০৮:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

১৫০ ভরি স্বর্ণ ডাকাতির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধ, খুন হন যুবদল নেতা সাকের

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময়ঃ ১২:০০:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • / ২২ বার পড়া হয়েছে।

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট:

সুনামগঞ্জ ।।০৫ নভেম্বর ২০২৬

 

 

মাগুরায় বহুল আলোচিত ১৫০ ভরি স্বর্ণ ডাকাতি এবং পৌর যুবদল নেতা সাকের হোসেন (৩৬) হত্যাকাণ্ডের মধ্যে সুস্পষ্ট যোগসূত্র পেয়েছে পুলিশ। মূলত লুট করা স্বর্ণের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধের জের ধরেই সাকেরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় মূখ্য ভূমিকা পালন করেন মারুফ হোসেন এবং তা বাস্তবায়নে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গোলাম জাহিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২০ লাখ টাকা পাঠানো হয়।

 

 

বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে মাগুরা পুলিশ লাইনে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এসব বিস্ফোরক তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোল্লা আজাদ হোসেন, পিপিএম।

 

ডাকাতি থেকে হত্যাকাণ্ড: নেপথ্যের ঘটনাপঞ্জি_

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ৬ অক্টোবর। সেদিন দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে মাগুরা সদর উপজেলার রামনগর বাজার এলাকায় ‘গোল্ডেন লাইন পরিবহনে’ পুলিশ পরিচয়ে ১২ থেকে ১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল ওঠে। তারা স্বর্ণ ব্যবসায়ী মো. মজিবর রহমানকে বাস থেকে জোরপূর্বক নামিয়ে হলিনগর গ্রামের একটি মেহগনিবাগানে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আনুমানিক ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা মূল্যের ১৫০ ভরি স্বর্ণ এবং নগদ ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।

 

ডাকাতির পর সমস্ত স্বর্ণ নিজের জিম্মায় রাখেন মারুফ হোসেন। তবে ডাকাত দলের সদস্য পৌর যুবদল নেতা সাকের হোসেন নিজের অংশের স্বর্ণ বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য মারুফকে ক্রমাগত চাপ দিতে থাকেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়।

 

পরবর্তীতে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য মধ্যস্থতায় এগিয়ে আসেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গোলাম জাহিদ। তাঁর মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সাকেরকে ৫ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। মারুফ সাকেরকে ৫ লাখ টাকা পরিশোধ করলেও সাকের এতে সন্তুষ্ট হননি এবং স্বর্ণের মূল অংশ দেওয়ার দাবিতে অনড় থাকেন।

 

২০ লাখ টাকার চুক্তি ও সাকের হত্যা:

সাকেরের অব্যাহত চাপে ক্ষুব্ধ হয়ে মারুফ হোসেন তাঁকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পুলিশের ভাষ্যমতে, মারুফ এ বিষয়ে গোলাম জাহিদের সঙ্গে পরামর্শ করেন এবং সাকেরকে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য গোলাম জাহিদের যমুনা ব্যাংকের হিসাবে ২০ লাখ টাকা ট্রান্সফার করেন। অর্থ লেনদেনের পরই সাকেরকে হত্যার চূড়ান্ত নীলকশ বাস্তবায়ন করা হয়।

 

গত ২১ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারে সাকের হোসেন অবস্থান করছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে এসে দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে মাথায় গুলি চালিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শারমিনাহার রুমা বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

 

পুলিশের সফল অভিযান ও উদ্ধার:

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থান্দার খায়রুল হাসান, পিপিএমের নেতৃত্বে পরিচালিত জোরালো অভিযানে পৃথক দুই মামলায় জড়িত মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে:

ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তার (৭ জন): মো. জুয়েল হোসেন (৪৭), তৌকির আহমেদ (২৫), মো. ফরিদ মণ্ডল (৫৯), মো. মিল্টন মোল্যা (৩৫), মারুফা আক্তার (৩২), মো. গোলাম জাহিদ (৪৫) ও মো. মারুফ হোসেন (৪৪)।

 

হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার (৬ জন – যৌথ আসামি সহ): রনি শিকদার (৩৮), শামীমা তাবাসসুম (৩১), অনিমেষ মজুমদার (৫৫), মো. মারুফ হোসেন (৪৪), মো. গোলাম জাহিদ (৪৫) ও বশির আলী (৩৫)।

 

আলামত ও স্বর্ণ উদ্ধার:

অভিযানকালে আসামীদের কাছ থেকে মোট ৬১ ভরি ৬ আনা (৭১৬.৪৬ গ্রাম) স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে (ডাকাতি মামলায় ৯ ভরি ৭ আনা ৫ রতি ও হত্যা মামলায় ৫১.৯ ভরি)। এছাড়াও আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়েছে বুলেট, খালি কার্তুজ, ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি টয়োটা ভিটজ গাড়ি এবং ইয়ামাহা এক্সএসআর ও পালসার মডেলের দুটি মোটরসাইকেল।

 

স্বীকারোক্তি ও আইনি পদক্ষেপ:

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার গোলাম জাহিদ ইতোমধ্যে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, যেখানে তিনি ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ডের পুরো পরিকল্পনা ও অর্থ লেনদেনের বিষয়াটি স্বীকার করেছেন।

 

সংবাদ সম্মেলনের শেষভাগে পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, ডাকাতি থেকে শুরু করে হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে পুরো মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করে আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আসামীদের অপরাধের চূড়ান্ত সত্যতা ও শাস্তি নির্ধারিত হবে।

 

সূত্র: channel 24

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

১৫০ ভরি স্বর্ণ ডাকাতির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধ, খুন হন যুবদল নেতা সাকের

আপডেট সময়ঃ ১২:০০:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট:

সুনামগঞ্জ ।।০৫ নভেম্বর ২০২৬

 

 

মাগুরায় বহুল আলোচিত ১৫০ ভরি স্বর্ণ ডাকাতি এবং পৌর যুবদল নেতা সাকের হোসেন (৩৬) হত্যাকাণ্ডের মধ্যে সুস্পষ্ট যোগসূত্র পেয়েছে পুলিশ। মূলত লুট করা স্বর্ণের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধের জের ধরেই সাকেরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় মূখ্য ভূমিকা পালন করেন মারুফ হোসেন এবং তা বাস্তবায়নে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গোলাম জাহিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২০ লাখ টাকা পাঠানো হয়।

 

 

বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে মাগুরা পুলিশ লাইনে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এসব বিস্ফোরক তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোল্লা আজাদ হোসেন, পিপিএম।

 

ডাকাতি থেকে হত্যাকাণ্ড: নেপথ্যের ঘটনাপঞ্জি_

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ৬ অক্টোবর। সেদিন দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে মাগুরা সদর উপজেলার রামনগর বাজার এলাকায় ‘গোল্ডেন লাইন পরিবহনে’ পুলিশ পরিচয়ে ১২ থেকে ১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল ওঠে। তারা স্বর্ণ ব্যবসায়ী মো. মজিবর রহমানকে বাস থেকে জোরপূর্বক নামিয়ে হলিনগর গ্রামের একটি মেহগনিবাগানে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আনুমানিক ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা মূল্যের ১৫০ ভরি স্বর্ণ এবং নগদ ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।

 

ডাকাতির পর সমস্ত স্বর্ণ নিজের জিম্মায় রাখেন মারুফ হোসেন। তবে ডাকাত দলের সদস্য পৌর যুবদল নেতা সাকের হোসেন নিজের অংশের স্বর্ণ বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য মারুফকে ক্রমাগত চাপ দিতে থাকেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়।

 

পরবর্তীতে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য মধ্যস্থতায় এগিয়ে আসেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গোলাম জাহিদ। তাঁর মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সাকেরকে ৫ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। মারুফ সাকেরকে ৫ লাখ টাকা পরিশোধ করলেও সাকের এতে সন্তুষ্ট হননি এবং স্বর্ণের মূল অংশ দেওয়ার দাবিতে অনড় থাকেন।

 

২০ লাখ টাকার চুক্তি ও সাকের হত্যা:

সাকেরের অব্যাহত চাপে ক্ষুব্ধ হয়ে মারুফ হোসেন তাঁকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পুলিশের ভাষ্যমতে, মারুফ এ বিষয়ে গোলাম জাহিদের সঙ্গে পরামর্শ করেন এবং সাকেরকে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য গোলাম জাহিদের যমুনা ব্যাংকের হিসাবে ২০ লাখ টাকা ট্রান্সফার করেন। অর্থ লেনদেনের পরই সাকেরকে হত্যার চূড়ান্ত নীলকশ বাস্তবায়ন করা হয়।

 

গত ২১ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারে সাকের হোসেন অবস্থান করছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে এসে দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে মাথায় গুলি চালিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শারমিনাহার রুমা বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

 

পুলিশের সফল অভিযান ও উদ্ধার:

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থান্দার খায়রুল হাসান, পিপিএমের নেতৃত্বে পরিচালিত জোরালো অভিযানে পৃথক দুই মামলায় জড়িত মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে:

ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তার (৭ জন): মো. জুয়েল হোসেন (৪৭), তৌকির আহমেদ (২৫), মো. ফরিদ মণ্ডল (৫৯), মো. মিল্টন মোল্যা (৩৫), মারুফা আক্তার (৩২), মো. গোলাম জাহিদ (৪৫) ও মো. মারুফ হোসেন (৪৪)।

 

হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার (৬ জন – যৌথ আসামি সহ): রনি শিকদার (৩৮), শামীমা তাবাসসুম (৩১), অনিমেষ মজুমদার (৫৫), মো. মারুফ হোসেন (৪৪), মো. গোলাম জাহিদ (৪৫) ও বশির আলী (৩৫)।

 

আলামত ও স্বর্ণ উদ্ধার:

অভিযানকালে আসামীদের কাছ থেকে মোট ৬১ ভরি ৬ আনা (৭১৬.৪৬ গ্রাম) স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে (ডাকাতি মামলায় ৯ ভরি ৭ আনা ৫ রতি ও হত্যা মামলায় ৫১.৯ ভরি)। এছাড়াও আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়েছে বুলেট, খালি কার্তুজ, ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি টয়োটা ভিটজ গাড়ি এবং ইয়ামাহা এক্সএসআর ও পালসার মডেলের দুটি মোটরসাইকেল।

 

স্বীকারোক্তি ও আইনি পদক্ষেপ:

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার গোলাম জাহিদ ইতোমধ্যে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, যেখানে তিনি ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ডের পুরো পরিকল্পনা ও অর্থ লেনদেনের বিষয়াটি স্বীকার করেছেন।

 

সংবাদ সম্মেলনের শেষভাগে পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, ডাকাতি থেকে শুরু করে হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে পুরো মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করে আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আসামীদের অপরাধের চূড়ান্ত সত্যতা ও শাস্তি নির্ধারিত হবে।

 

সূত্র: channel 24