০৪:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

১৬ ডিসেম্বর থেকে বন্ধ হচ্ছে অননুমোদিত মোবাইল ফোন ব্যবহার

হক বার্তা ডেস্ক
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:৩১:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫
  • / ১৫৮ বার পড়া হয়েছে।

দেশে অবৈধভাবে আমদানিকৃত ও নিবন্ধনবিহীন মোবাইল ফোনের ব্যবহার রোধে আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে চালু হতে যাচ্ছে ন্যাশনাল ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর)। এই সিস্টেম চালু হওয়ার পর থেকে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে কোনো অননুমোদিত বা নিবন্ধনহীন মোবাইল ফোন আর ব্যবহার করা যাবে না।

বুধবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

তিনি বলেন, “এনইআইআর চালুর মাধ্যমে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে এটি এমন একটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা, যেখানে প্রতিটি মোবাইল ফোনের আন্তর্জাতিকভাবে অনুমোদিত আইএমইআই নম্বর ব্যবহারকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ব্যবহৃত সিম কার্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।”

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব আরও জানান, এই উদ্যোগের ফলে সহজেই বৈধ ও অবৈধ ফোন শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে নকল ও অবৈধভাবে আমদানি করা ফোনের ব্যবহার বন্ধ হবে, ফলে সরকার প্রতিবছর বিপুল রাজস্ব ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে এবং দেশীয় মোবাইল উৎপাদন শিল্প সুরক্ষা পাবে।

তিনি বলেন, “এনইআইআর শুধু একটি প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নয়, এটি নাগরিক নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা এবং টেলিযোগাযোগ খাতের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার একটি জাতীয় অঙ্গীকার।”

এই ব্যবস্থার মাধ্যমে চুরি বা অপরাধে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন দ্রুত শনাক্ত করে ব্লক করা সম্ভব হবে, যা অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, এনইআইআর বাস্তবায়নে বিটিআরসির পাশাপাশি দেশের চার মোবাইল অপারেটর— গ্রামীণফোন, রবি আজিয়াটা, বাংলালিংক ও টেলিটক— নিজেদের ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (ইআইআর) সিস্টেম উন্নয়নে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগ মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) জালিয়াতি, সিম প্রতারণা ও বিভিন্ন স্ক্যাম প্রতিরোধেও সহায়ক হবে। এতে ইকেওয়াইসি (eKYC) যাচাই আরও শক্তিশালী হবে, টেলিকম খাতের নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে এবং রাজস্ব আদায়ও বাড়বে।

সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মী ও অপারেটরদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “১৬ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশের টেলিকম খাত একটি নতুন, নিরাপদ ও স্বচ্ছ যুগে প্রবেশ করবে। তাই সবাইকে বৈধ হ্যান্ডসেট ব্যবহারে উৎসাহিত করতে সচেতনতা বাড়াতে হবে।”

উক্ত অনুষ্ঠানে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী সহ কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

১৬ ডিসেম্বর থেকে বন্ধ হচ্ছে অননুমোদিত মোবাইল ফোন ব্যবহার

আপডেট সময়ঃ ০৬:৩১:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

দেশে অবৈধভাবে আমদানিকৃত ও নিবন্ধনবিহীন মোবাইল ফোনের ব্যবহার রোধে আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে চালু হতে যাচ্ছে ন্যাশনাল ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর)। এই সিস্টেম চালু হওয়ার পর থেকে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে কোনো অননুমোদিত বা নিবন্ধনহীন মোবাইল ফোন আর ব্যবহার করা যাবে না।

বুধবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

তিনি বলেন, “এনইআইআর চালুর মাধ্যমে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে এটি এমন একটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা, যেখানে প্রতিটি মোবাইল ফোনের আন্তর্জাতিকভাবে অনুমোদিত আইএমইআই নম্বর ব্যবহারকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ব্যবহৃত সিম কার্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।”

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব আরও জানান, এই উদ্যোগের ফলে সহজেই বৈধ ও অবৈধ ফোন শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে নকল ও অবৈধভাবে আমদানি করা ফোনের ব্যবহার বন্ধ হবে, ফলে সরকার প্রতিবছর বিপুল রাজস্ব ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে এবং দেশীয় মোবাইল উৎপাদন শিল্প সুরক্ষা পাবে।

তিনি বলেন, “এনইআইআর শুধু একটি প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নয়, এটি নাগরিক নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা এবং টেলিযোগাযোগ খাতের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার একটি জাতীয় অঙ্গীকার।”

এই ব্যবস্থার মাধ্যমে চুরি বা অপরাধে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন দ্রুত শনাক্ত করে ব্লক করা সম্ভব হবে, যা অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, এনইআইআর বাস্তবায়নে বিটিআরসির পাশাপাশি দেশের চার মোবাইল অপারেটর— গ্রামীণফোন, রবি আজিয়াটা, বাংলালিংক ও টেলিটক— নিজেদের ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (ইআইআর) সিস্টেম উন্নয়নে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগ মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) জালিয়াতি, সিম প্রতারণা ও বিভিন্ন স্ক্যাম প্রতিরোধেও সহায়ক হবে। এতে ইকেওয়াইসি (eKYC) যাচাই আরও শক্তিশালী হবে, টেলিকম খাতের নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে এবং রাজস্ব আদায়ও বাড়বে।

সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মী ও অপারেটরদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “১৬ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশের টেলিকম খাত একটি নতুন, নিরাপদ ও স্বচ্ছ যুগে প্রবেশ করবে। তাই সবাইকে বৈধ হ্যান্ডসেট ব্যবহারে উৎসাহিত করতে সচেতনতা বাড়াতে হবে।”

উক্ত অনুষ্ঠানে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী সহ কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।