কুড়িগ্রামে সালিশের পর ভুক্তভোগী নারীর ‘আত্মহত্যা’_ অর্থের বিনিময়ে অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে
- আপডেট সময়ঃ ১১:১৭:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
- / ৩৩ বার পড়া হয়েছে।
হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;
সুনামগঞ্জ ।। ২৭ অক্টোবর ২০২৬
কুড়িগ্রামের উলিপুরে ফেসবুকের প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে বসা একটি সালিশ বৈঠকের পরের দিন নাজমা খাতুন (৪৪) নামের এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। অপমান ও ক্ষোভে ওই নারী আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি স্বজনদের।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে;
স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উলিপুরের ধামশ্রেনী ইউনিয়নের পশ্চিম নাওড়া এলাকার আব্দুল খালেকের স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ে নাজমার সঙ্গে প্রায় ছয় মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সাইদুর রহমান পলাশ নামের এক ব্যক্তির পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, নিজেকে রেলওয়ে পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে নাজমার কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন ওই ব্যক্তি।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় পলাশ নাজমা সঙ্গে দেখা করতে তার বাড়িতে যান। তার গতিবিধি ও পরিচয় সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় লোকজন দুজনকে আটকে রাখেন। ওই রাতেই স্থানীয়ভাবে তাদের বিয়ের আয়োজন করা হয়। তবে বিয়ের নিবন্ধনের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তার আসল পরিচয় ফাঁস হয়ে যায়। জানা যায়, ‘পলাশ’ নামে পরিচয় দেওয়া ব্যক্তির আসল নাম দুলাল চন্দ্র (৫৩)। তিনি উপজেলার পান্ডুল ইউনিয়নের খোঁচাবাড়ি এলাকার অমল চন্দ্রের ছেলে। পরিচয় ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় বিয়ের আয়োজন স্থগিত করা হয় এবং তাকে রাতভর আটকে রাখা হয়।
সালিশ বৈঠক ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ;
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই ঘটনার জেরে গত শনিবার রাতে উলিপুর পৌর শহরের একটি স্থানে গোপন সালিশ বৈঠক বসে। বৈঠকে ধামশ্রেনী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সহিদুল ইসলাম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সফি কামাল এবং পান্ডুল ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব জিয়াউল হক বাদলসহ স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
যাঁরা দুলাল চন্দ্রকে হাতেনাতে আটকে রেখেছিলেন, তাদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয় এবং অভিযুক্ত দুলাল চন্দ্রকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়া এবং এই প্রহসনমূলক সালিশের অপবাদ সহ্য করতে না পেরে নাজমা চরম সিদ্ধান্ত নেন। পরদিন রবিবার দুপুরে বাড়ির গোয়ালঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান স্বজনরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
অভিযুক্ত ও পুলিশের বক্তব্য;
সালিশ বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করেছেন ধামশ্রেনী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সহিদুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, “বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় পান্ডুল ইউনিয়ন বিএনপির নেতা জিয়াউল হক বাদলসহ উভয়পক্ষের স্বজনদের নিয়ে তা মীমাংসা করা হয়। বৈঠকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং উপস্থিত সবার সামনে নাজমার স্বজনদের হাতে সেই টাকা তুলে দেওয়া হয়েছে।”
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পান্ডুল ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব জিয়াউল হক বাদলের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং সেই অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















