গোপালগঞ্জে -ছাত্রলীগ ও যুবলীগের মিছিল চলাকালে পুলিশের গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর; আহত ৩ পুলিশ সদস্য
- আপডেট সময়ঃ ০৩:৩৪:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৬ বার পড়া হয়েছে।
হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;
সুনামগঞ্জ ।। ২৫ অক্টোবর ২০২৬
গোপালগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের একটি মিছিল থেকে পুলিশের টহল গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় হামলাকারীদের মারধরে গোপালগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে সদর উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের খেয়াঘাট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন—গোপালগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফুলমিয়া এবং কনস্টেবল শওকত ও জসিম। গোপালগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. হাবীবুল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
মিছিল থেকে অতর্কিত হামলা;
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশের একটি নিয়মিত টহল দল শহর থেকে গ্রামীণ এলাকায় দায়িত্ব পালন শেষে ফেরার পথে রঘুনাথপুর ইউনিয়নের খেয়াঘাট এলাকায় সড়কের পাশে গাড়ি থামিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিল। ওই সময় চালক গাড়ির ভেতরে অবস্থান করছিলেন এবং তিন পুলিশ সদস্য বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
একপর্যায়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা একটি মিছিল নিয়ে ওই এলাকায় আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিলে থাকা যুবকেরা ‘জয় বাংলা’ ও ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন। মিছিলকারীদের অনেকের হাতে হকিস্টিক, কাঠের লাঠি ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ছিল।
ভিডিওর দৃশ্য অনুযায়ী, মিছিলটি পুলিশের টহল গাড়িটির কাছাকাছি পৌঁছালে যুবকেরা হঠাৎ অতর্কিতভাবে গাড়িতে ভাঙচুর চালাতে শুরু করেন। হামলা থেকে বাঁচতে গাড়ির চালক দ্রুত গাড়িটি চালিয়ে কিছুটা সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে যুবকেরা ধাওয়া করে গাড়িটিতে ভাঙচুর অব্যাহত রাখেন।
এ সময় বাইরে থাকা পুলিশ সদস্যরা হামলাকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলে যুবকেরা তাদের লক্ষ্য করে চড়াও হন এবং লাঠিসোঁটা দিয়ে পেটাতে থাকেন। মিছিলে থাকা দু-একজনকে আক্রমণকারীদের থামানোর চেষ্টা করতে দেখা গেলেও অধিকাংশ যুবকে উগ্রভাবে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালাতে দেখা যায়। একপর্যায়ে আহত পুলিশ সদস্যরা দৌড়ে গাড়িতে উঠে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য ও আইনগত পদক্ষেপ
ঘটনার বিবরণ দিয়ে গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ জানান, “দায়িত্ব পালন শেষে ফেরার পথে পুলিশ সদস্যরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এ সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে এসে কোনো কারণ ছাড়াই পুলিশের গাড়িতে হামলা চালায়।”
তিনি আরও জানান, “হামলার মুখে চালক গাড়িটি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে দুই পুলিশ সদস্যকে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। তবে আঘাত গুরুতর নয় এবং আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসাধীন রয়েছেন।”
হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার ঘোষণা দিয়ে এসপি বলেন, “ঘটনার পরপরই পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে। বর্তমানে তাদের পরিচয় ও সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে হামলার সাথে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।”
বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।




















