শেখ হাসিনাকে ট্রাভেল পাস নয়, বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তিতে ফেরানো হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- আপডেট সময়ঃ ০৬:০৪:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
- / ২১ বার পড়া হয়েছে।
হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট:
সুনামগঞ্জ ।। ০৫ নভেম্বর ২০২৬
পলাতক ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কোনো সাধারণ পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস ইস্যু করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনতে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি (এক্সট্রাডিশন ট্রিটি) কার্যকর করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলকে বিদায় জানানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, “মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হওয়ায় ভারত থেকে শেখ হাসিনাকে ফেরাতে কোনো ধরনের ট্রাভেল পাস বা পাসপোর্টের প্রয়োজন নেই। তিনি হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে পালিয়ে যাওয়া একজন আন্তর্জাতিকভাবে চিহ্নিত (ফ্ল্যাগড) অপরাধী। কোনো সাধারণ কমার্শিয়াল ট্রাভেলার হিসেবে তাকে দেখার সুযোগ নেই।”
শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়ার ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, “একজন চিহ্নিত অপরাধীকে ফেরত আনতে আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়া (জুডিশিয়াল প্রসেস) প্রয়োজন, পাসপোর্ট নয়। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের আদান-প্রদানে যে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে, সেই চুক্তির আওতায় ভারত সরকারের কাছে তার আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর চাওয়া হবে।”
চীন-মিয়ানমার ত্রিপক্ষীয় করিডোর ও রোহিঙ্গা সংকট:
সাংবাদিকদের সাথে আলাপে বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার পরিকল্পিত ত্রিপক্ষীয় করিডোর নিয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, এই করিডোর বাস্তবায়নে বাংলাদেশ কোনো ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি বা শঙ্কা দেখছে না।
তিনি বলেন, “এই করিডোর বাস্তবায়িত হলে পুরো অঞ্চলটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হবে। বাংলাদেশ এই আঞ্চলিক অর্থনৈতিক করিডোরে যুক্ত হতে অত্যন্ত আগ্রহী।” তবে এটি পুরোপুরি কার্যকর করার আগে রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধান প্রয়োজন বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।
বিদায়ী অতিথি লিউ হাইশিংয়ের সফর প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির আশা প্রকাশ করেন, এই সফরের মধ্য দিয়ে আগামী দিনে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর, সুদৃঢ় ও গতিশীল হবে।
















