কার কাম;কার নাম? অপবিত্র মাহরাম
- আপডেট সময়ঃ ১২:৩৮:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
- / ২৪ বার পড়া হয়েছে।
কার কাম;কার নাম?
অপবিত্র মাহরাম
মূল হোতারা অধরা
হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্ট
০১ জুলাই, ২০২৬
তাহিরপুর উপজেলার মাহরাম নদীতে কোনো বৈধ ইজারা ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে চলছে অবাধ বালু উত্তোলন। অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী চক্র প্রশাসনের যোগসাজসে নদী থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে। মাঝেমধ্যে প্রশাসনের অভিযান পরিচালিত হলেও মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। ফলে অভিযানের কার্যকারিতা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রশাসনের অভিযানে কয়েকটি ছোট নৌকা জব্দ এবং নিম্ন আয়ের কয়েকজন শ্রমিককে আটক করা হলেও বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এতে প্রকৃত অপরাধীরা নিরাপদে থাকছে। জীবিকার তাগিদে কাজ করা শ্রমিকরাই কেবল আইনের আওতায় আসছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নদী থেকে উত্তোলিত বালু কয়েক কিলোমিটার দূরে বিশাল আকারের বাল্কহেড বা ডাম্পিং পয়েন্টে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। এসব স্থানে শত শত ঘনফুট বালু মজুত থাকলেও রহস্যজনক কারণে সেখানে কোনো অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে না। ফলে ছোট নৌকা জব্দ হলেও অবৈধভাবে মজুত করা বিপুল পরিমাণ বালু এবং এর সঙ্গে জড়িত মূল ব্যবসায়ীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, প্রশাসনের অভিযানের খবর আগেই মূল হোতাদের কাছে পৌঁছে যায়। ফলে তারা নিরাপদে সরে পড়েন, আর মাঠপর্যায়ে থাকা শ্রমিকরাই ধরা পড়েন। এতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হওয়ার পরিবর্তে কিছুদিন বিরতি দিয়ে আবারও আগের মতো কার্যক্রম শুরু হয়।
স্থানীয়দের দাবি, শুধুমাত্র শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হবে না। যারা এই ব্যবসার অর্থায়ন, নিয়ন্ত্রণ ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে নদী থেকে উত্তোলিত বালুর ডাম্পিং পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং অবৈধভাবে মজুত বালু জব্দেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
বাদাঘাট বিএনপির নেতা আবুল হোসেন বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত মূল হোতারা সব সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। তারাই সাধারণ শ্রমিকদের দিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলন করান। পরে সেই বালু বড় বড় বাল্কহেডে বোঝাই করে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হয়। কিন্তু প্রশাসনের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ থাকায় এসব বড় বাল্কহেডের বিরুদ্ধে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে শুধু ছোট ছোট নৌকা জব্দ করা হয়, এতে প্রকৃত অপরাধীরা থেকে যায় আড়ালেই। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হলে শ্রমিক নয়, এর নেপথ্যের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নদী থেকে উত্তোলিত বালু সরাসরি বড় বাল্কহেডে তোলা হয় না। বরং কয়েক কিলোমিটার ভাটিতে ডাম্পের বাজার, শ্রীপুর, কামারকান্দি, কাউকান্দি, লেদারবন্দ, পুরানকালাস এলাকায় নোঙর করে রাখা বড় বাল্কহেডগুলোতে ছোট ছোট নৌকায় করে বালু পৌঁছে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে শ্রমিকরা ছোট নৌকায় বালু তুলে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে আসেন। এরপর সেখানে অপেক্ষমাণ বড় বাল্কহেডে ধাপে ধাপে বালু লোড করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয় এবং গভীর রাত পর্যন্ত চলে। ছোট নৌকাগুলো একের পর এক বালু এনে বাল্কহেডে খালাস করে। একটি বাল্কহেড পূর্ণ হতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। শেষ রাতের দিকে লোডিং সম্পন্ন হলে ভোর হওয়ার আগেই বাল্কহেডগুলো গন্তব্যের উদ্দেশে এলাকা ছেড়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এভাবে রাতের আঁধারে নিয়মিত বালু পরিবহন হলেও সংশ্লিষ্ট ডাম্পিং ও লোডিং পয়েন্টগুলোতে অভিযান পরিচালিত হয় না। এ কারণে অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহনের মূল নেটওয়ার্ক অক্ষত থেকে যাচ্ছে বলে তাদের দাবি।
দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ইয়াকুব হোসেন বলেন, নদী থেকে ছোট ছোট নৌকায় বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে স্তুপ করা হয়। পরে সেখান থেকে বড় বড় বাল্কহেডে বালু লোড করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযানের সময় ছোট নৌকাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও বড় বাল্কহেডের বিরুদ্ধেও একইভাবে অভিযান পরিচালনা করা হলে অবৈধ বালু উত্তোলন অনেকাংশে কমে আসত।
তিনি আরও বলেন, যেভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, তা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। স্থানীয়ভাবে এমন আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া কিছু কিছু এলাকায় ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করেও বালু উত্তোলন হয় বলে অভিযোগ করেন ইয়াকুব হোসেন।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মেহেদী হাসান মানিক বললেন, বিষয়টি নিয়ে আইন—শৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও আলোচনা হয়েছে। আমরা স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের সহযোগিতায় ওখানে আরও বেশি অভিযান চালাবো। ওখানে অভিযানে রওয়ানা দিলে কোন না কোনভাবে খবর পেয়ে নৌকা—যন্ত্রপাতি রেখে অনেক সময় বালু খেকোরা সরে যায়। তবে স্তুপ করা বালু ও বড় নৌকা ডাম্পিংয়ে পেলেও জব্ধ করা হচ্ছে।










