপর হামলা চালিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে মিানের বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক মামলা হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনদের মোবাইল এবং টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনাতেও সে যুক্ত।

ছিনতাই ও পথচলাচলের আতঙ্ক: স্থানীয় রিকশাচালকদের মতে, সন্ধ্যার পর সুলতানপুর এলাকায় যাত্রী নামিয়ে শহরে ফেরার পথে প্রায় প্রতি রাতেই রিকশাচালকদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয় মিজান।

 

কিশোর গ্যাং ও মাদকব্যবসা: এলাকায় কিশোর গ্যাং পরিচালনা, ইভটিজিং এবং ইয়াবা বিক্রির মূল হোতা হিসেবে মিজানের নাম উঠে এসেছে বলে জানান পাড়া-মহল্লার বাসিন্দারা।

 

 

পুলিশ প্রশাসনের কাছে আইনগত ব্যবস্থার দাবি:

এ ঘটনার পর সুলতানপুর ও কলেজ গেট এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে সন্ত্রাসী মিজানকে গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিরাপদ রাখতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল বৃদ্ধির আহ্বান জানান তারা।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

চাঁদা না পেয়ে সুনামগঞ্জে যুবককে কুপিয়ে জখম, অভিযুক্ত চিহ্নিত সন্ত্রাসী মিজান

আপডেট সময়ঃ ০৩:১৫:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ০৪ অক্টোবর ২০২৬

 

 

সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ গেটের সামনে চাঁদা না পেয়ে আরিফুল হক পিয়াস (২২) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাত করে মারাত্মক জখম করেছে মিজান আহমেদ (২৪) নামে এক চিহ্নিত সন্ত্রাসী। গত শনিবার (৩ অক্টোবর) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে কলেজ গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ছিনতাই ও হামলার পর পিয়াসের কাছে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত।

 

 

আহত আরিফুল হক পিয়াস সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব সুলতানপুর এলাকার দিনমজুর ফজলুল হকের ছেলে। তিনি সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবক (ভলান্টিয়ার সার্ভিসার) হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। বর্তমানে তিনি জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

 

অন্যদিকে অভিযুক্ত মিজান আহমেদ পশ্চিম সুলতানপুর খলিফাহাটি এলাকার মৃত আকিল মিয়ার ছেলে। তিনি এলাকায় ইয়াবাসেবী, মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাং লিডার হিসেবে পরিচিত।

 

 

যেভাবে ঘটে ঘটনা:

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, পিয়াস জেলা সদর হাসপাতালের রান্নাঘরের কাজ শেষ করে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাসায় ফিরছিলেন। সরকারি কলেজ গেট এলাকায় আগে থেকে ওৎপেতে থাকা মিজান তার পথরোধ করে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মিজান ধারালো ছুরি দিয়ে পিয়াসকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় পিয়াসের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে মিজান। স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় পিয়াসকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করান।

 

 

অপরাধের দীর্ঘ ইতিহাস:

এলাকাবাসী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মিজান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। তার বিরুদ্ধে হাসপাতালে হামলা, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ছিনতাইয়ের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

 

 

হাসপাতালে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড: জেলা সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত নার্স ও আয়াদের ওপর হামলা চালিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে মিানের বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক মামলা হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনদের মোবাইল এবং টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনাতেও সে যুক্ত।

ছিনতাই ও পথচলাচলের আতঙ্ক: স্থানীয় রিকশাচালকদের মতে, সন্ধ্যার পর সুলতানপুর এলাকায় যাত্রী নামিয়ে শহরে ফেরার পথে প্রায় প্রতি রাতেই রিকশাচালকদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয় মিজান।

 

কিশোর গ্যাং ও মাদকব্যবসা: এলাকায় কিশোর গ্যাং পরিচালনা, ইভটিজিং এবং ইয়াবা বিক্রির মূল হোতা হিসেবে মিজানের নাম উঠে এসেছে বলে জানান পাড়া-মহল্লার বাসিন্দারা।

 

 

পুলিশ প্রশাসনের কাছে আইনগত ব্যবস্থার দাবি:

এ ঘটনার পর সুলতানপুর ও কলেজ গেট এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে সন্ত্রাসী মিজানকে গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিরাপদ রাখতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল বৃদ্ধির আহ্বান জানান তারা।