ছেলে-পুত্রবধূকে চাকরি না দেওয়ায় স্কুলের মাঠে কলাগাছ লাগালেন জমিদাতা, শিক্ষকদের কার্যালয়ে তালা
- আপডেট সময়ঃ ০২:১৩:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
- / ৬৭ বার পড়া হয়েছে।
হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;
সুনামগঞ্জ ।। ০৪ অক্টোবর ২০২৬
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় জমিদাতা কর্তৃক একটি বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া এবং বিদ্যালয়ের মাঠে কলাগাছ লাগানোর এক অভিনব ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। ছেলে ও পুত্রবধূকে চাকরি না দেওয়ার অভিযোগ তুলে শনিবার (সাপ্তাহিক ছুটির দিন) ‘ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুল’-এ এই ঘটনা ঘটান জমির দাতা সদস্য আজাদ আলী।
স্থানীয় সূত্র ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, শনিবার আজাদ আলী কয়েকজন লোককে সঙ্গে নিয়ে এসে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে বাঁশের বেড়া দেন এবং মাঠে বেশ কয়েকটি কলাগাছ রোপণ করেন। একই সঙ্গে শিক্ষকদের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এতে বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি নলকূপের পানি ব্যবহারসহ দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যায় পড়েছেন স্থানীয়রা।
প্রেক্ষাপট ও নাম পরিবর্তন:
২০১৫ সালে পুঠিয়া উপজেলার ভালুকগাছি গ্রামে ‘মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ নামে প্রতিষ্ঠানটি স্থাপন করা হয়। পরে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনায় প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে ‘ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুল’ রাখা হয়। ব্যবস্থাপনা কমিটির রেজুলেশন অনুযায়ী, দাতা সদস্য আজাদ আলী নিজেই এই নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছিলেন। ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর পাঠদানের অনুমতি পাওয়া বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে পাঠদান চলছে।
অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ:
দাতা সদস্য আজাদ আলীর দাবি, “এখানে টেকনিক্যাল কলেজ করার কথা ছিল এবং আমার ছেলে ও ছেলের বউকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে জমি দিয়েছিলাম। কিন্তু নির্ধারিত নামে প্রতিষ্ঠান করা হয়নি এবং প্রত্যাশিত চাকরিও দেওয়া হয়নি। তাই বিদ্যালয়ে তালা দিয়ে মাঠে কলাগাছ লাগিয়েছি।”
তবে জমিদাতার এই অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা বলেন, “আজাদ আলী শুরুতে নিঃশর্তভাবেই জমি দান করেছিলেন। পরে জমি রেজিস্ট্রি করার সময় তিনি ভোকেশনাল শাখায় ছেলে এবং কলেজ শাখায় ছেলের বউয়ের চাকরি দাবি করলে কমিটি তাতে সম্মতি দেয়। পরবর্তীতে তার ছেলের বউকে প্রাথমিক শাখায় সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি দেওয়া হয়, যিনি ২০২২ সালে মারা যান।”
প্রধান শিক্ষক আরও জানান, ছেলের দ্বিতীয় বিয়ের পর আজাদ আলী নতুন পুত্রবধূর জন্য মাধ্যমিক শাখায় কেরানি পদ এবং ছেলের জন্য অন্য একটি পদ দাবি করেন, যা রেজুলেশনের মাধ্যমে মেনে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর তিনি আদালতে নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত একটি মামলা ঠুকে দেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও ভালুকগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, গত মাসেই রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমোদন দিয়েছে। বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান চলছে এবং এভাবে জোরপূর্বক বিদ্যালয় বন্ধ করা আইনসম্মত নয়।
ঘটনার বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান জানান, রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমে জমিটি এখন সম্পূর্ণভাবে স্কুলের নামে রয়েছে, যা কেবল আদালতের রায়ের মাধ্যমেই বাতিল হতে পারে।
ইউএনও স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত দলিল বহাল আছে, ততক্ষণ বিদ্যালয়ে তালা ঝুলানো বা কলাগাছ রোপণ করে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত করার কোনো সুযোগ নেই। দ্রুতই বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে কলাগাছ অপসারণ এবং তালা খুলে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”














