০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬

নির্বাচনী বিধি আরও কঠোর: প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা পাচ্ছে কমিশন, বাড়ছে জরিমানা

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময়ঃ ০২:১৩:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২৮ বার পড়া হয়েছে।

হকবার্তা ডেস্ক:

‎০৪ আগস্ট ২০২৬

‎আসন্ন স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদসহ সব নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত ও সুশৃঙ্খল রাখতে আচরণ বিধিমালা-২০২৬-এর খসড়ায় একগুচ্ছ নতুন প্রস্তাব ও সংশোধনী আনা হয়েছে। প্রস্তাবিত বিধিমালা অনুযায়ী, নির্বাচনি বিধি লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) তাৎক্ষণিক তদন্ত সাপেক্ষে যেকোনো প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে। বাতিলের এই আদেশ গেজেট আকারে প্রকাশসহ সংশ্লিষ্ট প্রার্থী ও রিটার্নিং অফিসারকে জানানো হবে।

‎এছাড়া আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে অর্থদণ্ডের পরিমাণ বহুগুণ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদ্যমান বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ নিয়ম ভাঙলে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের বিধান থাকলেও নতুন খসড়ায় তা বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে ছয় মাসের কারাদণ্ডের শাস্তি অপরিবর্তিত থাকছে।

‎বিজ্ঞাপন

‎একই সঙ্গে অর্থ, অস্ত্র, পেশিশক্তি কিংবা স্থানীয় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নির্বাচন প্রভাবিত করার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখা হয়েছে। খসড়াটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে মাঠপর্যায়ে ইসির আইনি নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি আরো শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‎‘মার্চ টু ঢাকা’ ঘোষণা, এক দিনে নিহত শতাধিক‘মার্চ-টু-ঢাকা’-ঘোষণা,-একদিনে-নিহত-শতাধিক

 

‎ইউএনডিপি ও আইএফইএসের সহায়তা চায় ইসি

‎এদিকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেকটোরাল সিস্টেমস (আইএফইএস)-এর কাছে লজিস্টিক ও কারিগরি সহায়তার প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইসি।

‎কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ভোটার সচেতনতা বৃদ্ধি, আইটি সক্ষমতা বাড়ানো, নির্বাচন মনিটরিং এবং সার্বিক যানবাহন সুবিধাসহ মূলত সাতটি প্রধান খাতে এই সহায়তার চাহিদা দেওয়া হয়েছে।

‎ইসির পেশ করা চাহিদাপত্রে দেখা যায়, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং ব্যবস্থা আধুনিকায়নে সহায়তার আবেদন করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে আইটি অবকাঠামো ও প্রযুক্তি। মাঠপর্যায়ে ফলাফল সংগ্রহ ও দ্রুত সমন্বয়ের জন্য জেলা ও উপজেলা নির্বাচন অফিসে ল্যাপটপ, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কালার প্রিন্টার, স্ক্যানার, ফটোকপিয়ার ও মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর সরবরাহ।

‎ এছাড়া আধুনিক ‘ইলেকশন মনিটরিং সেল’ গঠন, নির্বাচনি তথ্য বিশ্লেষণ এবং বিশেষ ডেটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

‎এছাড়া ভোটার সচেতনতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে। নারী, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণে বিশেষ প্রচারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো জেন্ডার সংবেদনশীল নির্বাচন ব্যবস্থাপনা, প্রবীণ ও শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জড ভোটারদের কেন্দ্রভিত্তিক সঠিক পরিসংখ্যান নির্ণয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক ও লজিস্টিক সাপোর্ট চাওয়া হয়েছে।

‎যানবাহন ও অফিস সহায়তা

‎নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ও মনিটরিং জোরদারে মাঠপর্যায়ে ৫০৩টি উপজেলাসহ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের জন্য যানবাহন সরবরাহের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখা, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় শাখাগুলোর দাপ্তরিক কাজে ল্যাপটপ এবং সচিবালয় ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য মোবাইল ফোন সরবরাহের আবেদন রয়েছে।

‎প্রশিক্ষণ ও ম্যানুয়াল প্রস্তুতি

‎ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে আধুনিক প্রশিক্ষণ, অডিও-ভিজুয়াল উপকরণ ও ম্যানুয়াল তৈরির জন্য আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

‎লজিস্টিক ও গুদাম ব্যবস্থাপনা

‎স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স সরবরাহ (বা আর্থিক অনুদান), নির্বাচনি সামগ্রী নিরাপদ প্যাকেজিং, সঠিক পরিবহন ব্যবস্থা এবং আধুনিক ইনভেন্টরি ও গুদাম ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক কারিগরি অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় ইসি।

‎গবেষণা ও মূল্যায়ন

‎নির্বাচন সমাপ্তির পর একটি পূর্ণাঙ্গ ‘পোস্ট-ইলেকশন রিভিউ’, লিসনস লার্নড ওয়ার্কশপ আয়োজন এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচন প্রক্রিয়ার টেকসই উন্নয়নে গবেষণা পরিচালনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

‎ইসির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, আন্তর্জাতিক মানের একটি গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিশ্চিত করতেই এসব আন্তর্জাতিক সাহায্যকারী সংস্থার কারিগরি ও কাঠামোগত সহায়তা চাওয়া হয়েছে, যা নির্বাচনি কার্যক্রমে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।

‎এদিকে, আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন উপলক্ষে ইউপির জন্য নির্বাচন পরিচালন ম্যানুয়াল ১৫ হাজার কপি, উপজেলার জন্য ১০ হাজার কপি, জেলা পরিষদের জন্য ৩ হাজার কপি, ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ উপলক্ষ্যে ১৭ হাজার কপি এবং সিটির জন্য ২ হাজার ৮০০ কপি ম্যানুয়াল মুদ্রণের জন্য প্রস্তাবনা তৈরি করছে ইসি।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

নির্বাচনী বিধি আরও কঠোর: প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা পাচ্ছে কমিশন, বাড়ছে জরিমানা

আপডেট সময়ঃ ০২:১৩:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

হকবার্তা ডেস্ক:

‎০৪ আগস্ট ২০২৬

‎আসন্ন স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদসহ সব নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত ও সুশৃঙ্খল রাখতে আচরণ বিধিমালা-২০২৬-এর খসড়ায় একগুচ্ছ নতুন প্রস্তাব ও সংশোধনী আনা হয়েছে। প্রস্তাবিত বিধিমালা অনুযায়ী, নির্বাচনি বিধি লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) তাৎক্ষণিক তদন্ত সাপেক্ষে যেকোনো প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে। বাতিলের এই আদেশ গেজেট আকারে প্রকাশসহ সংশ্লিষ্ট প্রার্থী ও রিটার্নিং অফিসারকে জানানো হবে।

‎এছাড়া আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে অর্থদণ্ডের পরিমাণ বহুগুণ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদ্যমান বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ নিয়ম ভাঙলে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের বিধান থাকলেও নতুন খসড়ায় তা বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে ছয় মাসের কারাদণ্ডের শাস্তি অপরিবর্তিত থাকছে।

‎বিজ্ঞাপন

‎একই সঙ্গে অর্থ, অস্ত্র, পেশিশক্তি কিংবা স্থানীয় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নির্বাচন প্রভাবিত করার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখা হয়েছে। খসড়াটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে মাঠপর্যায়ে ইসির আইনি নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি আরো শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‎‘মার্চ টু ঢাকা’ ঘোষণা, এক দিনে নিহত শতাধিক‘মার্চ-টু-ঢাকা’-ঘোষণা,-একদিনে-নিহত-শতাধিক

 

‎ইউএনডিপি ও আইএফইএসের সহায়তা চায় ইসি

‎এদিকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেকটোরাল সিস্টেমস (আইএফইএস)-এর কাছে লজিস্টিক ও কারিগরি সহায়তার প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইসি।

‎কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ভোটার সচেতনতা বৃদ্ধি, আইটি সক্ষমতা বাড়ানো, নির্বাচন মনিটরিং এবং সার্বিক যানবাহন সুবিধাসহ মূলত সাতটি প্রধান খাতে এই সহায়তার চাহিদা দেওয়া হয়েছে।

‎ইসির পেশ করা চাহিদাপত্রে দেখা যায়, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং ব্যবস্থা আধুনিকায়নে সহায়তার আবেদন করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে আইটি অবকাঠামো ও প্রযুক্তি। মাঠপর্যায়ে ফলাফল সংগ্রহ ও দ্রুত সমন্বয়ের জন্য জেলা ও উপজেলা নির্বাচন অফিসে ল্যাপটপ, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কালার প্রিন্টার, স্ক্যানার, ফটোকপিয়ার ও মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর সরবরাহ।

‎ এছাড়া আধুনিক ‘ইলেকশন মনিটরিং সেল’ গঠন, নির্বাচনি তথ্য বিশ্লেষণ এবং বিশেষ ডেটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

‎এছাড়া ভোটার সচেতনতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে। নারী, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণে বিশেষ প্রচারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো জেন্ডার সংবেদনশীল নির্বাচন ব্যবস্থাপনা, প্রবীণ ও শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জড ভোটারদের কেন্দ্রভিত্তিক সঠিক পরিসংখ্যান নির্ণয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক ও লজিস্টিক সাপোর্ট চাওয়া হয়েছে।

‎যানবাহন ও অফিস সহায়তা

‎নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ও মনিটরিং জোরদারে মাঠপর্যায়ে ৫০৩টি উপজেলাসহ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের জন্য যানবাহন সরবরাহের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখা, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় শাখাগুলোর দাপ্তরিক কাজে ল্যাপটপ এবং সচিবালয় ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য মোবাইল ফোন সরবরাহের আবেদন রয়েছে।

‎প্রশিক্ষণ ও ম্যানুয়াল প্রস্তুতি

‎ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে আধুনিক প্রশিক্ষণ, অডিও-ভিজুয়াল উপকরণ ও ম্যানুয়াল তৈরির জন্য আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

‎লজিস্টিক ও গুদাম ব্যবস্থাপনা

‎স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স সরবরাহ (বা আর্থিক অনুদান), নির্বাচনি সামগ্রী নিরাপদ প্যাকেজিং, সঠিক পরিবহন ব্যবস্থা এবং আধুনিক ইনভেন্টরি ও গুদাম ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক কারিগরি অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় ইসি।

‎গবেষণা ও মূল্যায়ন

‎নির্বাচন সমাপ্তির পর একটি পূর্ণাঙ্গ ‘পোস্ট-ইলেকশন রিভিউ’, লিসনস লার্নড ওয়ার্কশপ আয়োজন এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচন প্রক্রিয়ার টেকসই উন্নয়নে গবেষণা পরিচালনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

‎ইসির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, আন্তর্জাতিক মানের একটি গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিশ্চিত করতেই এসব আন্তর্জাতিক সাহায্যকারী সংস্থার কারিগরি ও কাঠামোগত সহায়তা চাওয়া হয়েছে, যা নির্বাচনি কার্যক্রমে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।

‎এদিকে, আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন উপলক্ষে ইউপির জন্য নির্বাচন পরিচালন ম্যানুয়াল ১৫ হাজার কপি, উপজেলার জন্য ১০ হাজার কপি, জেলা পরিষদের জন্য ৩ হাজার কপি, ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ উপলক্ষ্যে ১৭ হাজার কপি এবং সিটির জন্য ২ হাজার ৮০০ কপি ম্যানুয়াল মুদ্রণের জন্য প্রস্তাবনা তৈরি করছে ইসি।