০৫:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

একরামুল হত্যা মামলা: শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময়ঃ ০২:১৭:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৩১ বার পড়া হয়েছে।

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ২৭ অক্টোবর ২০২৬

 

কক্সবাজারের টেকনাফে আলোচিত পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

 

 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

 

মামলার প্রেক্ষাপট ও শুনানির তারিখ পেছানোর কারণ

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর এ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন নির্ধারিত ছিল। তবে ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ না থাকায় রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানির তারিখ পরিবর্তন করে ২৭ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত দিনে ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ তাদের আইনি যুক্তি উপস্থাপন করবে।

 

এর আগে গত ২৬ জুলাই ১১ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে আটক, অপহরণ, বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে গুলি করে হত্যা, অপরাধ সংঘটনে সংশ্লিষ্টতা, প্ররোচনা, সহায়তা এবং হত্যার নির্দেশ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

আসামিদের বর্তমান আইনি পরিস্থিতি;

এই চাঞ্চল্যকর মামলায় বর্তমানে চারজন আসামি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন:

 

•কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি

•ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ

•ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম

•র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (বর্তমানে অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে)।

 

অন্যদিকে, মামলার প্রধান আসামি- ‘শেখ হাসিনাসহ ‘বাকি সাতজন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন। পলাতক অপর ছয় আসামি হলেন:

 

•সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল

•কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

•পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ

•মেজর (অব.) রুহুল আমিন

•লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমান

•প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব মাহমুদ

 

 

পলাতক আসামিদের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের পদক্ষেপ;

এর আগে গত ২৫ আগস্ট পলাতক সাত আসামিকে আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। তবে নির্ধারিত হাজিরার দিন গত ৭ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার চার আসামি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হলেও পলাতক সাত আসামি আত্মসমর্পণ করেননি। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৭ সেপ্টেম্বর পলাতক সাত আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২।

 

যেভাবে ঘটেছিল একরামুল হত্যা;

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফের কিরণতলীতে হোটেল নেটংয়ের সামনের সড়ক থেকে একরামুল হককে তুলে নেওয়া হয়। এর ঠিক এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যে—অর্থাৎ রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়া পাড়ায় মেরিন ড্রাইভের সাগরতীরে র‍্যাবের কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিনি নিহত হন।

 

নিহত একরামুল হক টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের এই বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিবার ও দেশবাসী দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

একরামুল হত্যা মামলা: শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ

আপডেট সময়ঃ ০২:১৭:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ২৭ অক্টোবর ২০২৬

 

কক্সবাজারের টেকনাফে আলোচিত পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

 

 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

 

মামলার প্রেক্ষাপট ও শুনানির তারিখ পেছানোর কারণ

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর এ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন নির্ধারিত ছিল। তবে ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ না থাকায় রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানির তারিখ পরিবর্তন করে ২৭ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত দিনে ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ তাদের আইনি যুক্তি উপস্থাপন করবে।

 

এর আগে গত ২৬ জুলাই ১১ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে আটক, অপহরণ, বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে গুলি করে হত্যা, অপরাধ সংঘটনে সংশ্লিষ্টতা, প্ররোচনা, সহায়তা এবং হত্যার নির্দেশ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

আসামিদের বর্তমান আইনি পরিস্থিতি;

এই চাঞ্চল্যকর মামলায় বর্তমানে চারজন আসামি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন:

 

•কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি

•ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ

•ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম

•র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (বর্তমানে অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে)।

 

অন্যদিকে, মামলার প্রধান আসামি- ‘শেখ হাসিনাসহ ‘বাকি সাতজন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন। পলাতক অপর ছয় আসামি হলেন:

 

•সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল

•কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

•পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ

•মেজর (অব.) রুহুল আমিন

•লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমান

•প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব মাহমুদ

 

 

পলাতক আসামিদের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের পদক্ষেপ;

এর আগে গত ২৫ আগস্ট পলাতক সাত আসামিকে আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। তবে নির্ধারিত হাজিরার দিন গত ৭ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার চার আসামি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হলেও পলাতক সাত আসামি আত্মসমর্পণ করেননি। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৭ সেপ্টেম্বর পলাতক সাত আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২।

 

যেভাবে ঘটেছিল একরামুল হত্যা;

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফের কিরণতলীতে হোটেল নেটংয়ের সামনের সড়ক থেকে একরামুল হককে তুলে নেওয়া হয়। এর ঠিক এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যে—অর্থাৎ রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়া পাড়ায় মেরিন ড্রাইভের সাগরতীরে র‍্যাবের কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিনি নিহত হন।

 

নিহত একরামুল হক টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের এই বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিবার ও দেশবাসী দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন।