থমকে যাওয়া চাকা আবার ঘুরবেঃ প্রধানমন্ত্রী
বন্ধ কল-কারখানাগুলো সচল করতে সরকারের মহাপরিকল্পনা
- আপডেট সময়ঃ ০৭:১৬:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
- / ১৮ বার পড়া হয়েছে।
দেশের শিল্পখাতে বইতে শুরু করেছে পরিবর্তনের হাওয়া। দীর্ঘ দিন ধরে তালাবদ্ধ থাকা কলকারখানাগুলোর গেট আবারও খোলার অপেক্ষায় রয়েছে হাজার হাজার শ্রমিক।
দেশের ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে এবং বেকারত্ব দূর করতে বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পর্যায়ক্রমে পুনরায় চালু করার এক সাহসী ও সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, শিল্পায়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। আর সেই লক্ষ্য পূরণেই যেসব কলকারখানা নানা জটিলতায় বন্ধ হয়ে পড়ে আছে, সেগুলোকে চিহ্নিত করে পুনরায় উৎপাদনের ধারায় ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু হয়েছে।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো—আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো এবং রপ্তানি আয়কে আরও শক্তিশালী করা।
সহজ শর্তে ঋণ ও বিশেষ তহবিলঃ
বন্ধ কারখানাগুলো চালুর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে কাজ করে পুঁজির অভাব। এই সংকট সমাধানে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি বিশেষ ‘পুনঃঅর্থায়ন তহবিল’ বা রিফাইন্যান্স স্কিম গঠনের পরিকল্পনা করছে। এই প্রকল্পের আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প উদ্যোক্তারা অত্যন্ত সহজ শর্তে এবং স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা পাবেন।
তবে এক্ষেত্রে সরকার কড়া অবস্থানে রয়েছে; যারা অতীতে ইচ্ছাকৃতভাবে খেলাপি হয়েছেন কিংবা অর্থপাচারের মতো জঘন্য অপরাধে জড়িত ছিলেন, তারা কোনোভাবেই এই সুবিধার আওতায় আসবেন না। প্রকৃত ও সৎ উদ্যোক্তারাই পাবেন এই সরকারি সহায়তার অগ্রাধিকার।
রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পে আধুনিকায়নের ছোঁয়াঃ
বেসরকারি খাতের পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত বন্ধ কলকারখানাগুলো নিয়েও নেওয়া হয়েছে বড় পরিকল্পনা। বিশেষ করে দেশের ঐতিহ্যবাহী পাটকল, চিনিকল এবং সিল্ক কারখানাগুলো চালুর বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে অন্তত ছয়টি বড় পাটকল পুনরায় সচল করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের সমন্বয়ে এই কারখানাগুলোতে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং দক্ষ জনবল নিয়োগ করা হবে।
কর্মসংস্থান ও শ্রমিকের ভাগ্য বদলঃ
কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন সাধারণ শ্রমিকরা। নতুন এই উদ্যোগের ফলে হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে। সরকার কেবল কারখানা চালুই নয়, বরং শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং উন্নত জীবনমান নিশ্চিত করার দিকেও বিশেষ নজর দিচ্ছে। শিল্প এলাকায় আবার চাঞ্চল্য ফিরবে—এমনটাই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, “এটি কেবল কলকারখানা চালুর বিষয় নয়, বরং এটি দেশের সামগ্রিক সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ।” তাদের মতে, সঠিক তদারকি এবং দুর্নীতিরোধ করা সম্ভব হলে এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে এবং বিশ্ববাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের অবস্থান আরও সুসংহত হবে।
একটি সমৃদ্ধ এবং শিল্পনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার পথে এই উদ্যোগটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সকলেই। এখন কেবল অপেক্ষা—কখন সাইরেন বেজে উঠবে সেই পুরনো কারখানাগুলোতে আর নতুন ভোরে কাজে ফিরবেন শ্রমজীবী মানুষেরা।










