০৫:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

সুনামগঞ্জের (দোয়ারাবাজারে) জমি নিয়ে বিরোধে বৃদ্ধকে শ্বাসরোধে হত্যা: পুত্রবধূসহ ৩ আসামি গ্রেপ্তার

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময়ঃ ০২:০৮:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১১ বার পড়া হয়েছে।

‎হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

‎১৭ আগস্ট ২০২৬

‎সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে জমি লিখে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে মোহাম্মদ আলী (৮৫) নামে এক বৃদ্ধকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পলাতক তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৯

 

‎গ্রেপ্তাররা হলেন—মামলার এজাহারনামীয় ১ নম্বর আসামি হোছনা বেগম (স্বামী ইসমাইল মিয়া), ২ নম্বর আসামি রুহুল আমীন (২২) এবং ৩ নম্বর আসামি নজরুল ইসলাম (২০)। তারা সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাসিন্দা।

‎র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, নিহত মোহাম্মদ আলী দোয়ারাবাজার থানাধীন সোনাপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, নিহতের ছেলে ইসমাইল মিয়া এবং পুত্রবধূ হোছনা বেগম ভিকটিমের জমি নিজেদের নামে লিখে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন। জমি লিখে দিতে রাজি না হওয়ায় তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো।

‎এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ইসমাইল মিয়া সৌদি আরবে প্রবাসী থাকায় তার স্ত্রী হোছনা বেগম সন্তানদের নিয়ে শ্বশুর মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে বসবাস করতেন। একপর্যায়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মোহাম্মদ আলীকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

‎অভিযোগ অনুযায়ী, হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে হোছনা বেগম রুহুল আমীনের সঙ্গে ৫০ হাজার টাকার চুক্তি করেন। ওই চুক্তি অনুযায়ী ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১১টা ৫০ মিনিটে রুহুল আমীন, নজরুল ইসলাম ও জিয়াউর রহমান নামে আরও একজন ভিকটিমের বাড়িতে যায়।

‎পরে হোছনা বেগমের সহযোগিতায় তারা মোহাম্মদ আলীর ঘরে প্রবেশ করে। সেখানে তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। হত্যার পর তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

‎এ ঘটনায় নিহতের নাতনি বাদী হয়ে দোয়ারাবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দোয়ারাবাজার থানার মামলা নং-২৪, ধারা ৩০২/১০৯/৩৪, পেনাল কোড ১৮৬০।

‎মামলার আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র‍্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।

‎এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৯-এর সিপিসি-৩, সুনামগঞ্জের একটি আভিযানিক দল সোমবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে দোয়ারাবাজার থানাধীন সোনাপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মামলার এজাহারনামীয় ১ নম্বর পলাতক আসামি হোছনা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

‎এরপর একই মামলার অপর দুই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে র‍্যাব। দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে দোয়ারাবাজার থানাধীন হাবিবনগর এলাকায় একটি বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় ২ নম্বর আসামি রুহুল আমীন (২২) এবং ৩ নম্বর আসামি নজরুল ইসলামকে (২০) গ্রেপ্তার করা হয়।

‎রুহুল আমীন হাবিবনগর এলাকার খায়রুল ইসলামের ছেলে এবং নজরুল ইসলাম একই এলাকার মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে।

‎র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দোয়ারাবাজার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে র‍্যাব-৯-এর গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

সুনামগঞ্জের (দোয়ারাবাজারে) জমি নিয়ে বিরোধে বৃদ্ধকে শ্বাসরোধে হত্যা: পুত্রবধূসহ ৩ আসামি গ্রেপ্তার

আপডেট সময়ঃ ০২:০৮:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

‎হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

‎১৭ আগস্ট ২০২৬

‎সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে জমি লিখে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে মোহাম্মদ আলী (৮৫) নামে এক বৃদ্ধকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পলাতক তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৯

 

‎গ্রেপ্তাররা হলেন—মামলার এজাহারনামীয় ১ নম্বর আসামি হোছনা বেগম (স্বামী ইসমাইল মিয়া), ২ নম্বর আসামি রুহুল আমীন (২২) এবং ৩ নম্বর আসামি নজরুল ইসলাম (২০)। তারা সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাসিন্দা।

‎র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, নিহত মোহাম্মদ আলী দোয়ারাবাজার থানাধীন সোনাপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, নিহতের ছেলে ইসমাইল মিয়া এবং পুত্রবধূ হোছনা বেগম ভিকটিমের জমি নিজেদের নামে লিখে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন। জমি লিখে দিতে রাজি না হওয়ায় তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো।

‎এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ইসমাইল মিয়া সৌদি আরবে প্রবাসী থাকায় তার স্ত্রী হোছনা বেগম সন্তানদের নিয়ে শ্বশুর মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে বসবাস করতেন। একপর্যায়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মোহাম্মদ আলীকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

‎অভিযোগ অনুযায়ী, হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে হোছনা বেগম রুহুল আমীনের সঙ্গে ৫০ হাজার টাকার চুক্তি করেন। ওই চুক্তি অনুযায়ী ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১১টা ৫০ মিনিটে রুহুল আমীন, নজরুল ইসলাম ও জিয়াউর রহমান নামে আরও একজন ভিকটিমের বাড়িতে যায়।

‎পরে হোছনা বেগমের সহযোগিতায় তারা মোহাম্মদ আলীর ঘরে প্রবেশ করে। সেখানে তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। হত্যার পর তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

‎এ ঘটনায় নিহতের নাতনি বাদী হয়ে দোয়ারাবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দোয়ারাবাজার থানার মামলা নং-২৪, ধারা ৩০২/১০৯/৩৪, পেনাল কোড ১৮৬০।

‎মামলার আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র‍্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।

‎এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৯-এর সিপিসি-৩, সুনামগঞ্জের একটি আভিযানিক দল সোমবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে দোয়ারাবাজার থানাধীন সোনাপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মামলার এজাহারনামীয় ১ নম্বর পলাতক আসামি হোছনা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

‎এরপর একই মামলার অপর দুই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে র‍্যাব। দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে দোয়ারাবাজার থানাধীন হাবিবনগর এলাকায় একটি বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় ২ নম্বর আসামি রুহুল আমীন (২২) এবং ৩ নম্বর আসামি নজরুল ইসলামকে (২০) গ্রেপ্তার করা হয়।

‎রুহুল আমীন হাবিবনগর এলাকার খায়রুল ইসলামের ছেলে এবং নজরুল ইসলাম একই এলাকার মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে।

‎র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দোয়ারাবাজার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে র‍্যাব-৯-এর গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।