৯ মাসের অভিবাসন পরিসংখ্যানে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশে এগিয়ে বাংলাদেশিরা
- আপডেট সময়ঃ ০২:১৬:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
- / ২৫ বার পড়া হয়েছে।
হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;
সুনামগঞ্জ ।। ২৫ অক্টোবর ২০২৬
ইউরোপে অবৈধভাবে প্রবেশের সামগ্রিক প্রবণতা হ্রাস পেলেও ভূমধ্যসাগরীয় রুটগুলোতে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের শীর্ষ তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের অক্টোবর মাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ৯ মাসে ইইউ সীমান্তে অবৈধ প্রবেশের ঘটনা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমেছে। তবে এই হ্রাসের ধারাতেও উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে বাংলাদেশিদের সরব উপস্থিতি।
প্রথম ৯ মাসে চিত্র: সামগ্রিক প্রবেশ কমলেও ঝুঁকিপূর্ণ রুট সচল ;
ফ্রন্টেক্সের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন সীমান্তে মোট ৯১ হাজারের বেশি অবৈধ প্রবেশের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কম। তবে ইতালি ও গ্রিসমুখী প্রধান দুই রুট—পূর্ব ও মধ্য ভূমধ্যসাগর দিয়ে আসা মোট অবৈধ অভিবাসীদের প্রায় ৬০ শতাংশই প্রবেশ করেছেন ছোট নৌকায়, যাদের একটি বড় অংশ বাংলাদেশি।
পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় রুট: চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে এ পথে প্রায় ৩১ হাজার ৮০০ জনের অবৈধ প্রবেশ শনাক্ত হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ কম। লিবিয়া থেকে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপমুখী এবং তুরস্কের স্থলসীমান্ত দিয়ে প্রবেশকারীদের মধ্যে সুদানি ও আফগান নাগরিকদের পাশাপাশি শীর্ষ অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশিরা। একাই সেপ্টেম্বরে এ পথে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ জনের অবৈধ প্রবেশের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় রুট: প্রথম নয় মাসে এ পথে প্রায় ২২ হাজার ৫০০ জনের অবৈধ প্রবেশ শনাক্ত হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৬ শতাংশ কম। লিবিয়া, তিউনিসিয়া ও আলজেরিয়া থেকে যাত্রা করা এ রুটের অভিবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন বাংলাদেশি, আলজেরীয় ও সোমালি নাগরিকরা।
কমেছে যাত্রা, তবে রয়ে গেছে প্রাণহানির ঝুঁকি
ইউরোপে অবৈধ প্রবেশের সামগ্রিক সংখ্যা কমলেও সমুদ্রপথের চরম ঝুঁকি একটুও কমেনি। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্যমতে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় দুই হাজার মানুষ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানবপাচারকারী চক্রগুলো অধিক মুনাফার লোভে অভিবাসীদের অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ও চলাচলের অনুপযোগী নৌকায় তুলে দেয়। অনুকূল আবহাওয়ার অপেক্ষায় রেখে এই চক্রগুলো অভিবাসীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়, যা তাদের জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
ফ্রন্টেক্সের নির্বাহী পরিচালক হ্যান্স লেইটেনস এই বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন, “ইউরোপে প্রবেশের অধিকাংশ অবৈধ চেষ্টা কমলেও পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। মানবপাচারকারী চক্রগুলো তাদের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করেনি, বরং তারা সবসময় নতুন সুযোগের অপেক্ষায় থাকে।”
নতুন নীতি ও কঠোর নজরদারি;
চলতি বছরের মাঝামাঝি থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে নতুন অভিবাসন ও আশ্রয় চুক্তি কার্যকর হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় ইইউর প্রতিটি সীমান্তে অবৈধ প্রবেশকারীদের জন্য একটি একক ও মানসম্মত যাচাই প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে।
নতুন এই প্রক্রিয়ার আওতায় সীমান্তে আগত ব্যক্তিদের জাতীয়তা নির্ধারণ, বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ এবং পরিচয়পত্র যাচাই করা হচ্ছে, যেখানে ফ্রন্টেক্সের কর্মকর্তারা সদস্যদেশগুলোকে সরাসরি সহায়তা করছেন। পরিচয় যাচাইয়ের পর যাদের আশ্রয়ের আবেদন বাতিল হচ্ছে, তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াও জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন আইনের আওতায় সম্প্রতি গ্রিস ও ইতালি থেকে প্রায় ৫৪ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপের সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও নতুন অভিবাসন নীতি কঠোর হওয়ায় অবৈধ অভিবাসনের সামগ্রিক হার কমছে। তবে মানবপাচার রোধে এবং তরুণদের অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা থেকে নিবৃত্ত করতে দেশের অভ্যন্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।




















