‘রমজানের’ আগেই বাড়তে পারে ভোজ্যতেলের দাম, লিটারে ১৫ টাকা বাড়াতে চান- ব্যবসায়ীরা
- আপডেট সময়ঃ ০৯:৩৫:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ২৫ বার পড়া হয়েছে।
হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;
সুনামগঞ্জ ।। ২৮ অক্টোবর ২০২৬
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে ভোজ্যতেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে, খেজুর আমদানির খরচ কমাতে বিদ্যমান শুল্ক ও কর কাঠামোতে ছাড় দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আমদানিকারকেরা।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এসব প্রস্তাব ও পর্যালোচনা তুলে ধরা হয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি প্রস্তুতি, সরবরাহসংক্রান্ত সমস্যা এবং মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য এ সভার আয়োজন করা হয়।
ভোজ্যতেল ও খেজুর নিয়ে ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব;
বৈঠকে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হলেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
অন্যদিকে, খেজুর আমদানিকারকেরা জানান, বর্তমানে খেজুর আমদানিতে প্রায় ৫৫ শতাংশ শুল্ক ও কর পরিশোধ করতে হয়। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বিকল্প পথে পণ্য আনতে হওয়ায় পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে। এছাড়া ঋণপত্র (এলসি) খোলা নিয়ে জটিলতা অব্যাহত থাকলে পণ্যের সরবরাহ আরও ব্যাহত হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
আমদানিকারকদের দাবি, নির্ধারিত অভিন্ন শুল্কায়নমূল্যের পরিবর্তে খেজুরের প্রকৃত মান ও দামের ভিত্তিতে যৌক্তিক শুল্ক নির্ধারণ করা হোক। সাধারণ মানের খেজুরের ক্ষেত্রে প্রকৃত দামের চেয়ে বেশি শুল্কায়নমূল্য নির্ধারণ করায় সামগ্রিক আমদানি খরচ অতিরিক্ত বেড়ে যাচ্ছে। ফল আমদানিতে আরও নমনীয় করব্যবস্থা চালুরও দাবি জানান তারা।
বাণিজ্যমন্ত্রী খেজুরের জাত, মান ও দামের ভিন্নতা বিবেচনায় নিয়ে একটি স্বচ্ছ ও যৌক্তিক শুল্ক কাঠামো নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, মিসর, সৌদি আরব, ইরাক ও আলজেরিয়াসহ প্রায় এক ডজন দেশ থেকে বাংলাদেশে বিভিন্ন মানের খেজুর আমদানি করা হয়, তাই একই শুল্কায়নমূল্য নির্ধারণ করা সমীচীন নয়। খেজুর আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে দ্রুত কার্যকর করার বিষয়ে অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
রমজানে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে পণ্যের আমদানি;
বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) তথ্য অনুযায়ী, পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে দেশের বাজারে গুরুত্বপূর্ণ নিত্যপণ্যের আমদানি ও এলসি খোলার পরিমাণ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন পণ্যের আমদানির চিত্র নিম্নরূপ:
•ভোজ্যতেল: আমদানি হয়েছে ৮ লাখ ২৩ হাজার টন (গত বছরের একই সময়ে ছিল ৭ লাখ ৫ হাজার টন)। এলসি খোলা হয়েছে ৮ লাখ ৫ হাজার টনের।
•চিনি: আমদানি হয়েছে ৬ লাখ ৮৭ হাজার টন (বৃদ্ধি ১ লাখ ৫৩ হাজার টন)। এলসি খোলা হয়েছে ৮ লাখ ১০ হাজার টনের।
•ছোলা: আমদানি হয়েছে ৮২ হাজার টন, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল মাত্র ১২ হাজার টন। এলসি খোলা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার টনের।
•মসুর ডাল: আমদানি হয়েছে ১ লাখ২২ হাজার টন (বৃদ্ধি ৬৪ হাজার টন)। এলসি খোলা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার টনের।
•খেজুর: আমদানি হয়েছে ১১ হাজার টন (গত বছর ছিল ৪ হাজার টন)।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রমজানে ভোজ্যতেল, চিনি, মসুর ডাল, ছোলা, খেজুর, মুরগি ও ডিমের চাহিদা স্বাভাবিক মাসের তুলনায় দ্বিগুণ বা তার বেশি হয়ে যায়। এ কারণে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় রাখতে ব্যবসায়ীদের সময়মতো ও পর্যাপ্ত পণ্য আমদানির আহ্বান জানিয়েছে সরকার।
ছোট ডাল মিলের সংকট ও পোল্ট্রি খাতের পরিস্থিতি;
বৈঠকে ডাল ব্যবসায়ীরা রমজানে ছোলা ও মসুর ডালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার প্রস্তুতির কথা জানান। তবে বাংলাদেশ ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী নেসার উদ্দিন বড় ব্যবসায়ীদের আধিপত্যের কারণে সাধারণ ও ছোট ডাল মিলগুলোর ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে সৃষ্ট নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এদিকে পোল্ট্রি খাতের প্রতিনিধিরা জানান, বর্তমানে খামার পর্যায়ে ডিমের দাম কিছুটা কমে ১০ টাকার নিচে নেমেছে, যা উৎপাদন খরচের কাছাকাছি। খামারগুলোতে বড় কোনো রোগের প্রকোপ না থাকায় রমজানে ডিম ও মুরগির উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজার ও সরকারি উদ্যোগ;
ট্যারিফ কমিশনের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেল ও ছোলার দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও মসুর ডালের দাম কমেছে। বর্তমানে ছোলা ও মসুর ডাল আমদানিতে কোনো শুল্ক-কর না থাকলেও চিনি ও ফল আমদানির শুল্ক কাঠামো পুনর্বিবেচনা করলে তা বাজারদর নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।
রমজানের বাড়তি চাহিদার কথা মাথায় রেখে পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে বাজার মনিটরিং এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে সরকার। বাণিজ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ট্যারিফ কমিশন, এনবিআর, টিসিবি, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, এফবিসিসিআই এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।



















