০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

২৫০ শয্যা হাসপাতালে সহস্রাধিক রোগীর চাপ: জনবল ও ওষুধ সংকটে নাকাল চিকিৎসাসেবা

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময়ঃ ০২:২০:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২৬ বার পড়া হয়েছে।

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ০৫ অক্টোবর ২০২৬

 

 

সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে চরম চিকিৎসক, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় জনবল সংকট দেখা দিয়েছে। ২৫০ শয্যার অনুমোদন থাকলেও প্রতিদিন গড়ে সেবা দিতে হচ্ছে প্রায় এক হাজার রোগীকে। বিপরীতে সরকারি ওষুধ ও উপকরণ মিলে মাত্র আড়াইশো জন রোগীর বরাদ্দ। ফলে সাধ্য ও চাহিদার এই বিশাল ফারাক সামলাতে গিয়ে প্রতিদিন হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

 

 

রবিবার বিকেলে হাসপাতালের ক্ষুদ্র সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ব্যবস্থাপনা কমিটির এক সভায় এসব তথ্য বেরিয়ে আসে। সভায় হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে জেলা প্রশাসক মো. মিনহাজুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী জালালুদ্দিন মোর্শেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান এবং হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আলী আশরাফ সোহাগসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অ্যাম্বুলেন্স ও ওষুধ সংকট নিরসন এবং দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধের ওপর বিশদ আলোচনা করা হয়।

 

 

হাসপাতালের সার্বিক অবস্থা তুলে ধরে তত্ত্বাবধায়ক ডা. আলী আশরাফ সোহাগ জানান, পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় সেবা ব্যাহত হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, শিশু বিভাগে মাত্র দুজন কনসালটেন্ট কর্মরত থাকলেও সেখানে দৈনিক ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রায় ৩৫০ জন, পাশাপাশি আউটডোরের রোগীও তাঁদের সামলাতে হয়। একইভাবে মেডিসিন বিভাগের মাত্র তিনজন কনসালটেন্টকে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ ভর্তি রোগী এবং আউটডোরে চিকিৎসকপ্রতি দুই শতাধিক রোগীর দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

 

 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে জেলার প্রায় ২৮ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার ভরসাস্থল এই হাসপাতালটি চালাতে দৈনিক অন্তত ৬০০ থেকে ৭০০ রোগীর ওষুধ বরাদ্দ প্রয়োজন। কিন্তু সরকারি বরাদ্দ মিলছে সর্বোচ্চ আড়াইশো জনের। এ ঘাটতি মেটাতে গিয়ে নির্ধারিত মেয়াদের ওষুধ দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে, বাধ্য হয়ে রোগীদের সীমিত পরিমাণে ওষুধ দিতে হচ্ছে।

 

 

দালালমুক্ত পরিবেশ গড়তে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার আশ্বাস দিয়ে জেলা প্রশাসক মো. মিনহাজুর রহমান জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনে পুলিশের সরাসরি সহায়তা নেওয়া হবে। এছাড়া হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সুসংহতকরণ, জন্ম-মৃত্যু সংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ এবং মন্ত্রণালয় থেকে জরুরি প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও পদ মঞ্জুরির জন্য সমন্বিত চাহিদাপত্র তৈরির পরামর্শ দেন তিনি।

 

সভাপতির বক্তব্যে সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম; হাসপাতালের সংকট নিরসনে সর্বোচ্চ চেষ্টার আশ্বাস দেন। তিনি উল্লেখ করেন, শয্যা ও বরাদ্দের তুলনায় রোগী সংখ্যা বহু গুণ বেশি হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালকে পূর্ণাঙ্গ শক্তিতে রূপান্তর ও সেবার মান বাড়াতে তিনি দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে জানান।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

২৫০ শয্যা হাসপাতালে সহস্রাধিক রোগীর চাপ: জনবল ও ওষুধ সংকটে নাকাল চিকিৎসাসেবা

আপডেট সময়ঃ ০২:২০:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ০৫ অক্টোবর ২০২৬

 

 

সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে চরম চিকিৎসক, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় জনবল সংকট দেখা দিয়েছে। ২৫০ শয্যার অনুমোদন থাকলেও প্রতিদিন গড়ে সেবা দিতে হচ্ছে প্রায় এক হাজার রোগীকে। বিপরীতে সরকারি ওষুধ ও উপকরণ মিলে মাত্র আড়াইশো জন রোগীর বরাদ্দ। ফলে সাধ্য ও চাহিদার এই বিশাল ফারাক সামলাতে গিয়ে প্রতিদিন হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

 

 

রবিবার বিকেলে হাসপাতালের ক্ষুদ্র সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ব্যবস্থাপনা কমিটির এক সভায় এসব তথ্য বেরিয়ে আসে। সভায় হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে জেলা প্রশাসক মো. মিনহাজুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী জালালুদ্দিন মোর্শেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান এবং হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আলী আশরাফ সোহাগসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অ্যাম্বুলেন্স ও ওষুধ সংকট নিরসন এবং দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধের ওপর বিশদ আলোচনা করা হয়।

 

 

হাসপাতালের সার্বিক অবস্থা তুলে ধরে তত্ত্বাবধায়ক ডা. আলী আশরাফ সোহাগ জানান, পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় সেবা ব্যাহত হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, শিশু বিভাগে মাত্র দুজন কনসালটেন্ট কর্মরত থাকলেও সেখানে দৈনিক ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রায় ৩৫০ জন, পাশাপাশি আউটডোরের রোগীও তাঁদের সামলাতে হয়। একইভাবে মেডিসিন বিভাগের মাত্র তিনজন কনসালটেন্টকে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ ভর্তি রোগী এবং আউটডোরে চিকিৎসকপ্রতি দুই শতাধিক রোগীর দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

 

 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে জেলার প্রায় ২৮ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার ভরসাস্থল এই হাসপাতালটি চালাতে দৈনিক অন্তত ৬০০ থেকে ৭০০ রোগীর ওষুধ বরাদ্দ প্রয়োজন। কিন্তু সরকারি বরাদ্দ মিলছে সর্বোচ্চ আড়াইশো জনের। এ ঘাটতি মেটাতে গিয়ে নির্ধারিত মেয়াদের ওষুধ দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে, বাধ্য হয়ে রোগীদের সীমিত পরিমাণে ওষুধ দিতে হচ্ছে।

 

 

দালালমুক্ত পরিবেশ গড়তে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার আশ্বাস দিয়ে জেলা প্রশাসক মো. মিনহাজুর রহমান জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনে পুলিশের সরাসরি সহায়তা নেওয়া হবে। এছাড়া হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সুসংহতকরণ, জন্ম-মৃত্যু সংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ এবং মন্ত্রণালয় থেকে জরুরি প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও পদ মঞ্জুরির জন্য সমন্বিত চাহিদাপত্র তৈরির পরামর্শ দেন তিনি।

 

সভাপতির বক্তব্যে সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম; হাসপাতালের সংকট নিরসনে সর্বোচ্চ চেষ্টার আশ্বাস দেন। তিনি উল্লেখ করেন, শয্যা ও বরাদ্দের তুলনায় রোগী সংখ্যা বহু গুণ বেশি হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালকে পূর্ণাঙ্গ শক্তিতে রূপান্তর ও সেবার মান বাড়াতে তিনি দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে জানান।