০২:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
নাইজেল ফারাজের নতুন নীতি প্রস্তাবে তীব্র বিতর্ক

কাউন্সিল হাউস না ছাড়লে ৩ মাসের মধ্যে বৃটেন থেকে বহিষ্কার:

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৯:৪৭:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • / ৫ বার পড়া হয়েছে।

‎যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বিদেশি নাগরিক এবং অভিবাসীদের জন্য আবারো অত্যন্ত কঠোর ও বিতর্কিত এক বার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রভাবশালী ডানপন্থী রাজনৈতিক দল রিফর্ম ইউকের নেতা এবং সংসদ সদস্য নাইজেল ফারাজ। 

‎তার নতুন এক নীতি প্রস্তাবে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের সরকারি সামাজিক আবাসন বা কাউন্সিল হাউসে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকরা যদি আগামী তিন মাসের মধ্যে নিজস্ব উদ্যোগে বিকল্প আবাসন খুঁজে নিতে ব্যর্থ হন, তবে তাদের বৃটেন থেকে সরাসরি বহিষ্কার বা ডিপোর্ট করা হবে

‎ফারাজের এই চরমপন্থী প্রস্তাবটি প্রকাশ্যে আসার পর বৃটিশ রাজনৈতিক অঙ্গন এবং অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র সমালোচনা, মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও তুমুল বিতর্কের ঝড় উঠেছে।

‎যুক্তরাজ্যের অন্যতম প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এ প্রকাশিত এক বিশেষ নিবন্ধে নাইজেল ফারাজ তার এই কঠোর পরিকল্পনার কথা বিশদভাবে তুলে ধরেন। তিনি প্রস্তাব করেন যে, যুক্তরাজ্যের সামাজিক আবাসন ব্যবস্থায় যেসব বিদেশি নাগরিক বর্তমানে বসবাস করছেন, তাদের জন্য তিন মাসের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বা গ্রেস পিরিয়ড বেঁধে দেওয়া উচিত। এই সময়ের মধ্যে তারা যদি নিজেদের জন্য ব্যক্তিগত কোনো বিকল্প আবাসন ব্যবস্থা করতে না পারেন, তবে যুক্তরাজ্যে তাদের থাকার আইনি অধিকার বা লিগ্যাল রাইট বাতিল করা হবে।

‎পরবর্তীতে সরকারের একটি বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে, যেটিকে তিনি ‘অপারেশন রিস্টোরিং জাস্টিস’ হিসেবে নামকরণ করার প্রস্তাব দিয়েছেন, তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।

‎তবে যারা দ্বৈত নাগরিকত্ব ধারণ করছেন, তাদের ক্ষেত্রে নিয়ম কিছুটা শিথিল রাখার কথা বলা হয়েছে। দ্বৈত নাগরিকদের সরাসরি কাউন্সিল হাউস ছাড়তে বাধ্য করা না হলেও, তাদের জন্য বরাদ্দকৃত হাউজিং বেনিফিটসহ বিভিন্ন সরকারি কল্যাণমূলক আর্থিক সুবিধা এবং ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন ফারাজ।

‎তার দাবি, ২০২০ সালের পর থেকে যুক্তরাজ্যের হাজার হাজার সামাজিক আবাসন মূলত শরণার্থীদের মাঝে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত অযৌক্তিক একটি সিদ্ধান্ত।

‎এই ধরনের নীতির কারণে স্থানীয় বৃটিশদের করের টাকায় পরিচালিত আবাসন ব্যবস্থা সংকটের মুখে পড়েছে বলে তিনি মনে করেন।

‎নাইজেল ফারাজ অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, রিফর্ম ইউকে যদি আগামীতে ক্ষমতায় আসে, তবে সামাজিক আবাসন বরাদ্দের ক্ষেত্রে সবার আগে মূল বৃটিশ নাগরিকদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা হবে। এই তালিকায় তিনি যুদ্ধফেরত সেনাসদস্যদের জন্য বিশেষ কোটা রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন।

‎পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় এলাকায় বসবাসকারী বৃটিশ নাগরিক, পারিবারিক সহিংসতার শিকার নারী ও পরিবার এবং কেয়ার সেন্টার থেকে সদ্য বেরিয়ে আসা তরুণ-তরুণীদের এই আবাসন সুবিধার তালিকায় সবার উপরে রাখার দাবি জানিয়েছেন।

‎ফারাজের মতে, বর্তমান অভিবাসন বান্ধব আবাসন নীতির কারণে যুক্তরাজ্যের মূল জনগোষ্ঠী তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং এর ফলে স্থানীয় সামাজিক কাঠামোর ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

‎রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নাইজেল ফারাজের এই প্রস্তাবকে তার দলের প্রচলিত অভিবাসন বিরোধী অবস্থানের আরও একটি চরম রূপ হিসেবে দেখছেন।

‎সাধারণ নির্বাচনের পর নিজের রাজনৈতিক অবস্থান আরও সুসংহত করতেই তিনি এই ধরনের উসকানিমূলক ও কঠোর প্রস্তাব সামনে এনেছেন বলে মনে করছেন অনেকে। এদিকে ফারাজের এই প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা ও বিরোধিতা করেছে বর্তমান বৃটিশ সরকারপক্ষ।

‎সরকারের হাউজিং সেক্রেটারি স্টিভ রিডের ঘনিষ্ঠ একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছে, ফারাজের এই প্রস্তাবটি সম্পূর্ণ অবাস্তব এবং আইনগতভাবে অসম্ভব। এই ধরনের নীতি বাস্তবায়ন করতে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন সংস্থা ‘আইসিই’ (ICE)-এর আদলে বৃটেনে একটি বিশাল আকারের বিশেষ ‘বহিষ্কার বাহিনী’ বা ডিপোর্টেশন ফোর্স গঠন করতে হবে, যা আধুনিক বৃটেনের গণতান্ত্রিক এবং মানবিক মূল্যবোধের সাথে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

 

মানবাধিকার সংগঠনগুলোও ফারাজের এই প্রস্তাবকে বর্ণবাদী এবং অমানবিক আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

 

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

নাইজেল ফারাজের নতুন নীতি প্রস্তাবে তীব্র বিতর্ক

কাউন্সিল হাউস না ছাড়লে ৩ মাসের মধ্যে বৃটেন থেকে বহিষ্কার:

আপডেট সময়ঃ ০৯:৪৭:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

‎যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বিদেশি নাগরিক এবং অভিবাসীদের জন্য আবারো অত্যন্ত কঠোর ও বিতর্কিত এক বার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রভাবশালী ডানপন্থী রাজনৈতিক দল রিফর্ম ইউকের নেতা এবং সংসদ সদস্য নাইজেল ফারাজ। 

‎তার নতুন এক নীতি প্রস্তাবে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের সরকারি সামাজিক আবাসন বা কাউন্সিল হাউসে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকরা যদি আগামী তিন মাসের মধ্যে নিজস্ব উদ্যোগে বিকল্প আবাসন খুঁজে নিতে ব্যর্থ হন, তবে তাদের বৃটেন থেকে সরাসরি বহিষ্কার বা ডিপোর্ট করা হবে

‎ফারাজের এই চরমপন্থী প্রস্তাবটি প্রকাশ্যে আসার পর বৃটিশ রাজনৈতিক অঙ্গন এবং অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র সমালোচনা, মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও তুমুল বিতর্কের ঝড় উঠেছে।

‎যুক্তরাজ্যের অন্যতম প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এ প্রকাশিত এক বিশেষ নিবন্ধে নাইজেল ফারাজ তার এই কঠোর পরিকল্পনার কথা বিশদভাবে তুলে ধরেন। তিনি প্রস্তাব করেন যে, যুক্তরাজ্যের সামাজিক আবাসন ব্যবস্থায় যেসব বিদেশি নাগরিক বর্তমানে বসবাস করছেন, তাদের জন্য তিন মাসের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বা গ্রেস পিরিয়ড বেঁধে দেওয়া উচিত। এই সময়ের মধ্যে তারা যদি নিজেদের জন্য ব্যক্তিগত কোনো বিকল্প আবাসন ব্যবস্থা করতে না পারেন, তবে যুক্তরাজ্যে তাদের থাকার আইনি অধিকার বা লিগ্যাল রাইট বাতিল করা হবে।

‎পরবর্তীতে সরকারের একটি বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে, যেটিকে তিনি ‘অপারেশন রিস্টোরিং জাস্টিস’ হিসেবে নামকরণ করার প্রস্তাব দিয়েছেন, তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।

‎তবে যারা দ্বৈত নাগরিকত্ব ধারণ করছেন, তাদের ক্ষেত্রে নিয়ম কিছুটা শিথিল রাখার কথা বলা হয়েছে। দ্বৈত নাগরিকদের সরাসরি কাউন্সিল হাউস ছাড়তে বাধ্য করা না হলেও, তাদের জন্য বরাদ্দকৃত হাউজিং বেনিফিটসহ বিভিন্ন সরকারি কল্যাণমূলক আর্থিক সুবিধা এবং ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন ফারাজ।

‎তার দাবি, ২০২০ সালের পর থেকে যুক্তরাজ্যের হাজার হাজার সামাজিক আবাসন মূলত শরণার্থীদের মাঝে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত অযৌক্তিক একটি সিদ্ধান্ত।

‎এই ধরনের নীতির কারণে স্থানীয় বৃটিশদের করের টাকায় পরিচালিত আবাসন ব্যবস্থা সংকটের মুখে পড়েছে বলে তিনি মনে করেন।

‎নাইজেল ফারাজ অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, রিফর্ম ইউকে যদি আগামীতে ক্ষমতায় আসে, তবে সামাজিক আবাসন বরাদ্দের ক্ষেত্রে সবার আগে মূল বৃটিশ নাগরিকদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা হবে। এই তালিকায় তিনি যুদ্ধফেরত সেনাসদস্যদের জন্য বিশেষ কোটা রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন।

‎পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় এলাকায় বসবাসকারী বৃটিশ নাগরিক, পারিবারিক সহিংসতার শিকার নারী ও পরিবার এবং কেয়ার সেন্টার থেকে সদ্য বেরিয়ে আসা তরুণ-তরুণীদের এই আবাসন সুবিধার তালিকায় সবার উপরে রাখার দাবি জানিয়েছেন।

‎ফারাজের মতে, বর্তমান অভিবাসন বান্ধব আবাসন নীতির কারণে যুক্তরাজ্যের মূল জনগোষ্ঠী তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং এর ফলে স্থানীয় সামাজিক কাঠামোর ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

‎রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নাইজেল ফারাজের এই প্রস্তাবকে তার দলের প্রচলিত অভিবাসন বিরোধী অবস্থানের আরও একটি চরম রূপ হিসেবে দেখছেন।

‎সাধারণ নির্বাচনের পর নিজের রাজনৈতিক অবস্থান আরও সুসংহত করতেই তিনি এই ধরনের উসকানিমূলক ও কঠোর প্রস্তাব সামনে এনেছেন বলে মনে করছেন অনেকে। এদিকে ফারাজের এই প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা ও বিরোধিতা করেছে বর্তমান বৃটিশ সরকারপক্ষ।

‎সরকারের হাউজিং সেক্রেটারি স্টিভ রিডের ঘনিষ্ঠ একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছে, ফারাজের এই প্রস্তাবটি সম্পূর্ণ অবাস্তব এবং আইনগতভাবে অসম্ভব। এই ধরনের নীতি বাস্তবায়ন করতে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন সংস্থা ‘আইসিই’ (ICE)-এর আদলে বৃটেনে একটি বিশাল আকারের বিশেষ ‘বহিষ্কার বাহিনী’ বা ডিপোর্টেশন ফোর্স গঠন করতে হবে, যা আধুনিক বৃটেনের গণতান্ত্রিক এবং মানবিক মূল্যবোধের সাথে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

 

মানবাধিকার সংগঠনগুলোও ফারাজের এই প্রস্তাবকে বর্ণবাদী এবং অমানবিক আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।