০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

“যে আঙুলে ভোট, সেই আঙুলে জুতা—তারপরও কি ন্যায়বিচার অধরা?

সম্পাদকীয় কলাম.!
  • আপডেট সময়ঃ ১২:০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৩২ বার পড়া হয়েছে।

 

 

-সম্পাদকীয় কলাম-

হকবার্তা ডেস্ক;

 

ময়মনসিংহের ভালুকার নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার নিজের ভোটের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুশোচনা প্রকাশ করতে গিয়ে যে আঙুলে ভোট দিয়েছিলেন, সেই আঙুলে জুতা দিয়ে আঘাত করেন। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরি ও নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করাই ছিল তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয়।

 

প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ভালুকা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম তাঁর ফেসবুক লাইভের পুরো ভিডিও চারবার পর্যালোচনা করে সরকারবিরোধী কোনো বক্তব্য পাননি। ওসির বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর প্রকাশিত অনুভূতি বাক্‌স্বাধীনতার মধ্যে পড়ে। উত্তেজিত লোকজনের হাত থেকে রক্ষার জন্যই তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। অথচ পরে তাঁকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

এখানেই আমাদের প্রশ্ন—যাঁকে রক্ষার জন্য পুলিশ হেফাজতে নিল, শেষ পর্যন্ত সেই নারীই কারাগারে গেলেন কেন?

 

ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারা আমলযোগ্য অপরাধ প্রতিরোধের জন্য নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেয়। তাহলে সাথী আক্তারের ক্ষেত্রে এমন কী পরিস্থিতি ছিল, যার কারণে এই ধারা প্রয়োগ অপরিহার্য হয়ে উঠল?

আমরা পুলিশের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিই। কিন্তু একই সঙ্গে জানতে চাই, তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্য কোনো ব্যবস্থা কি নেওয়া সম্ভব ছিল না?

 

আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আদালতকে ঘিরে। বিচারকের কাছে নাগরিকের প্রত্যাশা ন্যায়বিচার। মামলার নথি ও প্রযোজ্য আইন বিবেচনা করে আদালত সিদ্ধান্ত দেবেন—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু একজন নারী যদি উত্তেজিত জনতার ভয়ে পুলিশের আশ্রয় নেন, তাহলে তাঁর নিরাপত্তার বিষয়টি কি যথাযথ গুরুত্ব পাওয়ার কথা নয়? প্রয়োজন হলে প্রশাসনকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়ার সুযোগও কি বিবেচনায় আসতে পারত না?

আমরা বিচারকের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অভিযোগ তুলছি না; আমরা জানতে চাই, ন্যায়বিচারের স্বার্থে সাথী আক্তারের নিরাপত্তা ও আইনি অধিকার যথাযথভাবে বিবেচিত হয়েছে কি না।

 

আমাদের দাবি—তাঁর গ্রেপ্তারের আইনগত ভিত্তি ও আদালতের আদেশ স্বচ্ছভাবে পর্যালোচনা করা হোক। উত্তেজনা সৃষ্টির অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক এবং তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।

 

যে আঙুলে ভোট দিয়ে মানুষ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখে, সেই আঙুলে জুতা মারার মতো হতাশা যদি শেষ পর্যন্ত কারাগারের দরজায় পৌঁছে যায়, তবে প্রশ্ন উঠবেই—আমরা কি সত্যিই ন্যায়বিচারের পথে এগোচ্ছি?

 

— অ্যাডভোকেট আমিরুল হক

সম্পাদক, দৈনিক হক বার্তা (অন্তরালের খবর), সুনামগঞ্জ

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

“যে আঙুলে ভোট, সেই আঙুলে জুতা—তারপরও কি ন্যায়বিচার অধরা?

আপডেট সময়ঃ ১২:০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

 

 

-সম্পাদকীয় কলাম-

হকবার্তা ডেস্ক;

 

ময়মনসিংহের ভালুকার নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার নিজের ভোটের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুশোচনা প্রকাশ করতে গিয়ে যে আঙুলে ভোট দিয়েছিলেন, সেই আঙুলে জুতা দিয়ে আঘাত করেন। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরি ও নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করাই ছিল তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয়।

 

প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ভালুকা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম তাঁর ফেসবুক লাইভের পুরো ভিডিও চারবার পর্যালোচনা করে সরকারবিরোধী কোনো বক্তব্য পাননি। ওসির বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর প্রকাশিত অনুভূতি বাক্‌স্বাধীনতার মধ্যে পড়ে। উত্তেজিত লোকজনের হাত থেকে রক্ষার জন্যই তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। অথচ পরে তাঁকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

এখানেই আমাদের প্রশ্ন—যাঁকে রক্ষার জন্য পুলিশ হেফাজতে নিল, শেষ পর্যন্ত সেই নারীই কারাগারে গেলেন কেন?

 

ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারা আমলযোগ্য অপরাধ প্রতিরোধের জন্য নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেয়। তাহলে সাথী আক্তারের ক্ষেত্রে এমন কী পরিস্থিতি ছিল, যার কারণে এই ধারা প্রয়োগ অপরিহার্য হয়ে উঠল?

আমরা পুলিশের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিই। কিন্তু একই সঙ্গে জানতে চাই, তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্য কোনো ব্যবস্থা কি নেওয়া সম্ভব ছিল না?

 

আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আদালতকে ঘিরে। বিচারকের কাছে নাগরিকের প্রত্যাশা ন্যায়বিচার। মামলার নথি ও প্রযোজ্য আইন বিবেচনা করে আদালত সিদ্ধান্ত দেবেন—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু একজন নারী যদি উত্তেজিত জনতার ভয়ে পুলিশের আশ্রয় নেন, তাহলে তাঁর নিরাপত্তার বিষয়টি কি যথাযথ গুরুত্ব পাওয়ার কথা নয়? প্রয়োজন হলে প্রশাসনকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়ার সুযোগও কি বিবেচনায় আসতে পারত না?

আমরা বিচারকের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অভিযোগ তুলছি না; আমরা জানতে চাই, ন্যায়বিচারের স্বার্থে সাথী আক্তারের নিরাপত্তা ও আইনি অধিকার যথাযথভাবে বিবেচিত হয়েছে কি না।

 

আমাদের দাবি—তাঁর গ্রেপ্তারের আইনগত ভিত্তি ও আদালতের আদেশ স্বচ্ছভাবে পর্যালোচনা করা হোক। উত্তেজনা সৃষ্টির অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক এবং তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।

 

যে আঙুলে ভোট দিয়ে মানুষ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখে, সেই আঙুলে জুতা মারার মতো হতাশা যদি শেষ পর্যন্ত কারাগারের দরজায় পৌঁছে যায়, তবে প্রশ্ন উঠবেই—আমরা কি সত্যিই ন্যায়বিচারের পথে এগোচ্ছি?

 

— অ্যাডভোকেট আমিরুল হক

সম্পাদক, দৈনিক হক বার্তা (অন্তরালের খবর), সুনামগঞ্জ