০৫:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ: ৭ টি রায়ে ২৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন ১১

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময়ঃ ০৪:১০:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২১ বার পড়া হয়েছে।

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ২৫ অক্টোবর ২০২৬

 

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে এ পর্যন্ত সাতটি আলোচিত মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল-১ এবং ট্রাইব্যুনাল-২—এ দুটি পৃথক আদালতের রায়ে মোট ২৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পেয়েছেন ৩৩ জন আসামি। বিচার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা ও রাজসাক্ষী হওয়ার ভিত্তিতে একজন আসামি খালাস (ক্ষমা) পেয়েছেন।

 

 

প্রসিকিউশন থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকেন্দ্রিক মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট ৭০টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬টি মূল মামলা বর্তমানে বিচারাধীন এবং ৪৪টি মিস কেস (Miss. Case) হিসেবে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বর্তমানে দুটি ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন এসব মামলায় গ্রেপ্তার আসামির সংখ্যা ২০৩ জন। অন্যদিকে পলাতক রয়েছেন ৩৫২ জন আসামি।

 

 

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, “২০২৪ সালের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার নিয়ে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়েছিল। ইতিমধ্যে সাতটি আলোচিত মামলার বিচার শেষ হয়েছে এবং অবশিষ্ট মামলাগুলোর বিচার কার্যক্রমও দ্রুত সম্পন্ন করতে প্রসিকিউশন প্রস্তুত রয়েছে।” পলাতকদের বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁদের বিচারের মুখোমুখি করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন এবং কোনো অপরাধী যেন ছাড় না পান, সে বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল সম্পূর্ণ সচেতন।

 

 

আলোচিত ৭ মামলার রায় ও দণ্ডাদেশের সারসংক্ষেপ

 

১. শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ড

 

গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মূল মামলায় ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায়ে তাঁদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে শহীদ পরিবার ও আহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ মামলায় রাজসাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে তথ্য দেওয়ায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

 

২. চাঁনখারপুল হত্যাকাণ্ড: তিন পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড

 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ও দেশত্যাগের দিন ঢাকার চাঁনখারপুলে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলির ঘটনায় ৬ জন শহীদ হন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-১ সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং সাবেক এডিসি শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই রায়ে আরও পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

 

৩. আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর ঘটনা: ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড

 

ঢাকার আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ ভ্যানে তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া এবং আরও একজনকে হত্যার বর্বরোচিত মামলায় ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-২ রায় ঘোষণা করেন। সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া দুই পুলিশ সদস্যকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। প্রসিকিউশনকে সহায়তা করায় রাজসাক্ষী শেখ আবজালুল হককে আদালত ক্ষমা প্রদর্শন করেন।

 

৪. রংপুরে শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলা

 

গণঅভ্যুত্থানের সূচনা লগ্নে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল-২ রায় দেন। এতে সাবেক এএসআই মো. আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন এবং অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

 

৫. রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি

 

রাজধানীর রামপুরায় নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি এবং একই এলাকায় আরও দুই আন্দোলনকারীকে হত্যার ঘটনায় ট্রাইব্যুনাল-১ রায় প্রকাশ করেন। রায়ে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান (অন্য মামলায়ও দণ্ডপ্রাপ্ত), সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভুঁইয়াকে যাবজ্জীবন ও সাবেক এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

 

৬. হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

 

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত অপরাধে সহযোগিতার দায়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল-২। রায়ে দুটি ভিন্ন অভিযোগে তাঁকে অতিরিক্ত এক লাখ টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

৭. ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগের ৭ শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ড

;

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত শীর্ষ নেতাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন—আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। রায়ে আসামিদের অর্জিত সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করে শহীদ পরিবার ও আহতদের সহায়তায় দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়।

 

গুম-খুনের বিচারও চলমান;

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পাশাপাশি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে সংঘটিত বিভিন্ন গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রমও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জোরদারভাবে পরিচালিত হচ্ছে। প্রসিকিউশন আশাবাদ ব্যক্ত করেছে, আইনগত সব প্রক্রিয়া মেনে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব বিচার শেষ করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ: ৭ টি রায়ে ২৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন ১১

আপডেট সময়ঃ ০৪:১০:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ২৫ অক্টোবর ২০২৬

 

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে এ পর্যন্ত সাতটি আলোচিত মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল-১ এবং ট্রাইব্যুনাল-২—এ দুটি পৃথক আদালতের রায়ে মোট ২৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পেয়েছেন ৩৩ জন আসামি। বিচার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা ও রাজসাক্ষী হওয়ার ভিত্তিতে একজন আসামি খালাস (ক্ষমা) পেয়েছেন।

 

 

প্রসিকিউশন থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকেন্দ্রিক মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট ৭০টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬টি মূল মামলা বর্তমানে বিচারাধীন এবং ৪৪টি মিস কেস (Miss. Case) হিসেবে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বর্তমানে দুটি ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন এসব মামলায় গ্রেপ্তার আসামির সংখ্যা ২০৩ জন। অন্যদিকে পলাতক রয়েছেন ৩৫২ জন আসামি।

 

 

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, “২০২৪ সালের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার নিয়ে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়েছিল। ইতিমধ্যে সাতটি আলোচিত মামলার বিচার শেষ হয়েছে এবং অবশিষ্ট মামলাগুলোর বিচার কার্যক্রমও দ্রুত সম্পন্ন করতে প্রসিকিউশন প্রস্তুত রয়েছে।” পলাতকদের বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁদের বিচারের মুখোমুখি করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন এবং কোনো অপরাধী যেন ছাড় না পান, সে বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল সম্পূর্ণ সচেতন।

 

 

আলোচিত ৭ মামলার রায় ও দণ্ডাদেশের সারসংক্ষেপ

 

১. শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ড

 

গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মূল মামলায় ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায়ে তাঁদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে শহীদ পরিবার ও আহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ মামলায় রাজসাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে তথ্য দেওয়ায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

 

২. চাঁনখারপুল হত্যাকাণ্ড: তিন পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড

 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ও দেশত্যাগের দিন ঢাকার চাঁনখারপুলে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলির ঘটনায় ৬ জন শহীদ হন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-১ সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং সাবেক এডিসি শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই রায়ে আরও পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

 

৩. আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর ঘটনা: ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড

 

ঢাকার আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ ভ্যানে তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া এবং আরও একজনকে হত্যার বর্বরোচিত মামলায় ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-২ রায় ঘোষণা করেন। সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া দুই পুলিশ সদস্যকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। প্রসিকিউশনকে সহায়তা করায় রাজসাক্ষী শেখ আবজালুল হককে আদালত ক্ষমা প্রদর্শন করেন।

 

৪. রংপুরে শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলা

 

গণঅভ্যুত্থানের সূচনা লগ্নে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল-২ রায় দেন। এতে সাবেক এএসআই মো. আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন এবং অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

 

৫. রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি

 

রাজধানীর রামপুরায় নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি এবং একই এলাকায় আরও দুই আন্দোলনকারীকে হত্যার ঘটনায় ট্রাইব্যুনাল-১ রায় প্রকাশ করেন। রায়ে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান (অন্য মামলায়ও দণ্ডপ্রাপ্ত), সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভুঁইয়াকে যাবজ্জীবন ও সাবেক এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

 

৬. হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

 

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত অপরাধে সহযোগিতার দায়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল-২। রায়ে দুটি ভিন্ন অভিযোগে তাঁকে অতিরিক্ত এক লাখ টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

৭. ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগের ৭ শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ড

;

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত শীর্ষ নেতাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন—আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। রায়ে আসামিদের অর্জিত সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করে শহীদ পরিবার ও আহতদের সহায়তায় দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়।

 

গুম-খুনের বিচারও চলমান;

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পাশাপাশি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে সংঘটিত বিভিন্ন গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রমও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জোরদারভাবে পরিচালিত হচ্ছে। প্রসিকিউশন আশাবাদ ব্যক্ত করেছে, আইনগত সব প্রক্রিয়া মেনে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব বিচার শেষ করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।