১০:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকায় সুনামগঞ্জে ক্ষোভ, ডিসি প্রত্যাহারের দাবি

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময়ঃ ০১:৩২:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৪২ বার পড়া হয়েছে।

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট:

সুনামগঞ্জ ।। ০৮ নভেম্বর ২০২৬

 

ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনে দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি পালিত হয়। এই দিবসটির প্রেক্ষাপট ও মূল নায়ক হিসেবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান অনস্বীকার্য হলেও, সরকারিভাবে আয়োজিত আলোচনা সভার মূল ব্যানারে তাঁর ছবি যুক্ত না করায় দেশজুড়ে বিতর্ক ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের অপসারণ ও প্রত্যাহারের দাবি তুলেছেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি তারেক মিয়া।

 

 

ঘটনার সূত্রপাত ও ছাত্রদলের প্রতিক্রিয়া:

গত ৭ই নভেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসনের কার্যালয়সংলগ্ন মিলনায়তনে সরকারিভাবে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। তবে অনুষ্ঠানের ব্যানারে ৭ই নভেম্বরের মূল রূপকার জিয়াউর রহমানের ছবি অনুপস্থিত থাকায় উপস্থিত বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানান এবং অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দেন।

 

সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি তারেক মিয়া এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “ফ্যাসিবাদের পতন হলেও প্রশাসনের ভেতরে থাকা দোসররা এখনও ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। ৭ই নভেম্বর মানেই সিপাহী-জনতার বিপ্লব এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক নেতৃত্ব। তাঁর ছবি ব্যানারে না রাখা অত্যন্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।” তিনি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের এই ব্যর্থতাকে ফ্যাসিবাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং অনতিবিলম্বে তাঁকে সুনামগঞ্জ থেকে প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

 

প্রশাসনের বক্তব্য ও দুঃখ প্রকাশ:

একই ধরনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অন্য জেলাগুলোতেও প্রশাসনের চরম তোপের মুখে পড়তে হয় জেলা প্রশাসকদের। হট্টগোল ও প্রতিবাদের মুখে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। ময়মনসিংহের মতো কোনো কোনো জেলায় দাবি করা হয় যে, ওপর মহল থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না থাকায় মূল ব্যানারে কারও ছবি রাখা হয়নি। আবার অনেক জায়গায় জেলা প্রশাসকরা মঞ্চেই হ্যান্ডমাইক বা ডায়াসে দাঁড়িয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত এই ভুলের জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন। তাঁরা স্বীকার করেন যে, ৭ই নভেম্বরের জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ব্যানারে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছবি থাকা অত্যন্ত সংগত ও উচিত ছিল। বাজেট স্বল্পতা কিংবা অসাবধানতার কারণে এমনটা ঘটেছে উল্লেখ করে তারা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।

 

বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর অবস্থান:

এ ঘটনায় জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের বিদায় ঘটলেও প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এখনও তাদের দোসররা ঘাপটি মেরে বসে আছে। তারা ঐতিহাসিক দিবসগুলোর তাৎপর্য নষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। ছাত্রদল, যুবদল ও অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা যদি পতিত স্বৈরাচারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চান, তবে ছাত্র-জনতা তা কঠোর হস্তে দমন করবে।

 

সুনামগঞ্জে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি তারেক মিয়ার এই ডিসি প্রত্যাহারের কঠোর দাবি স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বিতর্কিত করতে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব বাড়াতে প্রশাসনের আমলারা এই ধরণের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যার বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকায় সুনামগঞ্জে ক্ষোভ, ডিসি প্রত্যাহারের দাবি

আপডেট সময়ঃ ০১:৩২:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট:

সুনামগঞ্জ ।। ০৮ নভেম্বর ২০২৬

 

ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনে দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি পালিত হয়। এই দিবসটির প্রেক্ষাপট ও মূল নায়ক হিসেবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান অনস্বীকার্য হলেও, সরকারিভাবে আয়োজিত আলোচনা সভার মূল ব্যানারে তাঁর ছবি যুক্ত না করায় দেশজুড়ে বিতর্ক ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের অপসারণ ও প্রত্যাহারের দাবি তুলেছেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি তারেক মিয়া।

 

 

ঘটনার সূত্রপাত ও ছাত্রদলের প্রতিক্রিয়া:

গত ৭ই নভেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসনের কার্যালয়সংলগ্ন মিলনায়তনে সরকারিভাবে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। তবে অনুষ্ঠানের ব্যানারে ৭ই নভেম্বরের মূল রূপকার জিয়াউর রহমানের ছবি অনুপস্থিত থাকায় উপস্থিত বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানান এবং অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দেন।

 

সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি তারেক মিয়া এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “ফ্যাসিবাদের পতন হলেও প্রশাসনের ভেতরে থাকা দোসররা এখনও ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। ৭ই নভেম্বর মানেই সিপাহী-জনতার বিপ্লব এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক নেতৃত্ব। তাঁর ছবি ব্যানারে না রাখা অত্যন্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।” তিনি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের এই ব্যর্থতাকে ফ্যাসিবাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং অনতিবিলম্বে তাঁকে সুনামগঞ্জ থেকে প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

 

প্রশাসনের বক্তব্য ও দুঃখ প্রকাশ:

একই ধরনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অন্য জেলাগুলোতেও প্রশাসনের চরম তোপের মুখে পড়তে হয় জেলা প্রশাসকদের। হট্টগোল ও প্রতিবাদের মুখে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। ময়মনসিংহের মতো কোনো কোনো জেলায় দাবি করা হয় যে, ওপর মহল থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না থাকায় মূল ব্যানারে কারও ছবি রাখা হয়নি। আবার অনেক জায়গায় জেলা প্রশাসকরা মঞ্চেই হ্যান্ডমাইক বা ডায়াসে দাঁড়িয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত এই ভুলের জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন। তাঁরা স্বীকার করেন যে, ৭ই নভেম্বরের জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ব্যানারে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছবি থাকা অত্যন্ত সংগত ও উচিত ছিল। বাজেট স্বল্পতা কিংবা অসাবধানতার কারণে এমনটা ঘটেছে উল্লেখ করে তারা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।

 

বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর অবস্থান:

এ ঘটনায় জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের বিদায় ঘটলেও প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এখনও তাদের দোসররা ঘাপটি মেরে বসে আছে। তারা ঐতিহাসিক দিবসগুলোর তাৎপর্য নষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। ছাত্রদল, যুবদল ও অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা যদি পতিত স্বৈরাচারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চান, তবে ছাত্র-জনতা তা কঠোর হস্তে দমন করবে।

 

সুনামগঞ্জে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি তারেক মিয়ার এই ডিসি প্রত্যাহারের কঠোর দাবি স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বিতর্কিত করতে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব বাড়াতে প্রশাসনের আমলারা এই ধরণের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যার বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।