০৫:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময়ঃ ০২:৩৭:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
  • / ৫৯ বার পড়া হয়েছে।

এই দল হার মানতে শেখেনি মেসি
হক বার্তা ডেস্ক ১৩জুলাই ২০২৬ইং
ছবি সংগৃহীত

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ফুটবলবিশ্ব শাসন করছেন মেসি, জয় করেছেন সম্ভাব্য সব শিখর। ইংল্যান্ড জয় করে ফেলা লিওনেল মেসির জন্য অপেক্ষা করছে নতুন এক অভিজ্ঞতা। দুইশর বেশি ম্যাচ খেলা, শতাধিক গোল করা এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ক্যারিয়ারে কখনো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামেননি—তথ্যটাই এখন বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের আগে সবচেয়ে বেশি আলোচিত।

 

সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ের পর ৩-১ গোলে জিতেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। টানা দ্বিতীয় সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা আটলান্টার পথে পা বাড়াল। কেপ ভার্দে, মিশর এবং সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে টানা তিন ম্যাচেই ঘাম ঝরাতে হয়েছে। শেষ চার নিশ্চিত করার পর মেসির মনে ছিল স্বস্তি আর গর্বের মিশ্র অনুভূতি।

 

সুইসদের বিপক্ষে যে লড়াই সহজ হবে না, এটা আগেই জানতেন। ম্যাচ শেষে এ নিয়ে কথা বলেছেন আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী। ৩৯ বছর বয়সেও দর্শকদের বিনোদন দিয়ে যাওয়া মেসির বলছিলেন, ‘এই জয়ে আমি খুবই আনন্দিত, অনেক লড়াই করে পাওয়া একটি জয়। আমরা জানতাম ম্যাচটি খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে যাচ্ছে। সামনে যা আসছে, তার আগে একটি চাপমুক্ত সপ্তাহ কাটানোর জন্য আমাদের এ ধাপটি পার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’ দলের চিরচেনা মানসিক দৃঢ়তাই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দিয়েছে বলে জানান মেসি।

 

এই জয়ে নিশ্চিত হয়েছে টমাস টুখেলের ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এক ঐতিহাসিক লড়াই, যার গুরুত্ব আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী তারকার কাছে অন্যরকম। আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি, ২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার জার্সিতে অভিষেকের পর থেকে আজ পর্যন্ত মেসি কখনো ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হননি—দুই দল সবশেষ মুখোমুখি হয়েছিল ২০০৫ সালে, যে ম্যাচে মেসি ছিলেন না। আটলান্টার এই লড়াই হতে চলেছে মেসির ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল। ২০২২ সালে বিশ্বজয়ের পর এখন তিনি আরেকটি ফাইনালের মাত্র এক ধাপ দূরে, তার আগে টপকাতে হবে জার্মান কোচের অধীনে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ইংল্যান্ডকে।

 

মাঠের লড়াই শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে ভোলেননি মেসি। জয়ের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি পোস্ট করে তিনি তুলে ধরেন লিওনেল স্কালোনির দলের মানসিক শক্তির কথা, যে দলটি এখন টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বসেরা হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। তার বার্তার সারমর্ম ছিল স্পষ্ট—‘আবারও কষ্ট করতে হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এই দল হার মানতে শেখেনি। আমরা আবারও বিশ্বের সেরা চারে জায়গা করে নিয়েছি।’ এই পোস্টই যেন প্রতিফলন ঘটাল স্কালোনির আর্জেন্টিনার সেই মানসিকতার, যেখানে সেরা ছন্দে না থেকেও জয়ের পথ খুঁজে বের করাটাই এই দলের বড় শক্তি হয়ে উঠেছে।

ফুটবল বিশ্লেষকরাও একমত—এই ম্যাচ শুধু আরেকটি সেমিফাইনাল নয়, এটি এক অপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি। মেসি নিজেও একদিন বিদায় বলবেন আন্তর্জাতিক ফুটবলকে, কিন্তু তার আগে ইংল্যান্ডের মতো চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এক জাতির বিপক্ষে না খেলেই সরে যাওয়াটা যেন মানায় না তার মতো কিংবদন্তির। বুধবার আটলান্টায় শুধু একটি সেমিফাইনাল নয়, লেখা হতে চলেছে ফুটবল ইতিহাসের এক দীর্ঘ প্রতীক্ষিত অধ্যায়—যেখানে মুখোমুখি হবে বিশ্বফুটবলের সর্বকালের সেরাদের একজন আর এক

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপডেট সময়ঃ ০২:৩৭:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

এই দল হার মানতে শেখেনি মেসি
হক বার্তা ডেস্ক ১৩জুলাই ২০২৬ইং
ছবি সংগৃহীত

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ফুটবলবিশ্ব শাসন করছেন মেসি, জয় করেছেন সম্ভাব্য সব শিখর। ইংল্যান্ড জয় করে ফেলা লিওনেল মেসির জন্য অপেক্ষা করছে নতুন এক অভিজ্ঞতা। দুইশর বেশি ম্যাচ খেলা, শতাধিক গোল করা এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ক্যারিয়ারে কখনো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামেননি—তথ্যটাই এখন বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের আগে সবচেয়ে বেশি আলোচিত।

 

সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ের পর ৩-১ গোলে জিতেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। টানা দ্বিতীয় সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা আটলান্টার পথে পা বাড়াল। কেপ ভার্দে, মিশর এবং সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে টানা তিন ম্যাচেই ঘাম ঝরাতে হয়েছে। শেষ চার নিশ্চিত করার পর মেসির মনে ছিল স্বস্তি আর গর্বের মিশ্র অনুভূতি।

 

সুইসদের বিপক্ষে যে লড়াই সহজ হবে না, এটা আগেই জানতেন। ম্যাচ শেষে এ নিয়ে কথা বলেছেন আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী। ৩৯ বছর বয়সেও দর্শকদের বিনোদন দিয়ে যাওয়া মেসির বলছিলেন, ‘এই জয়ে আমি খুবই আনন্দিত, অনেক লড়াই করে পাওয়া একটি জয়। আমরা জানতাম ম্যাচটি খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে যাচ্ছে। সামনে যা আসছে, তার আগে একটি চাপমুক্ত সপ্তাহ কাটানোর জন্য আমাদের এ ধাপটি পার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’ দলের চিরচেনা মানসিক দৃঢ়তাই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দিয়েছে বলে জানান মেসি।

 

এই জয়ে নিশ্চিত হয়েছে টমাস টুখেলের ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এক ঐতিহাসিক লড়াই, যার গুরুত্ব আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী তারকার কাছে অন্যরকম। আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি, ২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার জার্সিতে অভিষেকের পর থেকে আজ পর্যন্ত মেসি কখনো ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হননি—দুই দল সবশেষ মুখোমুখি হয়েছিল ২০০৫ সালে, যে ম্যাচে মেসি ছিলেন না। আটলান্টার এই লড়াই হতে চলেছে মেসির ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল। ২০২২ সালে বিশ্বজয়ের পর এখন তিনি আরেকটি ফাইনালের মাত্র এক ধাপ দূরে, তার আগে টপকাতে হবে জার্মান কোচের অধীনে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ইংল্যান্ডকে।

 

মাঠের লড়াই শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে ভোলেননি মেসি। জয়ের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি পোস্ট করে তিনি তুলে ধরেন লিওনেল স্কালোনির দলের মানসিক শক্তির কথা, যে দলটি এখন টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বসেরা হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। তার বার্তার সারমর্ম ছিল স্পষ্ট—‘আবারও কষ্ট করতে হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এই দল হার মানতে শেখেনি। আমরা আবারও বিশ্বের সেরা চারে জায়গা করে নিয়েছি।’ এই পোস্টই যেন প্রতিফলন ঘটাল স্কালোনির আর্জেন্টিনার সেই মানসিকতার, যেখানে সেরা ছন্দে না থেকেও জয়ের পথ খুঁজে বের করাটাই এই দলের বড় শক্তি হয়ে উঠেছে।

ফুটবল বিশ্লেষকরাও একমত—এই ম্যাচ শুধু আরেকটি সেমিফাইনাল নয়, এটি এক অপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি। মেসি নিজেও একদিন বিদায় বলবেন আন্তর্জাতিক ফুটবলকে, কিন্তু তার আগে ইংল্যান্ডের মতো চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এক জাতির বিপক্ষে না খেলেই সরে যাওয়াটা যেন মানায় না তার মতো কিংবদন্তির। বুধবার আটলান্টায় শুধু একটি সেমিফাইনাল নয়, লেখা হতে চলেছে ফুটবল ইতিহাসের এক দীর্ঘ প্রতীক্ষিত অধ্যায়—যেখানে মুখোমুখি হবে বিশ্বফুটবলের সর্বকালের সেরাদের একজন আর এক