০১:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

পৌর কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল;বন্যার শঙ্কা!

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময়ঃ ০৮:০১:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
  • / ২৫ বার পড়া হয়েছে।

পৌর কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল;বন্যার শঙ্কা!

ডেস্ক  রিপোর্ট
১১ জুলাই, ২০২৬

ছবি সংগৃহীত

 

সুনামগঞ্জে নদ-নদীর পানি কিছুটা কমেছে। গত শুক্রবার দিন ও রাতে বৃষ্টি কম হওয়ায় পানি কমেছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা।
এদিকে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সুনামগঞ্জ পৌরসভায় নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে কর্মকর্তা—কর্মচারীদের ছুটি। বন্যা মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
সংবাদ সাবস্ক্রিপশন

 

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৯টায় সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ৭ দশমিক ২৪ সেন্টিমিটার। গত শুক্রবার একই সময়ে তা ছিল ৭ দশমিক ৩০ সেন্টিমিটার। সুনামগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ৪৫ মিলিমিটার। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছিল ৭৭ মিলিমিটার। বৃষ্টি কম হওয়ায় এবং উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নামা কমায় নদ—নদীর পানি কিছুটা কমেছে।
 

উজানের ভারতের মেঘালয় চেরাপুঞ্জি ও সুনামগঞ্জে ৫ দিনের লাগাতার বৃষ্টিতে জেলার সুরমা—কুশিয়ারাপাড়ের নিম্নাঞ্চলের গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামোর বেহাল অবস্থা হয়েছে। সড়ক ডুবে গ্রামীণ যাতায়াত ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। অনেক এলাকার বাসিন্দারা ঘর থেকে জরুরি কাজে বের হতেও কষ্টের মধ্যে পড়েছেন।

বিশেষ করে জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার কুশিয়ারা নদীর পাড়ের পাইলগাঁও ও রানীগঞ্জ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের গ্রাম এবং দিরাই উপজেলার মাকুর্লি এলাকাতে এই অবস্থা হয়েছে। সুনামগঞ্জ শহরতলির কোরবাননগর, মোল্লাপাড়া ও লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের গ্রামগুলোর মানুষেরাও সড়ক ডুবায় ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন।
সদর উপজেলার সুরমা নদীর তীরের ইব্রাহীমপুর গ্রামের বাসিন্দা মইনুল হোসেন বলেন, গত শুক্রবার রাতে বৃষ্টি কম হয়েছে। উজানের পাহাড়ি ঢলও কম নেমেছে। তাই সুরমা নদীর পানি সামান্য কমেছে। তবে বৃষ্টি হলে পানি বাড়ার শঙ্কা তাঁর।
সুনামগঞ্জে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে। বৃষ্টি হলে পানি বাড়বে। এতে জেলায় স্বল্প মেয়াদে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছেন পাউবোর সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. এমদাদুল হক।

এদিকে টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সুনামগঞ্জ পৌরসভায় নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছে। কর্মকর্তা—কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া জেলার অন্য তিনটি পৌরসভা দিরাই, জগন্নাথপুর ও ছাতকে নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলাসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

গত শুক্রবার রাতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মতিউর রহমান খান স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, সুরমা নদীর পানি ওঠা—নামা করছে। সকালে বিপদ সীমার ৫৬ সেন্টি মিটার নিচে সাত দশমিক ২৪ মিটার উচ্চতায় ছিল পানি। গেল ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ৪৫ মিলি মিটার। আগামী দুইদিন এভাবে বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে জানিয়ে এই কর্মকর্তা বলেছেন, নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সাত দশমিক ২২ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। এই নদীর পাড়ের নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। চলাচলের অনেক সড়ক ডুবে নিচু এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার ১ হাজার ৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধারকাজ পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত নৌযান, স্বেচ্ছাসেবক এবং ১ হাজার ৫৬টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত আছে। জেলার ১২টি উপজেলায় ১ হাজার ২০০ প্যাকেট শুকনা খাবার, জিআর চাল পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

পৌর কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল;বন্যার শঙ্কা!

আপডেট সময়ঃ ০৮:০১:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

পৌর কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল;বন্যার শঙ্কা!

ডেস্ক  রিপোর্ট
১১ জুলাই, ২০২৬

ছবি সংগৃহীত

 

সুনামগঞ্জে নদ-নদীর পানি কিছুটা কমেছে। গত শুক্রবার দিন ও রাতে বৃষ্টি কম হওয়ায় পানি কমেছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা।
এদিকে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সুনামগঞ্জ পৌরসভায় নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে কর্মকর্তা—কর্মচারীদের ছুটি। বন্যা মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
সংবাদ সাবস্ক্রিপশন

 

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৯টায় সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ৭ দশমিক ২৪ সেন্টিমিটার। গত শুক্রবার একই সময়ে তা ছিল ৭ দশমিক ৩০ সেন্টিমিটার। সুনামগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ৪৫ মিলিমিটার। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছিল ৭৭ মিলিমিটার। বৃষ্টি কম হওয়ায় এবং উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নামা কমায় নদ—নদীর পানি কিছুটা কমেছে।
 

উজানের ভারতের মেঘালয় চেরাপুঞ্জি ও সুনামগঞ্জে ৫ দিনের লাগাতার বৃষ্টিতে জেলার সুরমা—কুশিয়ারাপাড়ের নিম্নাঞ্চলের গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামোর বেহাল অবস্থা হয়েছে। সড়ক ডুবে গ্রামীণ যাতায়াত ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। অনেক এলাকার বাসিন্দারা ঘর থেকে জরুরি কাজে বের হতেও কষ্টের মধ্যে পড়েছেন।

বিশেষ করে জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার কুশিয়ারা নদীর পাড়ের পাইলগাঁও ও রানীগঞ্জ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের গ্রাম এবং দিরাই উপজেলার মাকুর্লি এলাকাতে এই অবস্থা হয়েছে। সুনামগঞ্জ শহরতলির কোরবাননগর, মোল্লাপাড়া ও লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের গ্রামগুলোর মানুষেরাও সড়ক ডুবায় ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন।
সদর উপজেলার সুরমা নদীর তীরের ইব্রাহীমপুর গ্রামের বাসিন্দা মইনুল হোসেন বলেন, গত শুক্রবার রাতে বৃষ্টি কম হয়েছে। উজানের পাহাড়ি ঢলও কম নেমেছে। তাই সুরমা নদীর পানি সামান্য কমেছে। তবে বৃষ্টি হলে পানি বাড়ার শঙ্কা তাঁর।
সুনামগঞ্জে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে। বৃষ্টি হলে পানি বাড়বে। এতে জেলায় স্বল্প মেয়াদে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছেন পাউবোর সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. এমদাদুল হক।

এদিকে টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সুনামগঞ্জ পৌরসভায় নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছে। কর্মকর্তা—কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া জেলার অন্য তিনটি পৌরসভা দিরাই, জগন্নাথপুর ও ছাতকে নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলাসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

গত শুক্রবার রাতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মতিউর রহমান খান স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, সুরমা নদীর পানি ওঠা—নামা করছে। সকালে বিপদ সীমার ৫৬ সেন্টি মিটার নিচে সাত দশমিক ২৪ মিটার উচ্চতায় ছিল পানি। গেল ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ৪৫ মিলি মিটার। আগামী দুইদিন এভাবে বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে জানিয়ে এই কর্মকর্তা বলেছেন, নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সাত দশমিক ২২ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। এই নদীর পাড়ের নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। চলাচলের অনেক সড়ক ডুবে নিচু এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার ১ হাজার ৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধারকাজ পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত নৌযান, স্বেচ্ছাসেবক এবং ১ হাজার ৫৬টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত আছে। জেলার ১২টি উপজেলায় ১ হাজার ২০০ প্যাকেট শুকনা খাবার, জিআর চাল পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে