০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

‎‎যাদুকাটা, রক্তি ও পাটলাই নদীতে বাড়তি টোল: বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও আল্টিমেটাম

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময়ঃ ০৪:৫৬:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
  • / ১৮ বার পড়া হয়েছে।

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা, রুক্তি ও পাটলাই নদীতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর টোল আদায়ের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন নৌ মালিক সমিতি, স্টোনক্রাশার মালিক সমিতির সদস্য এবং ভুক্তভোগী নৌ-শ্রমিকরা।

‎বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার যাদুকাটা নদীর তীরবর্তী পাঠানপাড়া খেয়াঘাট এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নৌ মালিক, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা অংশ নেন।

‎মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকার নির্ধারিত প্রতি সেফটিতে ৫০ পয়সা টোল আদায়ের বিধান থাকলেও ফাজিলপুর ও কামালপুর টোল ঘাটে ইজারাদার ও তাদের লোকজন জোরপূর্বক প্রতি সেফটিতে ৩ টাকা করে আদায় করছেন। নির্ধারিত অর্থের বাইরে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নৌকা আটকে রাখা, শ্রমিকদের মারধর এবং ব্যবসায়ীদের হয়রানির ঘটনাও ঘটছে বলে তারা দাবি করেন।

‎বক্তারা আরও বলেন, প্রতিটি টোল আদায় কেন্দ্রেই সরকার নির্ধারিত টোলের তালিকা ও সাইনবোর্ড দৃশ্যমান থাকার কথা থাকলেও অধিকাংশ স্থানে তা নেই। ফলে ইজারাদারের লোকজন ইচ্ছামতো অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন।

‎তাদের ভাষ্য, অতিরিক্ত টোল আদায়ের প্রতিবাদে এক সপ্তাহ আগে নৌ মালিক সমিতি অনির্দিষ্টকালের নৌ ধর্মঘটের ডাক দিলে স্থানীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল এবং তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিকের উদ্যোগে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে সরকার নির্ধারিত প্রতি সেফটিতে ৫০ পয়সা হারে টোল আদায়ের সিদ্ধান্ত হয়। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, মাত্র দুই দিন পরই ইজারাদারের লোকজন আবারও অতিরিক্ত টোল আদায় শুরু করে।

‎বক্তারা বলেন, “আমরা এলসি’র মাধ্যমে পাথর এনে সরকারকে নিয়মিত ট্যাক্স ও ভ্যাট পরিশোধ করি। কিন্তু যাদুকাটা ও পাটলাই নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে টোলের নামে অতিরিক্ত চাঁদা দিতে দিতে আমাদের ব্যবসা ধ্বংসের পথে। এখন আমাদের পেটে ভাত নেই, পরনে কাপড় নেই।”

‎তারা অতিরিক্ত টোল আদায় অবিলম্বে বন্ধে স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সঙ্গে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পুনরায় নৌ ধর্মঘটসহ কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

‎মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নৌ মালিক সমিতির সদস্য ও স্টোনক্রাশার মালিক সমিতির সহ-সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী অলি ইসলাম, নৌ মালিক সমিতি ও স্টোনক্রাশার মালিক সমিতির সদস্য বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নবী নূর, জাহিদুল ইসলাম, নৌ মালিক সমিতির সদস্য বাসির মিয়া, স্টোনক্রাশার মালিক সমিতির সদস্য মুহাম্মদ নুরুদ্দিনসহ নৌ-শ্রমিক প্রতিনিধিরা।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

‎‎যাদুকাটা, রক্তি ও পাটলাই নদীতে বাড়তি টোল: বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও আল্টিমেটাম

আপডেট সময়ঃ ০৪:৫৬:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা, রুক্তি ও পাটলাই নদীতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর টোল আদায়ের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন নৌ মালিক সমিতি, স্টোনক্রাশার মালিক সমিতির সদস্য এবং ভুক্তভোগী নৌ-শ্রমিকরা।

‎বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার যাদুকাটা নদীর তীরবর্তী পাঠানপাড়া খেয়াঘাট এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নৌ মালিক, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা অংশ নেন।

‎মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকার নির্ধারিত প্রতি সেফটিতে ৫০ পয়সা টোল আদায়ের বিধান থাকলেও ফাজিলপুর ও কামালপুর টোল ঘাটে ইজারাদার ও তাদের লোকজন জোরপূর্বক প্রতি সেফটিতে ৩ টাকা করে আদায় করছেন। নির্ধারিত অর্থের বাইরে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নৌকা আটকে রাখা, শ্রমিকদের মারধর এবং ব্যবসায়ীদের হয়রানির ঘটনাও ঘটছে বলে তারা দাবি করেন।

‎বক্তারা আরও বলেন, প্রতিটি টোল আদায় কেন্দ্রেই সরকার নির্ধারিত টোলের তালিকা ও সাইনবোর্ড দৃশ্যমান থাকার কথা থাকলেও অধিকাংশ স্থানে তা নেই। ফলে ইজারাদারের লোকজন ইচ্ছামতো অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন।

‎তাদের ভাষ্য, অতিরিক্ত টোল আদায়ের প্রতিবাদে এক সপ্তাহ আগে নৌ মালিক সমিতি অনির্দিষ্টকালের নৌ ধর্মঘটের ডাক দিলে স্থানীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল এবং তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিকের উদ্যোগে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে সরকার নির্ধারিত প্রতি সেফটিতে ৫০ পয়সা হারে টোল আদায়ের সিদ্ধান্ত হয়। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, মাত্র দুই দিন পরই ইজারাদারের লোকজন আবারও অতিরিক্ত টোল আদায় শুরু করে।

‎বক্তারা বলেন, “আমরা এলসি’র মাধ্যমে পাথর এনে সরকারকে নিয়মিত ট্যাক্স ও ভ্যাট পরিশোধ করি। কিন্তু যাদুকাটা ও পাটলাই নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে টোলের নামে অতিরিক্ত চাঁদা দিতে দিতে আমাদের ব্যবসা ধ্বংসের পথে। এখন আমাদের পেটে ভাত নেই, পরনে কাপড় নেই।”

‎তারা অতিরিক্ত টোল আদায় অবিলম্বে বন্ধে স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সঙ্গে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পুনরায় নৌ ধর্মঘটসহ কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

‎মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নৌ মালিক সমিতির সদস্য ও স্টোনক্রাশার মালিক সমিতির সহ-সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী অলি ইসলাম, নৌ মালিক সমিতি ও স্টোনক্রাশার মালিক সমিতির সদস্য বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নবী নূর, জাহিদুল ইসলাম, নৌ মালিক সমিতির সদস্য বাসির মিয়া, স্টোনক্রাশার মালিক সমিতির সদস্য মুহাম্মদ নুরুদ্দিনসহ নৌ-শ্রমিক প্রতিনিধিরা।