০৮:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামলা ও ভাঙচুর: মামলা নিয়ে বিতর্ক, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময়ঃ ০১:০২:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • / ২৪ বার পড়া হয়েছে।

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট:

সুনামগঞ্জ ।। ০৫ নভেম্বর ২০২৬

 

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামলা, চিকিৎসাধীন রোগীকে মারধর, কর্তব্যরত আনসার সদস্যকে লাঞ্ছিত এবং সরকারি চিকিৎসা সরঞ্জাম ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলা নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। মামলার এজাহারে একপক্ষের লোকজনকে সুনির্দিষ্টভাবে আসামি করায় হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন বিবাদীপক্ষ। তাঁদের দাবি, ঘটনার সময় অভিযুক্তদের অনেকে ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন না। অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

 

 

মামলার নেপথ্য ও ঘটনার বিবরণ:

গত ২৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ রায় বাদী হয়ে দিরাই থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় সাকিতপুর গ্রামের জাকারিয়া (৪১), মাহিম (২৮), হারুন (৩২), মোজাহিদ (৩২), আশরাফুল (৩০), সোহেল (৩৭), মোজাম্মিল (২২) ও মোস্তাকিম (২০)-সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক ৩টা ৫৫ মিনিটে দিরাই থানার সাকিতপুর গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত কয়েকজন চিকিৎসা নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। তাঁদের মধ্যে জাহাঙ্গীর আলম (৪০), জিবু মিয়া (২৭) ও রাফি সর্দার (১৮) ছিলেন।

 

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আহত জিবু মিয়ার চিকিৎসা চলাকালে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধ হয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় কর্তব্যরত আনসার সদস্য সৌরভ দাস বাধা দিলে তাঁকে ধাক্কা ও কিল-ঘুষি মেরে সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হয়। পরে জরুরি বিভাগে প্রবেশ করে চিকিৎসাধীন জিবু মিয়া ও তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজনকে মারধর করা হয়।

 

এছাড়া জরুরি বিভাগে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে চিকিৎসাসেবায় বাধা দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি চিকিৎসা সরঞ্জাম ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে। এজাহারে একটি ইসিজি মেশিন, একটি সাকশন মেশিন, একটি ওজন মাপার যন্ত্র, দুটি রোগীর শয্যা ও একটি পানির কল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে সরকারি সম্পদের আনুমানিক ১ লাখ ৭২ হাজার ১৫০ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

 

মামলায় হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. ওয়াসিম আকরাম, ডিএমএফ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী সোহাগ, ওয়ার্ডবয় মো. দেলোয়ার হোসেন, ক্লিনার বিধান দেবনাথ ও আনসার সদস্য সৌরভ দাসকে সাক্ষী করা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয়দের মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও পর্যালোচনা করে অভিযুক্তদের পরিচয় শনাক্তের কাজে ব্যস্ত থাকায় মামলা দায়েরে বিলম্ব হয়েছে।

 

আসামিপক্ষের হয়রানির অভিযোগ:

মামলার পর থেকেই বিবাদীপক্ষ একে একপক্ষীয় ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে। তাদের অভিযোগ, ঘটনার পর হাসপাতালের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও পরবর্তী সময়ে মামলায় সুনির্দিষ্টভাবে একপক্ষের লোকজনকেই আসামি করা হয়েছে। যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই নিরপরাধ ব্যক্তিদের মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে তাদের দাবি।

 

মামলার ১ নম্বর আসামি জাকারিয়া সর্দার বলেন, ‘ঘটনার দিন ও সময়ে আমি দিরাইতেই ছিলাম না। আমাকে অযথা হয়রানি করার জন্য আসামি করা হয়েছে।’

 

আরেক আসামি মাহিম সর্দার বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে আমি সম্পৃক্ত ছিলাম না। ঘটনার দিন হাসপাতালের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়ে থানায় জিডি করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে মামলায় একপক্ষের লোকজনকেই একপেশেভাবে আসামি করা হয়েছে।’

 

আসামি সোহেল সর্দারের দাবি, মামলাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং একটি গোষ্ঠীর স্বার্থ হাসিল ও হয়রানির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান। অপর আসামি মোস্তাকিম মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘হাসপাতালের ঘটনার ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের একপক্ষীয় মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

 

সাক্ষীর বক্তব্যে নতুন প্রশ্ন:

মামলার সাক্ষী ও হাসপাতালের ক্লিনার বিধান দেবনাথ জানান, তিনি ঘটনার শুরু থেকেই উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ কয়েকজন জরুরি বিভাগে প্রবেশ করে একজনকে মারধর শুরু করেন এবং পরে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে হাসপাতালের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভেঙে যায়। তবে তিনি কাউকে নাম ধরে চেনেন না, সামনে দেখলে চিনতে পারবেন বলে জানান।

 

তিনি আরও জানান, মামলার ১ নম্বর সাক্ষী চিকিৎসক ডা. ওয়াসিম আকরাম ঘটনার সময় জরুরি বিভাগে ছিলেন না, পরে চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে তিনি সেখানে আসেন।

 

বাদী ও সিভিল সার্জনের বক্তব্য:

মামলার বাদী ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ রায় বলেন, ‘মামলার আসামিদের বিষয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে কিছু জানি না, এ বিষয়ে আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানেন। ঘটনার সময় কারা উপস্থিত ছিলেন, তাও আমি নিজে জানি না। উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য ও ভিডিও দেখে আসামি দেওয়া হয়েছে। এমপি, মন্ত্রী ও আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই আমি মামলা দায়ের করেছি।’

 

এদিকে সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন জানান, দিরাইয়ের ঘটনার কথা শোনার পর তিনি প্রথমে জিডি করার এবং পরবর্তী সময়ে মামলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে কাদের আসামি করা হয়েছে বা কাউকে অযথা আসামি করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন; বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান তিনি।

 

পুলিশের অবস্থান:

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শ্রীজীব জানান, মামলাটি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে কোনো ব্যক্তির ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁকে মামলা থেকে বাদ দেওয়া হবে এবং নতুন কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে তাঁর নামও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

 

দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘মামলাটি তদন্তাধীন। কেউ অপরাধী হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে, আর কেউ অপরাধী না হলে তদন্তের ভিত্তিতে তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।’

 

শেষ কথা:

সরকারি হাসপাতালে হামলা, চিকিৎসাসেবায় বাধা ও সরকারি সম্পদ ভাঙচুরের মতো গুরুতর অপরাধের সঠিক বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন—সেটি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিও চিত্র, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই কেবল প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামলা ও ভাঙচুর: মামলা নিয়ে বিতর্ক, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

আপডেট সময়ঃ ০১:০২:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট:

সুনামগঞ্জ ।। ০৫ নভেম্বর ২০২৬

 

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামলা, চিকিৎসাধীন রোগীকে মারধর, কর্তব্যরত আনসার সদস্যকে লাঞ্ছিত এবং সরকারি চিকিৎসা সরঞ্জাম ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলা নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। মামলার এজাহারে একপক্ষের লোকজনকে সুনির্দিষ্টভাবে আসামি করায় হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন বিবাদীপক্ষ। তাঁদের দাবি, ঘটনার সময় অভিযুক্তদের অনেকে ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন না। অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

 

 

মামলার নেপথ্য ও ঘটনার বিবরণ:

গত ২৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ রায় বাদী হয়ে দিরাই থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় সাকিতপুর গ্রামের জাকারিয়া (৪১), মাহিম (২৮), হারুন (৩২), মোজাহিদ (৩২), আশরাফুল (৩০), সোহেল (৩৭), মোজাম্মিল (২২) ও মোস্তাকিম (২০)-সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক ৩টা ৫৫ মিনিটে দিরাই থানার সাকিতপুর গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত কয়েকজন চিকিৎসা নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। তাঁদের মধ্যে জাহাঙ্গীর আলম (৪০), জিবু মিয়া (২৭) ও রাফি সর্দার (১৮) ছিলেন।

 

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আহত জিবু মিয়ার চিকিৎসা চলাকালে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধ হয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় কর্তব্যরত আনসার সদস্য সৌরভ দাস বাধা দিলে তাঁকে ধাক্কা ও কিল-ঘুষি মেরে সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হয়। পরে জরুরি বিভাগে প্রবেশ করে চিকিৎসাধীন জিবু মিয়া ও তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজনকে মারধর করা হয়।

 

এছাড়া জরুরি বিভাগে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে চিকিৎসাসেবায় বাধা দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি চিকিৎসা সরঞ্জাম ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে। এজাহারে একটি ইসিজি মেশিন, একটি সাকশন মেশিন, একটি ওজন মাপার যন্ত্র, দুটি রোগীর শয্যা ও একটি পানির কল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে সরকারি সম্পদের আনুমানিক ১ লাখ ৭২ হাজার ১৫০ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

 

মামলায় হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. ওয়াসিম আকরাম, ডিএমএফ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী সোহাগ, ওয়ার্ডবয় মো. দেলোয়ার হোসেন, ক্লিনার বিধান দেবনাথ ও আনসার সদস্য সৌরভ দাসকে সাক্ষী করা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয়দের মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও পর্যালোচনা করে অভিযুক্তদের পরিচয় শনাক্তের কাজে ব্যস্ত থাকায় মামলা দায়েরে বিলম্ব হয়েছে।

 

আসামিপক্ষের হয়রানির অভিযোগ:

মামলার পর থেকেই বিবাদীপক্ষ একে একপক্ষীয় ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে। তাদের অভিযোগ, ঘটনার পর হাসপাতালের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও পরবর্তী সময়ে মামলায় সুনির্দিষ্টভাবে একপক্ষের লোকজনকেই আসামি করা হয়েছে। যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই নিরপরাধ ব্যক্তিদের মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে তাদের দাবি।

 

মামলার ১ নম্বর আসামি জাকারিয়া সর্দার বলেন, ‘ঘটনার দিন ও সময়ে আমি দিরাইতেই ছিলাম না। আমাকে অযথা হয়রানি করার জন্য আসামি করা হয়েছে।’

 

আরেক আসামি মাহিম সর্দার বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে আমি সম্পৃক্ত ছিলাম না। ঘটনার দিন হাসপাতালের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়ে থানায় জিডি করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে মামলায় একপক্ষের লোকজনকেই একপেশেভাবে আসামি করা হয়েছে।’

 

আসামি সোহেল সর্দারের দাবি, মামলাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং একটি গোষ্ঠীর স্বার্থ হাসিল ও হয়রানির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান। অপর আসামি মোস্তাকিম মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘হাসপাতালের ঘটনার ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের একপক্ষীয় মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

 

সাক্ষীর বক্তব্যে নতুন প্রশ্ন:

মামলার সাক্ষী ও হাসপাতালের ক্লিনার বিধান দেবনাথ জানান, তিনি ঘটনার শুরু থেকেই উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ কয়েকজন জরুরি বিভাগে প্রবেশ করে একজনকে মারধর শুরু করেন এবং পরে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে হাসপাতালের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভেঙে যায়। তবে তিনি কাউকে নাম ধরে চেনেন না, সামনে দেখলে চিনতে পারবেন বলে জানান।

 

তিনি আরও জানান, মামলার ১ নম্বর সাক্ষী চিকিৎসক ডা. ওয়াসিম আকরাম ঘটনার সময় জরুরি বিভাগে ছিলেন না, পরে চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে তিনি সেখানে আসেন।

 

বাদী ও সিভিল সার্জনের বক্তব্য:

মামলার বাদী ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ রায় বলেন, ‘মামলার আসামিদের বিষয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে কিছু জানি না, এ বিষয়ে আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানেন। ঘটনার সময় কারা উপস্থিত ছিলেন, তাও আমি নিজে জানি না। উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য ও ভিডিও দেখে আসামি দেওয়া হয়েছে। এমপি, মন্ত্রী ও আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই আমি মামলা দায়ের করেছি।’

 

এদিকে সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন জানান, দিরাইয়ের ঘটনার কথা শোনার পর তিনি প্রথমে জিডি করার এবং পরবর্তী সময়ে মামলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে কাদের আসামি করা হয়েছে বা কাউকে অযথা আসামি করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন; বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান তিনি।

 

পুলিশের অবস্থান:

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শ্রীজীব জানান, মামলাটি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে কোনো ব্যক্তির ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁকে মামলা থেকে বাদ দেওয়া হবে এবং নতুন কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে তাঁর নামও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

 

দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘মামলাটি তদন্তাধীন। কেউ অপরাধী হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে, আর কেউ অপরাধী না হলে তদন্তের ভিত্তিতে তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।’

 

শেষ কথা:

সরকারি হাসপাতালে হামলা, চিকিৎসাসেবায় বাধা ও সরকারি সম্পদ ভাঙচুরের মতো গুরুতর অপরাধের সঠিক বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন—সেটি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিও চিত্র, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই কেবল প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।