জরুরি কন্ট্রোল রুম চালুর নির্দেশঃ
বন্যা শঙ্কায় সুনামগঞ্জ: সব কর্মকর্তার ছুটি বাতিল
- আপডেট সময়ঃ ০৬:০০:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
- / ২৪ বার পড়া হয়েছে।
ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর লাগাতার অতিবৃষ্টির জেরে বন্যার আশঙ্কায় ভুগছে সুনামগঞ্জ। জেলাজুড়ে সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় এবার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলার চারটি পৌরসভার সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সব ধরনের ছুটি বাতিল করে তাঁদের কর্মস্থলে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়ের জন্য প্রতিটি পৌরসভায় জরুরি কন্ট্রোল রুম চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত শুক্রবার মধ্যরাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখা থেকে জারি করা পৃথক দুটি অফিস আদেশে এই জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়। উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মতিউর রহমান খান স্বাক্ষরিত ওই আদেশে জানানো হয়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই আগাম সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
কর্মস্থলে থাকার কড়া নির্দেশ, খোলা হচ্ছে কন্ট্রোল রুমঃ
প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী- সুনামগঞ্জ সদর, ছাতক, জগন্নাথপুর ও দিরাই পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো ছুটি পাবেন না। দুর্যোগকালীন এই সময়ে নাগরিকদের পাশে থাকতে তাঁদের সার্বক্ষণিক কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
জরুরি কন্ট্রোল রুম চালুর পাশাপাশি সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন থেকেই প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য, গো-খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, জরুরি ওষুধ ও পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী। যেকোনো আপদকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় আশ্রয়কেন্দ্র, উদ্ধারকারী নৌযান, স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী এবং মেডিকেল টিমকে শতভাগ প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে প্রচার কার্যক্রম জোরদার করারও তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের ব্যাপক প্রস্তুতিঃ
সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি ও জনদুর্ভোগ কমাতে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। জেলার ১২টি উপজেলায় ইতোমধ্যে ১ হাজার ৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক নৌযান ও স্বেচ্ছাসেবক দল প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি গঠন করা হয়েছে ১ হাজার ৫৬টি মেডিকেল টিম। জরুরি সহায়তার জন্য প্রতিটি উপজেলাতেই আগাম জিআর চাল বরাদ্দ পাঠানো হয়েছে এবং শুকনো খাবারসহ অন্যান্য ত্রাণসামগ্রীর পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করা হয়েছে।
পরিস্থিতি পরিদর্শনে জেলা প্রশাসকঃ
শনিবার দুপুরে জেলার সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শক্তিয়ারখলা এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির পানি সাবমার্জিবল (ডুবন্ত) সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কড়চার হাওরে গিয়ে পড়ছে। তবে বৃষ্টিপাত কিছুটা কমে আসায় রাস্তার ওপর জমে থাকা পানিও নামতে শুরু করেছে।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, সম্ভাব্য যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর ও সংস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তথ্যসুত্রঃমানবজমিন




















