স্কুলে মোবাইল ফোন আনলেই বহিষ্কার, বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের কড়া ঘোষণা
- আপডেট সময়ঃ ০৬:৪৭:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫ বার পড়া হয়েছে।
হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;
সুনামগঞ্জ । ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে কোনো শিক্ষার্থীর কাছে মোবাইল ফোন পাওয়া গেলে তাকে বহিষ্কার করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম ধানু।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে বিদ্যালয়ের নিয়মিত অ্যাসেম্বলি শেষে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে এ ঘোষণা দেন তিনি। পরে তাঁর বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে প্রধান শিক্ষককে বলতে শোনা যায়, ‘তোমরা আগামীকাল থেকে কোনো ছেলে স্কুলে ফোন সঙ্গে নিয়ে আসতে পারবে না। স্কুলের গেটের ভেতরে ফোন নিয়ে ঢুকতে পারবে না। যদি কারও কাছে ফোন পাওয়া যায়, স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হবে।’
এ সময় দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে তাদের টেস্ট পরীক্ষা শুরু হবে। তাই পরীক্ষাকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিদ্যালয় সূত্র জানায়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোবাইল ফোনের ব্যবহার ও আসক্তি কমাতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভায় ক্যাম্পাসে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম ধানু বলেন, মোবাইল ফোনের প্রতি আসক্তির কারণে অনেক শিক্ষার্থীর লেখাপড়ায় মনোযোগ কমে যাচ্ছে। মাঝেমধ্যে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন জব্দ করা হলেও পরে অভিভাবকদের অনুরোধে সেগুলো ফেরত দেওয়া হয়েছে।
তাঁর ভাষ্য, এবার বিষয়টি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতেই পরিচালনা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—কোনো শিক্ষার্থী বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। কারও কাছে ফোন পাওয়া গেলে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।
১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১ হাজার ২১৮ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। চলতি বছর বিদ্যালয়টি থেকে ২১৩ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ১০৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে এবং তিনজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
বৃহস্পতিবারের অ্যাসেম্বলিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ছাড়াও পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সদস্য আজিজুল হক, বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মী আবির হাসান মানিক এবং ব্যবসায়ী সারোয়ার ইবনে গিয়াস উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান শিক্ষক বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন মোবাইল ফোনের নেতিবাচক প্রভাব থেকে দূরে থেকে পড়াশোনায় মনোযোগী হয় এবং ভালো ফলাফল অর্জনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে—বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মূল লক্ষ্য সেটিই।


















