বেকুটিয়া সেতু: পিলারের পাইপ চুরির সময় হাতেনাতে আটক ১০, থানায় বিএনপি নেতার তদবির নিয়ে বিতর্ক
- আপডেট সময়ঃ ১১:৫২:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
- / ২০ বার পড়া হয়েছে।
হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;
সুনামগঞ্জ ।। ০৬ অক্টোবর ২০২৬
পিরোজপুর সদর উপজেলার কঁচা নদীর ওপর নির্মিত ঐতিহাসিক বেকুটিয়া ‘অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু’র পিলারের সুরক্ষায় ব্যবহৃত মূল্যবান লোহার পাইপ কেটে চুরির সময় হাতেনাতে ১০ জনকে আটক করেছে পিরোজপুর সদর থানা পুলিশ। রোববার গভীর রাতে সেতুর তলদেশে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানকালে চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি স্টিলের ট্রলার, গ্যাস সিলিন্ডার এবং পাইপ কাটার বিভিন্ন ভারী সরঞ্জাম জব্দ করে পুলিশ। উদ্ধারকৃত পাইপটি আনুমানিক ১০০ ফুট দীর্ঘ, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের পর সোমবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন— হুমায়ূন হাওলাদার, মাহাবুব শেখ, আমির হোসেন, বারেক শেখ, মো. সুমন সানা, মো. মিরাজুল ফকির, মো. সাদ্দাত শেখ, মো. সিয়াম হাওলাদার, আব্দুল জব্বার ভুট্ট এবং মিরাজ শেখ।
ঘটনার বিবরণ;
পুলিশ ও সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কঁচা নদীর প্রবল স্রোত ও নৌযানের ধাক্কা থেকে সেতুর পিলারের স্থায়িত্ব এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নদীর তলদেশে এসব ভারী লোহার পাইপ দিয়ে সুরক্ষা বেষ্টনী বা প্রটেক্টিভ পাইল গঠন করা হয়েছিল। রোববার রাত ১২টার দিকে সংঘবদ্ধ চোর চক্রটি গ্যাস কাটার মেশিন ব্যবহার করে পিলারের পাশ থেকে আনুমানিক ১০০ ফুট দীর্ঘ একটি পাইপ কেটে ট্রলারে তোলার চেষ্টা করছিল। খবর পেয়ে পিরোজপুর সদর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত সেখানে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে হাতেনাতে চক্রটিকে মালামালসহ আটক করে।
থানায় বিএনপি নেতার অবস্থান ও বিতর্ক;
এদিকে, আটককৃতদের ছাড়িয়ে নিতে শারিকতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হেমায়েত বেপারী পিরোজপুর সদর থানায় গিয়ে জোর সুপারিশ ও তদবির চালিয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। থানায় এই বিএনপি নেতার উপস্থিতি ঘিরে রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার আটকের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।
তবে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে হেমায়েত বেপারী জানান, আটক ব্যক্তিরা স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় শুধুমাত্র মানবিক কারণে তিনি খোঁজখবর নিতে থানায় গিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম খান এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা দলীয় তদন্তে প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তদন্তে পুলিশ;
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ চুরির এ ঘটনায় যুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সাথে, এ ঘটনায় উক্ত রাজনৈতিক নেতার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো ইন্ধন ও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছে পুলিশ। চুরির মূল চক্র ও ইন্ধনদাতাদের খুঁজে বের করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে

















