পাথরের আঘাতে আলোচিত সোহাগ হত্যা মামলায় প্রধান আসামির অন্তর্বর্তীকালীন জামিন
- আপডেট সময়ঃ ০৯:১৬:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
- / ২২ বার পড়া হয়েছে।
হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট
সুনামগঞ্জ, ০২ অক্টোবর ২০২৬
পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ (৩৯) হত্যা মামলার প্রধান আসামি মাহমুদ হাসান মাহিনকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিচারপতি রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি সৈয়দ হাসান জুবায়েরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই জামিন আদেশ দেন। একই সঙ্গে মাহিনকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
এদিকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে আপিল করা হবে বলে রাষ্ট্রপক্ষের অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে মামলাটি ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আলমগীর হোসেনের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।
মামলার বিবরণ ও তদন্ত চিত্র;
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৯ জুলাই সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেট সংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন সোহাগ। অভিযোগে বলা হয়, পাকা রাস্তার ওপর তাকে ঘিরে ধরে ইট-পাথর দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পরদিন (১০ জুলাই) নিহতের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় ১৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর কোতোয়ালি থানার তৎকালীন ওসি ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান ২১ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রথম অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন। এতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় ১০ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে তদন্তে ত্রুটি থাকায় আদালত পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে চলতি বছরের ১০ মে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেন, যেখানে আগের ২১ জনকেই অভিযুক্ত রাখা হয়।
এর আগে, গত ১২ জানুয়ারি বিচারক আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছিলেন।
বর্তমান আসামিদের অবস্থা ও প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা;
মামলার এজাহারভুক্ত ২১ আসামির মধ্যে বর্তমানে ১০ জন কারাগারে, ৮ জন পলাতক এবং প্রধান আসামি মাহিনসহ ৩ জন জামিনে রয়েছেন।
গত ৩ আগস্ট আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে মামলার বাদী ও নিহত সোহাগের বোন মঞ্জুয়ারা বেগম হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বর্ণনা দেন। তিনি জানান, ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মাহিন, টিটু, লম্বা মনির, ছোট মনির, সজিব, রাজিব, রুমান বেপারী, আবির, আলমগীর, অপু দাস, অভি, টিটন গাজী ও রবিনসহ একদল সশস্ত্র হামলাকারী সোহাগকে ঘিরে ধরে।
জবানবন্দিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, হামলাকারীরা সোহাগকে উপরিউপরি মারধরের পাশাপাশি ইট-পাথরের খণ্ড দিয়ে আঘাত করে। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ভারি কংক্রিটের বোল্ডার দিয়ে মাথায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। এমনকি সোহাগের মৃত্যু হয়েছে কি না তা সুনিশ্চিত করতে লাশ মাড়িয়ে উল্লাস প্রকাশ করে ঘাতকরা।
উল্লেখ্য, নিহত সোহাগ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পূর্ব নামাবাড়ি গ্রামের ইউসুফ আলী হাওলাদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে মিটফোর্ড রজনী ঘোষ লেনে ভাঙারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।










