পাওনা টাকার হিসাব চাওয়ায় জেলহাজতের হুমকি—পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাঝির অভিযোগ
- আপডেট সময়ঃ ০৩:৩৫:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৪৯ বার পড়া হয়েছে।
হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;
সুনামগঞ্জে ।। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নৌকা ভাড়া বাবদ ৪৪ হাজার টাকা বকেয়া রাখা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং এক ব্যক্তিকে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রেখে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার ট্যাকেরঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নৌকার মাঝি সুজাহর হোসেন তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বকেয়া পাওনা আদায় এবং অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নের বিন্নারবন্দ গ্রামের বাসিন্দা সুজাহর হোসেন বড়ছড়া এলাকায় শ্রমিক সর্দারি করার পাশাপাশি ভাড়ায় নৌকা পরিচালনা করেন। প্রায় চার মাস আগে এসআই রফিকুল ইসলামের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কাজের কথা বলে দৈনিক (দিন-রাত) ৪ হাজার টাকা ভাড়ায় সুজাহরের ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকাটি চুক্তিতে নেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।
লিখিত অভিযোগে সুজাহর হোসেন উল্লেখ করেন, দীর্ঘ দিন নৌকা ব্যবহারের পর ১৪ দিনের ভাড়া বাবদ মোট ৫৬ হাজার টাকা পাওনা হয়। এর মধ্যে কয়েক দফায় ১২ হাজার টাকা পরিশোধ করা হলেও বাকি ৪৪ হাজার টাকা বকেয়া থেকে যায়। পাওনা টাকা দাবি করলে এসআই রফিকুল ইসলাম নানা বাহানায় সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা হলে মাঝিকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া শুরু হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২১ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টার দিকে বড়ছড়া কয়লাঘাট এলাকায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সবুজ আলমের অফিসে সুজাহর হোসেনের বড় ভাই ইকবাল হোসেনকে ডেকে নেন এসআই রফিকুল। সেখানে পাওনা টাকার বিষয়ে কথা বললে তিনি ইকবালকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দুই বছরের জেল খাটানোর ভয় দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অপারগতা জানালে ইকবালকে সেখানে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রেখে মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়। উপায়ান্তর না দেখে ইকবাল ফোনে স্থানীয় নবাব মিয়া ও হারুন মিয়াকে ডেকে আনেন। পরে তারা এসে নগদ ২০ হাজার টাকা দিলে ইকবালকে মুক্তি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী সুজাহর হোসেন জানান, এ ঘটনার পর মুখ খুললে পরিবারসহ মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) স্যারের কাছে গিয়ে ঘটনা জানালে তিনি তাহিরপুর থানার ওসিকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন।”
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ট্যাকেরঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রফিকুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, “ঐ ছেলেটি আমাদের মাঝি ছিল, তাকে আগেই বিদায় করে দেওয়া হয়েছে এবং তার পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে। উল্টো তার কাছেই আমার ৭ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। তাকে ক্যাম্পে আসতে বলা হলেও সে আসছে না।” তবে স্থানীয় কয়লা ডিপো কার্যালয়ে আটকে রেখে ২০ হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি পরবর্তীতে কথা বলবেন বলে এড়িয়ে যান।
এ বিষয়ে তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফারুক আহমেদ জানান, পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনা পেয়েছেন। তিনি বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে নৌকার মাঝির টাকা পাওনার সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে অবশ্যই তা পরিশোধ করতে হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে আগামী মাসের ৩ বা ৪ তারিখে ট্যাকেরঘাট পুলিশ ফাঁড়িতে থানার ওসি (তদন্ত) উপস্থিত থেকে উভয় পক্ষকে নিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি ও তদন্ত করবেন বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।










