০৪:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতের বিল ৫০৬ কোটি টাকা, হতবাক গ্রাহক—নেপথ্যে কী?

রিপোর্টার নামঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৩:৩৬:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২১ বার পড়া হয়েছে।

 

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

 

মাগুরায় মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক গ্রাহকের নামে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিল ইস্যু করার ঘটনা ঘটেছে। মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অদ্ভুত ও অবিশ্বাস্য এই বিলে চরম বিস্মিত ও চিন্তিত হয়ে পড়েছেন ভূক্তভোগী গ্রাহক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

ঘটনাটি ঘটেছে মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামে। সেখানকার মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে চলতি সেপ্টেম্বর মাসের বিদ্যুতের বিলে এই ভূতুড়ে বকেয়া ও চার্জ যুক্ত করা হয়েছে।

 

প্রাপ্ত বিদ্যুৎ বিলের তথ্যসূত্রে জানা যায়, গ্রাহকের শ্রেণি হিসেবে ‘এলটি-এ (আবাসিক)’ উল্লেখ রয়েছে। বিলে গত ৮ আগস্ট মিটারের পূর্ববর্তী রিডিং ছিল ১৬০ এবং ৮ সেপ্টেম্বর বর্তমান রিডিং ৩৯৫ ইউনিট দেখানো হয়। সে হিসাবে এক মাসে মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৩৫ ইউনিট। ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতের স্বাভাবিক ব্যবহারের নিয়ম অনুযায়ী প্রকৃত বিলের পরিমাণ ১ হাজার ৯৬৩ টাকা, যা বিলম্ব মাশুলসহ ২ হাজার ৫৬ টাকা হওয়ার কথা।

 

 

তবে অলৌকিকভাবে ২৩৫ ইউনিটের মূল চার্জের সঙ্গে ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা ডিমান্ড চার্জ যুক্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট ও ১০ টাকা মিটার ভাড়া যোগ করে সর্বমোট বিল দাঁড়ায় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা। বিলে আরও উল্লেখ করা হয়, নির্ধারিত তারিখের মধ্যে বিল পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ গ্রাহককে পরিশোধ করতে হবে ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা।

 

গত ১০ সেপ্টেম্বর ইস্যু করা এই বিলটির পরিশোধের শেষ সময় নির্ধারণ করা ছিল আজ ২৯ সেপ্টেম্বর।

 

 

ভূক্তভোগী গ্রাহক আলেয়া খাতুন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “এত বড় অঙ্কের বিল দেখে আমরা স্তম্ভিত ও দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছি। বিদ্যুৎ বিভাগের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ভুলের কারণে সাধারণ গ্রাহকদের চরম মানসিক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।”

 

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম বিষয়টিকে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল হিসেবে স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, যান্ত্রিক বা কারিগরি বিভ্রাটের কারণে এই অসঙ্গতি তৈরি হয়েছে এবং এটি দ্রুত সংশোধন করে গ্রাহককে নতুন বিল প্রদান করা হবে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতের বিল ৫০৬ কোটি টাকা, হতবাক গ্রাহক—নেপথ্যে কী?

আপডেট সময়ঃ ০৩:৩৬:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

 

মাগুরায় মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক গ্রাহকের নামে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিল ইস্যু করার ঘটনা ঘটেছে। মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অদ্ভুত ও অবিশ্বাস্য এই বিলে চরম বিস্মিত ও চিন্তিত হয়ে পড়েছেন ভূক্তভোগী গ্রাহক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

ঘটনাটি ঘটেছে মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামে। সেখানকার মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে চলতি সেপ্টেম্বর মাসের বিদ্যুতের বিলে এই ভূতুড়ে বকেয়া ও চার্জ যুক্ত করা হয়েছে।

 

প্রাপ্ত বিদ্যুৎ বিলের তথ্যসূত্রে জানা যায়, গ্রাহকের শ্রেণি হিসেবে ‘এলটি-এ (আবাসিক)’ উল্লেখ রয়েছে। বিলে গত ৮ আগস্ট মিটারের পূর্ববর্তী রিডিং ছিল ১৬০ এবং ৮ সেপ্টেম্বর বর্তমান রিডিং ৩৯৫ ইউনিট দেখানো হয়। সে হিসাবে এক মাসে মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৩৫ ইউনিট। ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতের স্বাভাবিক ব্যবহারের নিয়ম অনুযায়ী প্রকৃত বিলের পরিমাণ ১ হাজার ৯৬৩ টাকা, যা বিলম্ব মাশুলসহ ২ হাজার ৫৬ টাকা হওয়ার কথা।

 

 

তবে অলৌকিকভাবে ২৩৫ ইউনিটের মূল চার্জের সঙ্গে ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা ডিমান্ড চার্জ যুক্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট ও ১০ টাকা মিটার ভাড়া যোগ করে সর্বমোট বিল দাঁড়ায় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা। বিলে আরও উল্লেখ করা হয়, নির্ধারিত তারিখের মধ্যে বিল পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ গ্রাহককে পরিশোধ করতে হবে ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা।

 

গত ১০ সেপ্টেম্বর ইস্যু করা এই বিলটির পরিশোধের শেষ সময় নির্ধারণ করা ছিল আজ ২৯ সেপ্টেম্বর।

 

 

ভূক্তভোগী গ্রাহক আলেয়া খাতুন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “এত বড় অঙ্কের বিল দেখে আমরা স্তম্ভিত ও দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছি। বিদ্যুৎ বিভাগের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ভুলের কারণে সাধারণ গ্রাহকদের চরম মানসিক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।”

 

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম বিষয়টিকে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল হিসেবে স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, যান্ত্রিক বা কারিগরি বিভ্রাটের কারণে এই অসঙ্গতি তৈরি হয়েছে এবং এটি দ্রুত সংশোধন করে গ্রাহককে নতুন বিল প্রদান করা হবে।