০২:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬

বিয়ের আশ্বাসে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, ইমাম গ্রেপ্তার

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময়ঃ ১২:৫২:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১০ বার পড়া হয়েছে।

‎হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট:

‎০৫ আগস্ট ২০২৬

‎বিয়ের প্রলোভনে এক কিশোরী কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে সুনামগঞ্জে মসজিদের এক ইমামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম হুমায়ুন আহমেদ (৩০)। তিনি বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের মধুরকান্দি গ্রামের ইছব আলীর ছেলে।

‎আদালতে মামলা দায়েরের পর মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাঘবের বাজার থেকে অভিযুক্ত ইমাম হুমায়ুনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

‎তিনি রতারগাঁও গ্রামের দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

‎মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হুমায়ুন আহমেদ রতারগাঁও গ্রামের দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদে ইমামতি করতেন। সেই সুবাদে মসজিদের পাশের একটি পরিবারের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে।

‎ একপর্যায়ে ওই পরিবারের সদস্য এবং দিগেন্দ্র বর্মন সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে ফুসলিয়ে কাছে টানেন তিনি।

‎মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ মে রাতে মোবাইল ফোনে বার্তা (মেসেজ) পাঠিয়ে ওই ছাত্রীকে মসজিদসংলগ্ন নিজ কক্ষে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন হুমায়ুন। বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য চাকুর ভয়ও দেখানো হয়।

‎ পরবর্তীতে গত ১৭ জুলাই দুপুরে তিনি দ্বিতীয়বার নিজ কক্ষে নিয়ে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন। বর্তমান স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তাকে বিয়ে করবেন—এমন প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়।

‎পরবর্তীতে ওই ছাত্রী বিয়ের জন্য চাপ দিলে ইমাম হুমায়ুন বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান এবং তাকে ভয়ভীতি দেখান। একপর্যায়ে গত জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে অসুস্থ হয়ে পড়লে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন ওই ছাত্রী।

‎এ ঘটনায় গত ২৬ জুলাই ভুক্তভোগী কলেজছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে অভিযুক্ত হুমায়ুন আহমেদের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বিশ্বম্ভরপুর থানা-পুলিশকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

‎বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী থানায় মামলা নথিভুক্ত করা হয় এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আগামীকাল বুধবার আদালতে সোপর্দ করা হবে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

বিয়ের আশ্বাসে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, ইমাম গ্রেপ্তার

আপডেট সময়ঃ ১২:৫২:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

‎হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট:

‎০৫ আগস্ট ২০২৬

‎বিয়ের প্রলোভনে এক কিশোরী কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে সুনামগঞ্জে মসজিদের এক ইমামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম হুমায়ুন আহমেদ (৩০)। তিনি বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের মধুরকান্দি গ্রামের ইছব আলীর ছেলে।

‎আদালতে মামলা দায়েরের পর মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাঘবের বাজার থেকে অভিযুক্ত ইমাম হুমায়ুনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

‎তিনি রতারগাঁও গ্রামের দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

‎মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হুমায়ুন আহমেদ রতারগাঁও গ্রামের দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদে ইমামতি করতেন। সেই সুবাদে মসজিদের পাশের একটি পরিবারের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে।

‎ একপর্যায়ে ওই পরিবারের সদস্য এবং দিগেন্দ্র বর্মন সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে ফুসলিয়ে কাছে টানেন তিনি।

‎মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ মে রাতে মোবাইল ফোনে বার্তা (মেসেজ) পাঠিয়ে ওই ছাত্রীকে মসজিদসংলগ্ন নিজ কক্ষে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন হুমায়ুন। বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য চাকুর ভয়ও দেখানো হয়।

‎ পরবর্তীতে গত ১৭ জুলাই দুপুরে তিনি দ্বিতীয়বার নিজ কক্ষে নিয়ে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন। বর্তমান স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তাকে বিয়ে করবেন—এমন প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়।

‎পরবর্তীতে ওই ছাত্রী বিয়ের জন্য চাপ দিলে ইমাম হুমায়ুন বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান এবং তাকে ভয়ভীতি দেখান। একপর্যায়ে গত জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে অসুস্থ হয়ে পড়লে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন ওই ছাত্রী।

‎এ ঘটনায় গত ২৬ জুলাই ভুক্তভোগী কলেজছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে অভিযুক্ত হুমায়ুন আহমেদের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বিশ্বম্ভরপুর থানা-পুলিশকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

‎বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী থানায় মামলা নথিভুক্ত করা হয় এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আগামীকাল বুধবার আদালতে সোপর্দ করা হবে।