০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
নাটোরের গুরুদাসপুরে ছাত্রদল নেতা শাকিলের জানাজা :

জানাজায় এমপির বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, ২০ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ ঘোষণা নিয়ে হট্টগোল

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময়ঃ ১০:১৯:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৩৪ বার পড়া হয়েছে।

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ২৮ অক্টোবর ২০২৬

 

 

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলামের জানাজাবাড়ি ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার প্রাক্কালে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। জানাজাপর্বে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ বক্তব্য রাখতে গেলে উপস্থিত নেতাকর্মী ও মুসল্লিদের একাংশের বিক্ষোভ ও ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগানে মুহূর্তেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

 

 

জানাজায় হট্টগোল ও উত্তেজনা;

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলার শহীদ সামসুজ্জোহা সরকারি কলেজ মাঠে নিহত ছাত্রদল নেতা শাকিলের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার আগমুহূর্তে বক্তব্য দেওয়ার জন্য মাইক হাতে নেন নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ।

 

তিনি তার বক্তব্যে উপস্থিত লোকজনকে উদ্দেশ করে বলেন;

“প্রিয় ভাইয়েরা আমার, আমার একটা কথা শুনতে হবে দাদারা।”—এই কথাটি উচ্চারণ করার পরপরই উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এমপির বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে উপস্থিত জনতা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। এর মধ্যেও তিনি বক্তব্য চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্লোগানের মাত্রা আরও বেড়ে যায় এবং হট্টগোল ছড়িয়ে পড়ে। পরিবেশ অনুকূলে না থাকায় তিনি দ্রুত বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করে শেষ করেন।

 

এরপর জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বক্তব্য রাখেন। তার বক্তব্য শেষ হওয়ার পর সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ পুনরায় মাইক হাতে নিয়ে নিহত শাকিলের পরিবারকে তার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দেন। এই ঘোষণা আসার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত জনতার মধ্যে ফের উত্তেজনা দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং শান্তি বজায় রাখতে জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু নিজেই মাইক হাতে নিয়ে উপস্থিত সবাইকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।

 

জানাজা শেষে ভাঙচুর ও লুটপাট;

জানাজা ও দাফন কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় বাজারে উত্তেজনার রেশ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় প্রবাসী রাসেলের মালিকানাধীন ‘রাশ আরবানী শপিংমল’-এ ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে বড় ধরনের সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়।

 

এমপিপুত্র মিন্টু ৩ দিনের রিমান্ডে;

এর আগে গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ১টার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবাড়িষা এলাকার নিজ বাড়ি থেকে নিহত শাকিল হত্যা মামলার অন্যতম আসামি এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজের ছেলে মো. নুরুজ্জামান মিন্টুকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

 

পরদিন মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে তাকে কড়া নিরাপত্তায় নাটোর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গুরুদাসপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমীর হোসেন আসামির বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মাহমুদুল হাসান আসামির ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 

হত্যাকাণ্ডের পটভূমি;

উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলাম চাঁচকৈড় বাজার থেকে পায়ে হেঁটে নিজ বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে মোটরসাইকেলে করে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে ধাওয়া করে পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক দুলাল সরকারের বাড়ির সামনে পথরোধ করে। এ সময় চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানা যায়।

 

এ ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলা ও পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় স্থানীয়ভাবে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

নাটোরের গুরুদাসপুরে ছাত্রদল নেতা শাকিলের জানাজা :

জানাজায় এমপির বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, ২০ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ ঘোষণা নিয়ে হট্টগোল

আপডেট সময়ঃ ১০:১৯:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ২৮ অক্টোবর ২০২৬

 

 

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলামের জানাজাবাড়ি ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার প্রাক্কালে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। জানাজাপর্বে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ বক্তব্য রাখতে গেলে উপস্থিত নেতাকর্মী ও মুসল্লিদের একাংশের বিক্ষোভ ও ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগানে মুহূর্তেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

 

 

জানাজায় হট্টগোল ও উত্তেজনা;

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলার শহীদ সামসুজ্জোহা সরকারি কলেজ মাঠে নিহত ছাত্রদল নেতা শাকিলের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার আগমুহূর্তে বক্তব্য দেওয়ার জন্য মাইক হাতে নেন নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ।

 

তিনি তার বক্তব্যে উপস্থিত লোকজনকে উদ্দেশ করে বলেন;

“প্রিয় ভাইয়েরা আমার, আমার একটা কথা শুনতে হবে দাদারা।”—এই কথাটি উচ্চারণ করার পরপরই উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এমপির বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে উপস্থিত জনতা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। এর মধ্যেও তিনি বক্তব্য চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্লোগানের মাত্রা আরও বেড়ে যায় এবং হট্টগোল ছড়িয়ে পড়ে। পরিবেশ অনুকূলে না থাকায় তিনি দ্রুত বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করে শেষ করেন।

 

এরপর জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বক্তব্য রাখেন। তার বক্তব্য শেষ হওয়ার পর সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ পুনরায় মাইক হাতে নিয়ে নিহত শাকিলের পরিবারকে তার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দেন। এই ঘোষণা আসার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত জনতার মধ্যে ফের উত্তেজনা দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং শান্তি বজায় রাখতে জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু নিজেই মাইক হাতে নিয়ে উপস্থিত সবাইকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।

 

জানাজা শেষে ভাঙচুর ও লুটপাট;

জানাজা ও দাফন কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় বাজারে উত্তেজনার রেশ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় প্রবাসী রাসেলের মালিকানাধীন ‘রাশ আরবানী শপিংমল’-এ ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে বড় ধরনের সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়।

 

এমপিপুত্র মিন্টু ৩ দিনের রিমান্ডে;

এর আগে গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ১টার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবাড়িষা এলাকার নিজ বাড়ি থেকে নিহত শাকিল হত্যা মামলার অন্যতম আসামি এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজের ছেলে মো. নুরুজ্জামান মিন্টুকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

 

পরদিন মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে তাকে কড়া নিরাপত্তায় নাটোর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গুরুদাসপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমীর হোসেন আসামির বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মাহমুদুল হাসান আসামির ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 

হত্যাকাণ্ডের পটভূমি;

উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলাম চাঁচকৈড় বাজার থেকে পায়ে হেঁটে নিজ বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে মোটরসাইকেলে করে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে ধাওয়া করে পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক দুলাল সরকারের বাড়ির সামনে পথরোধ করে। এ সময় চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানা যায়।

 

এ ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলা ও পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় স্থানীয়ভাবে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।