০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬

জলমহাল পাহারা দিতে গিয়ে সশরীরে হামলার শিকার দুই পাহারাদার, থানায় মামলা দায়ের

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময়ঃ ০৪:৫২:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৪৪ বার পড়া হয়েছে।

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ০৩ অক্টোবর ২০২৬

 

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের নোয়াগাঁও এলাকায় একটি ইজারাকৃত জলমহাল পাহারা দিতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় দুইজন পাহারাদার গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতরা হলেন— মো. দিলসাদ ও জমির হোসেন। তাদের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম রয়েছে বলে জানা গেছে।

 

 

এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী মো. দিলসাদ বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার প্রধান আসামিরা হলেন— সালাম ওরফে শাহ আলম, ফয়জুরনুর, গোলাম রব্বানী ও সোহাগ মিয়া।

 

 

মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীরা দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট জলমহালে পাহারাদারের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। এর আগে আসামিপক্ষের কয়েকজন উক্ত জলমহালে অবৈধভাবে মাছ চুরি ও শিকারের চেষ্টা করলে পাহারাদাররা তাতে বাধা দেন এবং তাদের মাছ ধরার সরঞ্জাম জব্দ করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের সৃষ্টি হয়।

 

 

গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে বাদী ও অন্য পাহারাদাররা নোয়াগাঁও এলাকায় ১ নম্বর আসামির বাড়ির সংলগ্ন সরকারি রাস্তা দিয়ে জলমহালে ডিউটিতে যাওয়ার সময় আসামিরা সুসংগঠিত হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

 

 

অভিযোগে বলা হয়, প্রধান আসামি সালাম ওরফে শাহ আলমের প্রত্যক্ষ নির্দেশে হামলাকারীরা রামদা, লোহার রড ও লাঠি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এসময় রামদার কোপে দিলসাদের মাথার তালু ও পেছনের অংশে গুরুতর কাটা জখম হয়, যেখানে চিকিৎসকদের পরবর্তীতে ২৩টি সেলাই দিতে হয়েছে। একইসাথে অন্য আসামি ফয়জুরনুরের রামদার আঘাতে তার মাথার বাম পাশে আরও একটি গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়, যা সারিয়ে তুলতে ১০টি সেলাই লাগে।

 

 

সহকর্মী দিলসাদকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে অন্য পাহারাদার জমির হোসেনের ওপরও হামলা চালানো হয়। রডের আঘাত হাত দিয়ে ফেরাতে গেলে তার বাম কবজিতে মারাত্মক হাড়ভাঙা জখম হয়। পরবর্তীতে দুজনকেই রড ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করা হয়।

ঘটনার বিস্তারিত জানতে অভিযুক্তদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

 

 

তবে গৌরারং ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য শাহাব উদ্দিন অভিযোগের সততা নিশ্চিত করে জানান, “আসামি শাহ আলম ও তার অনুসারীরা দীর্ঘদিন ধরে জলমহালে নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছে। খলায় চুরি ও ডাকাতি করা তাদের নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। পাহারাদার দিলসাদ মিয়া জলমহালের মালিককে এদের চুরির বিষয় অবহিত করায় তার ওপর এই নৃশংস হামলা চালানো হয়। এলাকায় শাহ আলমের অপকর্মে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ।”

 

 

সার্বিক বিষয়ের অগ্রগতি জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন সেখ জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত অভিযুক্ত আসামিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

জলমহাল পাহারা দিতে গিয়ে সশরীরে হামলার শিকার দুই পাহারাদার, থানায় মামলা দায়ের

আপডেট সময়ঃ ০৪:৫২:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ০৩ অক্টোবর ২০২৬

 

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের নোয়াগাঁও এলাকায় একটি ইজারাকৃত জলমহাল পাহারা দিতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় দুইজন পাহারাদার গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতরা হলেন— মো. দিলসাদ ও জমির হোসেন। তাদের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম রয়েছে বলে জানা গেছে।

 

 

এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী মো. দিলসাদ বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার প্রধান আসামিরা হলেন— সালাম ওরফে শাহ আলম, ফয়জুরনুর, গোলাম রব্বানী ও সোহাগ মিয়া।

 

 

মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীরা দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট জলমহালে পাহারাদারের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। এর আগে আসামিপক্ষের কয়েকজন উক্ত জলমহালে অবৈধভাবে মাছ চুরি ও শিকারের চেষ্টা করলে পাহারাদাররা তাতে বাধা দেন এবং তাদের মাছ ধরার সরঞ্জাম জব্দ করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের সৃষ্টি হয়।

 

 

গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে বাদী ও অন্য পাহারাদাররা নোয়াগাঁও এলাকায় ১ নম্বর আসামির বাড়ির সংলগ্ন সরকারি রাস্তা দিয়ে জলমহালে ডিউটিতে যাওয়ার সময় আসামিরা সুসংগঠিত হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

 

 

অভিযোগে বলা হয়, প্রধান আসামি সালাম ওরফে শাহ আলমের প্রত্যক্ষ নির্দেশে হামলাকারীরা রামদা, লোহার রড ও লাঠি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এসময় রামদার কোপে দিলসাদের মাথার তালু ও পেছনের অংশে গুরুতর কাটা জখম হয়, যেখানে চিকিৎসকদের পরবর্তীতে ২৩টি সেলাই দিতে হয়েছে। একইসাথে অন্য আসামি ফয়জুরনুরের রামদার আঘাতে তার মাথার বাম পাশে আরও একটি গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়, যা সারিয়ে তুলতে ১০টি সেলাই লাগে।

 

 

সহকর্মী দিলসাদকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে অন্য পাহারাদার জমির হোসেনের ওপরও হামলা চালানো হয়। রডের আঘাত হাত দিয়ে ফেরাতে গেলে তার বাম কবজিতে মারাত্মক হাড়ভাঙা জখম হয়। পরবর্তীতে দুজনকেই রড ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করা হয়।

ঘটনার বিস্তারিত জানতে অভিযুক্তদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

 

 

তবে গৌরারং ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য শাহাব উদ্দিন অভিযোগের সততা নিশ্চিত করে জানান, “আসামি শাহ আলম ও তার অনুসারীরা দীর্ঘদিন ধরে জলমহালে নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছে। খলায় চুরি ও ডাকাতি করা তাদের নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। পাহারাদার দিলসাদ মিয়া জলমহালের মালিককে এদের চুরির বিষয় অবহিত করায় তার ওপর এই নৃশংস হামলা চালানো হয়। এলাকায় শাহ আলমের অপকর্মে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ।”

 

 

সার্বিক বিষয়ের অগ্রগতি জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন সেখ জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত অভিযুক্ত আসামিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।